শিশুদের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় পথ দেখাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলার সফল মডেল এবার জাতীয় মডেল। সেই মডেল অনুসরণ করেই রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কর্মসূচি (আরবিএসকে) ২.০-এর আওতায় দেশজুড়ে শিশুদের ডায়াবেটিস দ্রুত চিহ্নিতকরণ, চিকিৎসায় নতুন জাতীয় নির্দেশিকা কার্যকর করতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে ৯ ও ১০ জুলাই কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন এক অভিজাত হোটেলে শুরু হয়েছে দু’দিনের জাতীয় কর্মশালা। দেশের ২৯টি রাজ্যের প্রায় ১০০ জন নোডাল অফিসার এতে অংশ নিয়েছেন।
গত ৩০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা আরবিএসকে ২.০ এবং শিশুদের টাইপ-১ বা জুভেনাইল ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সংশোধিত জাতীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করেন। সেই নির্দেশিকা কীভাবে রাজ্যস্তরে কার্যকর করা হবে, কীভাবে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা যাবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়েই এই কর্মশালা।
আরও পড়ুন:
এই উদ্যোগে বাংলার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, শিশুদের টাইপ-১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য দেশের প্রথম মডেল ক্লিনিক তৈরি ও সম্প্রসারণ হয়েছিল এ রাজ্যেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর, আইপিজিএমইআর ও এসএসকেএম হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সুজয় ঘোষ এবং ইউনিসেফ পশ্চিমবঙ্গের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় গড়ে ওঠা সেই মডেলই এখন জাতীয় নির্দেশিকার ভিত্তি।
আরও পড়ুন:

২০২১ সালে অধ্যাপক ডা. সুজয় ঘোষের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু হয়। শিশুদের দ্রুত রোগ নির্ণয়, নিয়মিত ফলোআপ, বিনামূল্যে ইনসুলিন, পুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শের মতো পরিষেবা দেওয়া হয় ওই প্রকল্পে। তার সাফল্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আজ জাতীয় স্তরে এই নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সেই মডেলই এখন দেশের বাকি রাজ্যগুলির কাছে অনুসরণীয়।
বাংলার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট ডায়াবেটিস (আইএসপিএডি) এই মডেলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ছ’টিরও বেশি দেশ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে পশ্চিমবঙ্গের প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে।
কর্মশালায় উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. স্বপন সোরেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ও মিশন ডিরেক্টর আরাধনা পট্টনায়ক, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডিরেক্টর প্রীতি গোয়েল, অধ্যাপক ডা. সুজয় ঘোষ-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তা ও বিশেষজ্ঞ।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ বছরের কম বয়সি প্রায় ১১ লক্ষ শিশু ও কিশোর টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। কিন্তু রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে বহু ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি, এই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানো উচিত। আরবিএসকে ২.০-র আওতায় স্কুল, মোবাইল হেলথ টিম, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এই ধরনের উপসর্গযুক্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা হবে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় শুধু শিশুদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস নয়, কিশোর বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, বিকাশজনিত সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং অসংক্রামক রোগের বিভিন্ন ঝুঁকিরও নিয়মিত স্ক্রিনিং করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অনুমান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রায় ২৬ কোটি শিশু-কিশোর এবং তাঁদের পরিবার উপকৃত হবেন। দ্রুত রোগ নির্ণয়, প্রয়োজনে বিনামূল্যে ইনসুলিন, পুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ এবং নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুদের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পাশাপাশি সারা দেশে শিশুদের অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চন্দ্রিমার ইস্তফায় কালীঘাট শিবিরের রাজ্য সভাপতি হন মমতা নিজেই, পালটা নাম ঘোষণা ঋতপন্থী তৃণমূলের
-
গোপনে কোহলির উপর নজরদারি! বিলেতে কারা অনুসরণ করছেন ‘কিং’কে? দুশ্চিন্তায় আরসিবি সতীর্থও
-
‘ডিমথেরাপির’ ভয়ে বাড়িতেই? তৃণমূল বিধায়কের নামে ‘নিখোঁজ’ পোস্টার! চাঞ্চল্য দক্ষিণ হাওড়ায়
-
মেসিদের ম্যাচে রোনাল্ডোর দেশের রেফারি, কার্ড দেখাতে পছন্দ করেন পিনেইরো
-
ফের বৈঠক চাইছে ইরান! যুদ্ধবিরতিকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘আলোচনায় প্রস্তুত আমেরিকা’