যোগাভ্যাস প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি সামগ্রিক পদ্ধতি, যেখানে শরীর ও মনের সমন্বয় ঘটে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ে, মাসলগুলো নরম ও সচল থাকে, আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও উন্নত হয়। এর পাশাপাশি মানসিক শান্তি যোগাভ্যাসের অন্যতম বড় দিক।
আজকের ব্যস্ত ও চাপের জীবনে এই মানসিক ভারসাম্য খুবই প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে প্রাণায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দূষণের এই সময়ে ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে এবং শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখতে প্রাণায়াম খুব কার্যকর। ডিপ ব্রিদিং মস্তিষ্ককে শান্ত করে, টেনশন কমায় এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
আমাদের মস্তিষ্কের একটি অংশ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়- রাগ, হতাশা বা উত্তেজনায় আমরা অনেক সময় না ভেবেই কাজ করে ফেলি। আবার অন্য একটি অংশ যুক্তি দিয়ে বিচার করে, পরে অনুশোচনা হয়। এই অবস্থায় যদি আমরা কিছুক্ষণ ৮-১০ বার প্রাণায়াম করি, তা হলে মস্তিষ্কের উত্তেজিত অংশ ধীরে ধীরে শান্ত হয়, আর যুক্তিবোধ কাজ করতে শুরু করে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হয়। এটাই যোগের একটি বড় শক্তি।
অন্যদিকে, জিম মূলত শরীরের গঠন ও শক্তি বাড়ানোর জন্য। এখানে নির্দিষ্ট মাসল গ্রুপকে লক্ষ্য করে ব্যায়াম করা হয়, ফলে শরীরের সিমেট্রি তৈরি হয়, স্ট্যামিনা বাড়ে এবং সামগ্রিক ফিটনেস উন্নত হয়। যারা দেহের গঠন সুন্দর করতে চান বা শক্তি বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য জিম খুবই কার্যকর।
তবে শুধু জিম করলে অনেক সময় ফ্লেক্সিবিলিটি কমে যেতে পারে, আর শুধু যোগ করলে মাসল স্ট্রেংথ ততটা তৈরি নাও হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় যদি এই দুটোকে একসঙ্গে করা যায়। যদি কেউ জিমের পাশাপাশি প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট যোগাভ্যাস করেন, তাহলে শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি অনেক ভালো থাকে, মাসলের গুণগত মান উন্নত হয় এবং ইনজুরির ঝুঁকিও কমে। একই সঙ্গে মানসিক দিক থেকেও একটা স্থিরতা আসে, যা শুধুমাত্র জিমে পাওয়া কঠিন।

আজকের ফিজিওথেরাপির অনেক ব্যায়ামের শিকড় লুকিয়ে যোগ থেরাপিতে। একসময় বিজ্ঞান যখন এতটা এগোয়নি, তখন স্ট্রোকের পর অবশ অঙ্গে শক্তি ফেরানো থেকে শুরু করে কোমর, হাঁটু বা আর্থরাইটিসের ব্যথা কমাতে যোগই ছিল ভরসা। এখনও পেট বা ফুসফুসের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টে যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখে। সবচেয়ে বড় সুবিধা, এতে কোনও যন্ত্রপাতির দরকার হয় না- নিজের শরীর আর নিয়মিত অভ্যেসই যথেষ্ট।
সবশেষে বলা যায়, যোগ এবং জিম- দুটোই দরকার, তবে নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যালান্স করে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের শক্তি, নমনীয়তা এবং মনের শান্তি- এই তিনের সমন্বয়েই আসে প্রকৃত সুস্থতা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের