Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Drowning Prevention Tips

রাহুলের মৃত্যু থেকে শিক্ষা, জলে ডুবে গেলে কী করবেন? সাঁতার বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ

একা জলে নামা এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে সমুদ্রে বা গভীর জলে গেলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা উচিত, আর আশেপাশে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড আছে কি না তা দেখে নেওয়া দরকার। জল আমাদের টানে, কিন্তু সেই টানেই লুকিয়ে থাকে ঝুঁকি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১৮:৪২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১৮:৪২

options
link
রাহুলের মৃত্যু থেকে শিক্ষা, জলে ডুবে গেলে কী করবেন? সাঁতার বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ zoom
মুহূর্তের ভুল ডেকে আনে বড় বিপদ। ছবি: সংগৃহীত

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু আমাদের আবার মনে করিয়ে দিল, জল কখনও শুধু আনন্দের জায়গা নয়, অজানা বিপদেরও নাম। সাঁতার না জানলে সেই বিপদ আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। একটু অসাবধানতা, এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত, আর তাতেই ঘটে যেতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি।

জলে যে কোনও বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া উদ্ধারকারী এবং সাঁতার বিশেষজ্ঞদের কথায়, জলে বা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার (Drowning Prevention Tips)পরিস্থিতি তৈরি হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আতঙ্কিত না হওয়া। ভয় পেলে শরীর শক্ত হয়ে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়, আর এতে দ্রুত শক্তি ক্ষয় হয়। তাই প্রথমেই নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। মাথা জলের উপর রাখার জন্য হাত-পা অযথা ছোড়াছুড়ি না করে ধীরে, জলের গতি অনুযায়ী নড়াচড়া করা জরুরি।

Advertisement
How to Prevent Yourself from Drowning Amid the Situation Following Rahul Banerjee’s Death
সমুদ্রে বা গভীর জলে গেলে সঙ্গে রাখুন লাইফ জ্যাকেট। ছবি: সংগৃহীত

তাঁদের কথায়, যদি আপনি সাঁতার না জানেন, তবে ভেসে থাকার চেষ্টা করুন। শরীরকে রিল্যাক্স রেখে পিঠের উপর ভাসার চেষ্টা করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়গুলোর একটি। এতে মুখ জলের উপর থাকে এবং শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। হাত দু’টো ছড়িয়ে ও পা সামান্য নড়াচড়া করলে, যা শরীর ভেসে থাকতে সাহায্য করে।

তাঁদের পরামর্শ, সমুদ্র বা নদীতে থাকলে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই না করে তার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ঢেউ এলে শরীরকে ঢেউয়ের সঙ্গে ওঠানামা করতে দিন। সরাসরি তীরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা না করে একটু আড়াআড়ি দিকে এগোলে অনেক সময় সহজে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছানো যায়। কাছাকাছি কোনও ভাসমান জিনিস দেখতে পেলে সেটি আঁকড়ে ধরুন। এমনকী ছোট কিছু হলেও সেটি আপনাকে কিছুক্ষণ ভাসতে সাহায্য করবে। এতে উদ্ধারকারী দলও কিছুটা সময় পাবে।

CPR can help prevent death from drowning
কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) ছবি: সংগৃহীত

ফুসফুসে জল ঢুকে গেলে কী করণীয়?
ডুবে যাওয়ার পর অনেক সময় জল ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, যা খুবই বিপজ্জনক। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ফুসফুস বিশেষজ্ঞদের কথায়, প্রথমেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে জল থেকে তুলে শক্ত, সমতল জায়গায় শুইয়ে দিন। যদি সে শ্বাস না নেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর)(CPR) শুরু করতে হবে, অর্থাৎ, বুকের মাঝখানে চাপ দেওয়া এবং কৃত্রিম শ্বাসের ব্য়বস্থা করা। যদি শ্বাস চলতে থাকে কিন্তু কাশি, হাঁপানি বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে তাকে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে রাখুন, যাতে মুখের জল বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, একা জলে নামা এড়িয়ে চলা। বিশেষ করে সমুদ্রে বা গভীর জলে গেলে সাঁতার জানলেও অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা উচিত, আর আশেপাশে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড আছে কি না তা দেখে নেওয়া দরকার।

জল আমাদের টানে, কিন্তু সেই টানেই লুকিয়ে থাকে ঝুঁকি। তাই সচেতনতা, সামান্য প্রস্তুতি আর সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই হতে পারে জীবনের রক্ষাকবচ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.