Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
Happy Heart Syndrome

অতি সুখেও লুকিয়ে হার্টের অসুখ! ক্রমশ বাড়ছে ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’

অতিরিক্ত আনন্দ, উত্তেজনা কিংবা চমক থেকে হতে পারে হার্টের অসুখ। বুকে চিনচিনে ব্যথার পাশাপাশি হতে পারে তীব্র শ্বাসকষ্টও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১৪:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১৪:৫৮

options
link
অতি সুখেও লুকিয়ে হার্টের অসুখ! ক্রমশ বাড়ছে ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’ zoom
অতি সুখেও হতে পারে হার্টের অসুখ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

অতি সুখী হয়ো না… ঝড়ে না পড়লেও অসুখে ‘বিলক্ষণ’ পড়ে যাবে! যে সে কথা নয়। পরীক্ষিত সত্য। চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত। ডাক্তারি শাস্ত্রই জানান দিচ্ছে, এ বুকে বেশি আনন্দ, বেশি সুখ, বেশি ‘খুশি’ কভু সয় না। আসলে ‘ইতনি খুশি’ এই হৃদয় ‘বরদাস্ত’ই করে উঠতে পারে না! অতিরিক্ত আনন্দ, উত্তেজনা কিংবা চমক থেকে হতে পারে হার্টের অসুখ। বুকে চিনচিনে ব্যথার পাশাপাশি হতে পারে তীব্র শ্বাসকষ্টও। হ্যাঁ, এ রোগের গালভরা একটি নামও আছে। ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’ (Happy Heart Syndrome)। আবার একে ‘তাকোৎসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি’ বলেও চিকিৎসকরা চেনেন। প্রথম নামেই স্পষ্ট, ব্যধির চরিত্র। বিষয়টা এমন যেন-হৃদয়-ভরা সুখ থাকলেও বিপদ! হতে পারে ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’। আবার ‘দিলখুশ’ না থাকলেও বিপদ। কেন? কারণ সেক্ষেত্রেও আক্রান্ত হতে পারে একই হৃদয়। তখন হতে পারে ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’!

এতেই শেষ নয়। আরও আছে। ধরুন, টানা কয়েক মাস নাগাড়ে কাজ করেছেন। এবার একটু ছুটি ‘চাই-ই চাই’! সেই ছুটি জোগাড়ও হয়েছে। কিন্তু এতদিন পর বেড়াতে যাওয়ার আনন্দ মন-মাঝারে এমনই দাপিয়ে বেড়াল যে, বেসামাল হয়ে আকণ্ঠ মদ্যপান করে ফেললেন! চুটিয়ে করলেন ‘পার্টি’। হুজ্জুতি। মোচ্ছব। আপনার হৃদয় কিন্তু সেই আনন্দের আতিশয্যও সহ্য করতে না-ও পারতে পারে। অজান্তেই আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন ‘হলিডে হার্ট সিনড্রোম’-এ। দেখা দিতে পারে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো জটিল সমস্যা। কিন্তু কেন? কেন হয় ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’? কিংবা ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’? আর চিরাচরিত হার্ট ফেল বা হার্ট অ্যাটাকের থেকে এগুলি কোথায় আলাদা? চিকিৎসকদের উত্তর, ‘হ্যাপি হার্ট সিন্ড্রোম’ বা ‘তাকোৎসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি’র উপসর্গ অনেকটাই হার্ট অ্যাটাকের মতো। প্রাথমিকভাবে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলেই মনে হয়। কিন্তু আদপে যেটা হয়, সেটা হল-আবেগ-অনুভূতির (ইতিবাচক বা নেতিবাচক) অতিরিক্ত স্ফুরণে শরীরের ভিতরে স্ট্রেস হরমোনগুলির ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। হৃদপিণ্ডের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে নিচের অংশ বেলুনের মতো ফুলে যায়। যদি অনুভূতি হয় খুশির, মাত্রাতিরিক্ত আনন্দের (যেমন প্রিয়জনের বিয়ে বা কেরিয়ারগত সাফল্যের খবরে) তাহলে দেখা দিতে পারে ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’।

Advertisement

আর যদি আবেগ জন্মায় কোনও দুঃখের খবরে বা মন ভেঙে গেলে, তাহলে হতে পারে ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সাধারণভাবে বিশ্বে মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ মানুষের ‘তাকোৎসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি’ হতে পারে। যদিও প্রাথমিকভাবে তাঁরা তা হার্ট অ্যাটাক ভেবে ভুল করেন। সম্প্রতি এমনই কিছু ঘটেছিল ব্রিটেনের ৬৫ বছর বয়সি এক মহিলার ক্ষেত্রে। মেয়ের বিয়ে ছিল তাঁর। খুব আনন্দ করে, মহাসমারোহে সেই বিয়ে-পর্ব উদযাপন করেন তিনি। কিন্তু তিন দিন পরই বিপত্তি। বুকে ব্যথা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট। হার্ট অ্যাটাক ভেবে তড়িঘড়ি পৌঁছন চিকিৎসকের কাছে। ডাক্তাররাও তাঁকে নিয়ে যান এমার্জেন্সি দপ্তরে। কিন্তু পরীক্ষায় কোনও ‘আর্টারি ব্লক’ পাওয়াই যায়নি তাঁর। উল্টে দেখা যায়, হার্টের বাম ভেন্ট্রিকল ফুলতে ফুলতে বেলুনের মতো আকার ধারণ করেছে। তাই হার্টের রক্ত পাম্প করতে সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসকরা তখন ওই মহিলাকে জানান, তিনি ‘হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। এই ঘটনার সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে অক্সফোর্ড মেডিক্যাল কেস রিপোর্টসের প্রকাশিত সমীক্ষা রিপোর্টে। সব সময় ‘লাফটার ইজ নট দ্য বেস্ট মেডিসিন’।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.