গর্ভাবস্থায় পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি প্রতিটি নারীই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি যত্ন নেন। পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা- সবই থাকে অগ্রাধিকার তালিকায়। তবুও কিছু সংক্রমণ রয়েছে, যেগুলো শরীরে ঢুকে বসে থাকলেও জ্বর, ব্যথা বা অসুস্থতার বিন্দুমাত্র লক্ষণ দেখা দেয় না। কিন্তু সেগুলো নীরবে গর্ভস্থ সন্তানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নীরব সংক্রমণ কী?
যে সংক্রমণে স্পষ্ট বা নির্দিষ্ট কোনও উপসর্গ থাকে না, তাকে অ্যাসিম্পটোম্যাটিক বা নীরব সংক্রমণ বলা হয়। মা সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করলেও এই সংক্রমণ ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। তাই অ্যান্টিনেটাল চেক-আপ কেবল নিয়মরক্ষার বিষয় নয়, বরং মা ও শিশুর সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন:

সিএমভি: সাধারণ কিন্তু ভয়ংকর
সাইটোমেগালো ভাইরাস বা সিএমভি খুবই সাধারণ একটি ভাইরাস। অনেকেই জীবনের কোনও না কোনও সময়ে এতে আক্রান্ত হন। গর্ভাবস্থায় সাধারণত তেমন উপসর্গ দেখা দেয় না। কিন্তু ভাইরাসটি যদি ভ্রূণের শরীরে পৌঁছায়, তাহলে কনজেনিটাল বা জন্মগত সিএমভি হতে পারে। এর ফলে শিশুর শ্রবণশক্তি হ্রাস, বিকাশে বিলম্ব, দৃষ্টিজনিত সমস্যা বা স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
টক্সোপ্লাজমোসিস ও রুবেলা: মায়ের জন্য কম ঝুঁকির হলেও শিশুর জন্য বিপজ্জনক
টক্সোপ্লাজমোসিস সাধারণত কম সেদ্ধ মাংস খাওয়া, নোংরা মাটি স্পর্শ বা বিড়ালের মল পরিষ্কারের সময় শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় এতে মায়ের তেমন কোনও উপসর্গ থাকে না। কিন্তু গর্ভাবস্থার পর্যায়ভেদে এটি গর্ভপাত, শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি বা চোখের সমস্যার কারণ হতে পারে। রুবেলা বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ঝুঁকিপূর্ণ। মায়ের ক্ষেত্রে সংক্রমণ খুবই মৃদু হতে পারে। কিন্তু প্রথম ট্রাইমেস্টারে আক্রান্ত হলে শিশুর জন্মগত হৃদরোগ, শ্রবণশক্তি হ্রাস বা দৃষ্টিজনিত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। গর্ভধারণের আগে টিকাকরণ এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আরও কিছু সংক্রমণ
হেপাটাইটিস বি, এইচআইভি, সিফিলিস এবং গ্রুপ বি স্ট্রেপটোকক্কাস অনেক সময় উপসর্গ ছাড়াই থাকে। তবে এগুলি গর্ভাবস্থা বা প্রসবের সময় শিশুর শরীরে সংক্রমিত হয়ে গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।
কেন নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি
গর্ভাবস্থায় শরীরে কোনও সমস্যা অনুভব না করলেও সংক্রমণ বাসা বাধতে পারে। নিয়মিত রক্তপরীক্ষা ও স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এগুলি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। সচেতনতা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, পরিচ্ছন্নতা, টিকাকরণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা-পরামর্শ- এই কয়েকটি পদক্ষেপই সুস্থ গর্ভাবস্থার ভিত্তি। সুস্থ অনুভব করলেই সব ঠিক আছে, এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও সতর্কতাই মা ও শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্রিটিশের গুলির সামনেও অকুতোভয়, মাতঙ্গিনী হাজরার বাড়িকে হেরিটেজ স্বীকৃতির আবেদন
-
শিক্ষামন্ত্রী, রেশনমন্ত্রীরা জেলে! দুর্নীতিগ্রস্থ সিস্টেমকে খোঁচা দিয়ে প্রকাশ্যে ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’র টিজার
-
বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডে বেনজির বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান
-
বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং, ১ কোটি তরুণকে এআই প্রশিক্ষণ! জেন জি-র পাশে মোদি
-
সলমনের ‘বিগ বস’-এ ফেরার ললিত মোদি! সুস্মিতার ‘প্রাক্তন’কে নিয়ে জল্পনা