Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Swara Bhasker

ডেঙ্গুতে হাসপাতালে স্বরা ভাস্কর, জ্বর কমার পরেই কেন বাড়ে বিপদ? কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই জ্বরের পাশাপাশি শরীরে দেখা দেওয়া অন্য পরিবর্তনগুলিও নজরে রাখা জরুরি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২৬, ২০:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২৬, ২০:৪০

options
link
ডেঙ্গুতে হাসপাতালে স্বরা ভাস্কর, জ্বর কমার পরেই কেন বাড়ে বিপদ? কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন zoom
স্বরা ভাস্কর। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

ডেঙ্গু মানেই শুধু জ্বর, গা-হাত-পা ব্যথা আর দুর্বলতা নয়। কখনও কখনও জ্বর কমার পরেই আচমকা বদলে যেতে পারে রোগীর শারীরিক অবস্থা। অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর ফের মনে করিয়ে দিল, এই ভাইরাসকে হালকা ভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

হাসপাতালের শয্যা থেকেই নিজের অসুস্থতার খবর দিয়েছেন স্বরা। সমাজমাধ্যমে হাসপাতালের বিছানায় একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “Well that escalated fast. Dengue-fied and hospitalised!” অর্থাৎ, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

Advertisement

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই জ্বরের পাশাপাশি শরীরে দেখা দেওয়া অন্য পরিবর্তনগুলিও নজরে রাখা জরুরি।

swara bhasker dengue hospitalised warning signs
স্বরা ভাস্কর। ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর শুরুটা কেমন?
এডিস মশার কামড়ে ছড়ায় ডেঙ্গু ভাইরাস। সংক্রমণের কয়েক দিন পর হঠাৎ জ্বর আসতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, ত্বকে র‌্যাশ এবং প্রবল দুর্বলতা।

প্রথম দিকে ডেঙ্গুর উপসর্গ অন্যান্য ভাইরাসজনিত জ্বরের মতো হওয়ায় রোগ চেনা কঠিন হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা জরুরি।

জ্বর কমেছে, তবু বিপদ?
হ্যাঁ, এখানেই ডেঙ্গুর বড় সমস্যা। জ্বর কমতে শুরু করলেই যে রোগী বিপদমুক্ত, তা নয়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এই সময়েই গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তীব্র পেটব্যথা, বার বার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট এবং আচমকা প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়া, এগুলি বিপদের সংকেত। এমন কোনও লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

swara bhasker dengue hospitalised warning signs
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বরা। ছবি: সংগৃহীত

প্লেটলেট কমলেই কি বিপদ?
ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমে যাওয়া সাধারণ ঘটনা। তাই রক্ত পরীক্ষা করে প্লেটলেটের মাত্রা দেখা হয়। কিন্তু শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দিয়েই রোগের ভয়াবহতা বিচার করা যায় না।

রোগীর সামগ্রিক অবস্থা, রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না, শরীরে তরলের ভারসাম্য, রক্তের অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা, সবকিছু বিবেচনা করেই চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা কী?
ডেঙ্গু সারানোর নির্দিষ্ট কোনও ভাইরাসনাশক ওষুধ নেই। পর্যাপ্ত তরল, বিশ্রাম, জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণই মূল চিকিৎসা। কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। 

ডেঙ্গু হলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, কারণ এগুলি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

swara bhasker dengue hospitalised warning signs
জল জমতে দিলেই বিপদ। ছবি: সংগৃহীত

মশা আটকান, ডেঙ্গুর বিপদ এড়ান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি হল এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। বাড়ি ও আশপাশে জল জমতে দেওয়া যাবে না। জল রাখার পাত্র ঢেকে রাখতে হবে। মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরাও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

স্বরা ভাস্করের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা তাই আরও এক বার মনে করিয়ে দিল, ডেঙ্গুতে শুধু জ্বরের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। জ্বর কমার পরেও যদি শরীরে নতুন কোনও সতর্কসংকেত দেখা দেয়, তখনই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.