অভিনেতা সোহেল খানের সাম্প্রতিক চেহারায় চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। আচমকা ওজন কমার ফলে মুখের মেদ কমে কীভাবে বদলে যেতে পারে মুখের গড়ন, গাল ও ত্বকের ভরাট ভাব?
এক রিয়্যালিটি শোয়ে সোহেল খানের (Sohail Khan) সাম্প্রতিক উপস্থিতি ঘিরে তাঁর চেহারা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। মুখের গড়নে আমূল পরিবর্তন দেখে কেউ কেউ ‘ওজেম্পিক ফেস’-এর প্রসঙ্গও তুলেছেন। তবে সোহেল জানিয়েছেন, পেটের সংক্রমণের কারণে আচমকা ওজন কমে যাওয়াই তাঁর মুখের এই পরিবর্তনের কারণ।
আরও পড়ুন:
দ্রুত ওজন কমলে শরীরের অন্যান্য অংশের মতো মুখ থেকেও চর্বি কমতে পারে। আর মুখের চর্বি কমে গেলে বদলে যেতে পারে মুখের স্বাভাবিক গড়ন, গালের ভরাট ভাব এমনকী ত্বকের টানটান ভাবও।
আরও পড়ুন:

ওজন কমলে মুখ বদলায় কেন?
মুখের বিভিন্ন অংশে নির্দিষ্ট পরিমাণে চর্বি জমা থাকে। গাল, কপালের দু’পাশের টেম্পল এবং চোয়ালের আশপাশের চর্বি মুখের আকৃতি ও ভরাট ভাব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের ওজন কমতে শুরু করলে এই অংশগুলির চর্বিও কমতে পারে।
বিশেষ করে দ্রুত এবং বেশি ওজন কমলে মুখের পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডার্মাটোলজিক সার্জারি জার্নাল-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মুখের চর্বি কমলে মাঝের অংশ কিছুটা চ্যাপ্টা দেখাতে পারে, গাল বসে যেতে পারে, টেম্পলে ফোলাভাব তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মুখের ভাঁজ ও বলিরেখাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
ফেসিয়াল ভলিউম লস কী?
ত্বকের নীচে থাকা চর্বির স্তর মুখের বিভিন্ন অংশকে ভরাট রাখে। এগুলিকে ফ্যাট প্যাড বলা হয়। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই ফ্যাট প্যাডের আকার ছোট হয়ে গেলে মুখের স্বাভাবিক ভরাট ভাব কমে যায়। একেই বলা হয় ‘ফেসিয়াল ভলিউম লস’।
সাধারণত টেম্পল, চোখের নীচে, গাল এবং মুখের চারপাশে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। ফলে গাল বসে যাওয়া, চোখের নীচে ফোলাভাব বা মুখের গড়ন আগের তুলনায় বেশি ধারালো দেখাতে পারে।

দ্রুত ওজন কমলে মনে হয় বয়স যেন অনেকটাই বেড়ে গেল!
দ্রুত ওজন কমার ফলে মুখের ভরাট ভাব কমে যায়। কিন্তু চর্বি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক সবসময় একই গতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ঢিলে দেখাতে পারে এবং আগে থেকে থাকা বলিরেখা ও মুখের ভাঁজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের টানটান ভাব স্বাভাবিকভাবেই কমে। তাই বয়স, ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া এবং দ্রুত ওজন কমার প্রভাব একসঙ্গে কাজ করলে মুখের পরিবর্তন আরও বেশি চোখে পড়তে পারে।
‘ওজেম্পিক ফেস’ আসলে কী?
দ্রুত ওজন কমার ফলে মুখের চর্বি কমে গাল বসে যাওয়া, চোখের নীচে ফোলাভাব বা ত্বক কিছুটা ঢিলে হয়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনকে বলা হয় ‘ওজেম্পিক ফেস’।
তবে এই পরিবর্তন শুধু ওজেম্পিক ব্যবহারের কারণে হয় না। অসুস্থতা, পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি কম খাওয়া বা ডায়েটের কারণেও দ্রুত ওজন কমলে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই মুখের গড়ন বদলেছে দেখেই কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।

কতটা ওজন কমলে মুখে বদল আসে?
দ্য অ্যাস্থেটিক সার্জারি জার্নাল-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৫-১০ শতাংশ কমলেও কিছু মানুষের মুখের গড়নে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ওজন ১০-১৫ শতাংশ কমলে সেই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হতে পারে।
তবে সবার ক্ষেত্রে একই ছবি দেখা যায় না। ওজন, বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা, ওজন কমার গতি এবং মুখের কোন অংশে কতটা চর্বি জমা রয়েছে, তার উপর পরিবর্তনের মাত্রা নির্ভর করে।
কী কী পরিবর্তন চোখে পড়ে?
আগের ছবি ও বর্তমান চেহারার তুলনা করলে ওজন কমার প্রভাব কিছুটা বোঝা যায়। যেমন গাল সরু হয়ে যাওয়া, চোয়ালের রেখা আরও স্পষ্ট হওয়া, গালের হাড় বেশি দৃশ্যমান হওয়া, চোখের নীচে ফোলাভাব এবং মুখের ত্বক কিছুটা ঢিলে হয়ে যাওয়া।

মুখের ভরাট ভাব ধরে রাখবেন কীভাবে?
ওজন কমানোর সময় মুখের চর্বি সম্পূর্ণভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তবে দ্রুত ওজন কমার ফলে মুখের গড়নে অতিরিক্ত পরিবর্তন এড়াতে ধীরে ওজন কমানো জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন খাওয়া, রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং করা, পর্যাপ্ত জল পান এবং নিয়মিত ঘুমের দিকেও নজর দিতে হবে।
ওজন কমানোর সময় পেশির পরিমাণ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু খাবার কমিয়ে দ্রুত ওজন কমানোর বদলে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ধীরে ওজন কমানোই বেশি স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্তের উন্মোচন! কৃত্রিম সূর্য তৈরির দোরগোড়ায় ভারত
-
রাম, হুইস্কি এবং ভদকার অ্যালকোহল আসলে একই! তাহলে তফাত গড়ে দেয় কোনটা
-
পুজোয় ৬০ হাজার মণ্ডপে জ্বলবে আলো, নিখরচায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের
-
এবার বামেদের উদ্যোগ হলদিয়ায় বিশ্বকর্মা পুজো! হাই কোর্ট থেকে অনুমতি আদায় সিটুর
-
সুন্দরী অ্যাসিস্ট্যান্টের ঠোঁটে ঠোঁট, পরকীয়ায় মজে ট্রাম্প? ভাইরাল ছবিতে তুঙ্গে জল্পনা