Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
Delhi Gymkhana Club

শতাব্দীপ্রাচীন জিমখানা ক্লাব দেশের ইতিহাসের অংশ, উচ্ছেদ রুখতে মোদিকে চিঠি ৫০ প্রাক্তন সেনাকর্তার!

দাবি-দাওয়া তুলে ধরার জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৫-২০ মিনিটের একটি বৈঠকের আবেদন করেছেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১৯:৪৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১৯:৪৪

options
link
শতাব্দীপ্রাচীন জিমখানা ক্লাব দেশের ইতিহাসের অংশ, উচ্ছেদ রুখতে মোদিকে চিঠি ৫০ প্রাক্তন সেনাকর্তার! zoom
ছবি: সংগৃহীত।
Advertisement

১১৩ বছরের পুরনো অভিজাত দিল্লির জিমখানা ক্লাবের জমি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কার্যত ঐতিহ্যশালী ক্লাবটিকে উচ্ছেদের নোটিস ধরানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হলেন ৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা, যাঁরা ক্লাবটির দীর্ঘদিনের সদস্য। চিঠি লিখে তাঁরা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক ক্লাবটি বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার প্রবীণ সেনাসদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর উপর ‘গভীর মানসিক প্রভাব’ পড়বে। অতএব, ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী যেন ইতিবাচক ব্যবস্থা নেন।

লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত দিল্লি জিমখানা ক্লাবকে গত মে মাসে নোটিস পাঠায় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীন ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট’ অফিস। যেখানে বলা হয়, ৫ জুনের মধ্যে ২৭.৩ একরের বিরাট এই জমি তুলে দিতে হবে সরকারের হাতে। নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়, রাজধানীর সংবেদনশীল এবং কৌশলগত এলাকার মধ্যে ওই ক্লাবটি রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ওই জমির প্রয়োজন রয়েছে।

Advertisement

সরকারি নোটিস মেনে আপাতত ক্লাবটি অচল হয়েছে রয়েছে। সম্প্রতি জানা গিয়েছে, এর বিরুদ্ধে গত ৮ জুলাই মোদিকে চিঠি লিখেছেন ৫০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মী। দিল্লি জিমখানা ক্লাবের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দেশের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করানো হয়েছে চিঠিতে। বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ক্লাবটি সেনা সদস্য, সরকারি কর্তা, কূটনীতিক, বিচারক, শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের একত্রিত করেছে। আরও বলা হয়েছে, এই ক্লাবটি ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যেরই একটি অংশ। এটি শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহায্যকারী। তাঁদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার জন্য অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ সেনাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৫-২০ মিনিটের একটি বৈঠকের আবেদন করেছেন।

দিল্লি জিমখানা ক্লাবের কর্মী সংখ্যা প্রায় ৭০০। তাঁদের ভবিষ্যৎ কী, জানতে চেয়েছে দিল্লি জিমখানা কর্মী অ্যাসোসিয়শন। কর্মী সংগঠনের আরও প্রশ্ন, ক্লাবটি যখন উচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মুখে রয়েছে, তখন কেন সরকার গঠিত একটি কমিটির দু’জন কর্মকর্তার মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হল? ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সম্পাদকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে শ্রমিক সংগঠনটি জানিয়েছে, ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে কর্মীরা তাঁদের চাকরির বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত। এদিকে দিল্লি হাই কোর্টে ক্লাবটিকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মামলা উঠেছে। পরবর্তী শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর।

ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব। ১৯১১ সালে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লি আনার সিদ্ধান্ত নেন রাজা পঞ্চম চার্লস। সেই সময় ব্রিটিশ আধিকারিকদের আমোদ-প্রমোদের জন্য তৈরি হয় ক্লাবটি। ১৯১৩ সালে চালু হয় জিমখানা ক্লাব। ক্লাবটির নকশা তৈরি করেছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট টি রাসেল। কমান্ডার ইন-চিফ’স রেসিডেন্সের নকশাও তাঁর হাতে তৈরি। পরে যা হয়ে ওঠে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বাসভবন।

জানা যায়, এই ক্লাবে সুইমিং পুল তৈরির জন্য ১৯৩০ সালে ২১ হাজার টাকা দিয়েছিলেন খোদ ভাইসরয়ের স্ত্রী লেডি উইলিংটন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এই ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে একে অপরকে বিদায় জানান শিখ, হিন্দু, মুসলিম বাহিনীর অফিসারেরা। অবশেষে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব নিজেদের অধীনে নিতে চলেছে ভারত সরকার।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.