মেনোপজের পর হঠাৎ কাঁধে ব্যথা, হাত তুলতে অসুবিধা, রান্না বা জামাকাপড় পরার সময় টান লাগছে? অনেক মহিলা প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ বয়সজনিত সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, এটি হতে পারে ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’-এর লক্ষণ। আর মেনোপজের সময়ে এই সমস্যার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
ফ্রোজেন শোল্ডার বা অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে কাঁধের জয়েন্ট বা সন্ধিস্থল ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। প্রথমে হালকা ব্যথা থাকে, পরে হাত নড়াচড়া করাই কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকী চুল বাঁধা, জামাকাপড় পরা, রান্না করা বা ঘুমের সময় পাশ ফিরতেও সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হল মেনোপজের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়া। এই হরমোন শুধু প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য নয়, শরীরের সংযোগকারী টিস্যু, জয়েন্টের নমনীয়তা এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
মেনোপজের পরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে গেলে কাঁধের জয়েন্টের চারপাশের টিস্যুতে প্রদাহ বাড়তে পারে। ধীরে ধীরে সেই অংশ স্টিফ বা শক্ত হয়ে যায়। ফলে কাঁধের স্বাভাবিক নড়াচড়া সীমিত হতে শুরু করে।
কেন মেনোপজে বাড়ছে ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেনোপজের পরে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন কমে যায়। টিস্যুর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হতে থাকে। ফলে ছোটখাটো আঘাত বা টান সহজে সারতে চায় না। একই সঙ্গে জয়েন্টের স্বাভাবিক লুব্রিকেশনও কমে যায়। তাই দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব বা সামান্য স্ট্রেন থেকেও কাঁধে শক্তভাব তৈরি হতে পারে। সমস্যা হল, শুরুতে এই উপসর্গ খুব সাধারণ মনে হয়। অনেকেই ভাবেন, বয়স হচ্ছে, তাই ব্যথা করছে। আর সেই ভুলই চিকিৎসা শুরুতে দেরি করিয়ে দেয়।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা দীর্ঘদিন শরীরচর্চার অভ্যাস নেই, তাঁদের ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করা, হাতের কম ব্যবহার কাঁধের জয়েন্ট বা সন্ধিস্থলকে দ্রুত শক্ত করে দিতে পারে।
কোন লক্ষণগুলো দেখলেই সতর্ক হবেন?
- ধীরে ধীরে কাঁধে ব্যথা বাড়তে থাকা
- হাত উপরে তুলতে সমস্যা
- জামাকাপড় পরা বা চুল আঁচড়াতে অসুবিধা
- রাতে ব্যথা বাড়া
- কাঁধে টান ও শক্তভাব অনুভব করা
এই লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এর চিকিৎসা কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। প্রথম ধাপে সাধারণত ফিজিওথেরাপি, ব্যথা কমানোর ওষুধ এবং নিয়মিত স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করানো হয়।
যদি তাতেও সমস্যা না কমে, তাহলে হাইড্রোডাইলেশন নামে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে, যেখানে জয়েন্টের নড়াচড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে আর্থোস্কোপির সাহায্যে শক্ত হয়ে যাওয়া টিস্যু আলগা করার প্রয়োজনও হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, মেনোপজের পর কাঁধের ব্যথা বা শক্তভাবকে ‘সাধারণ’ ভেবে এড়িয়ে গেলে চলবে না। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে ফ্রোজেন শোল্ডার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মায়েরা সব পারেন! ৩ মাসের সন্তান কোলেই ইইউ বৈঠকে ভাষণ সুইডিশ মন্ত্রীর, ভিডিওয় মুগ্ধ দুনিয়া
-
প্রচুর রিসার্চ, তারপর রিহার্সাল করে খুন! হবু স্বামী কেতনকে হত্যা করতে নীল নকশা সিয়ার
-
জাপানের বিরুদ্ধে প্রথম দলে দেখা যাবে নেইমারকে? লাখ টাকার প্রশ্ন ব্রাজিল শিবিরে
-
বৃদ্ধ দম্পতিকে ভাড়া না দিয়েই বছরের পর বছর তৃণমূল পার্টি অফিস! সেই ঘর দখলমুক্ত বিজেপির
-
আসছে শিবের প্রিয় শ্রাবণ মাস, ভোলেবাবাকে তুষ্ট করতে অবশ্যই মেনে চলুন এই ৭ নিয়ম