দেখে মনে হবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অথচ তিনি ক্রমাগত নিজের যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে চলেছেন। আবার কখনও কখনও ঘুমঘোরেই স্বমেহনও করছেন। তার ফলে শুধু যে নিজে অপ্রস্তুতে পড়ছেন তা নয়। আপনার সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনী বিব্রত হতে পারেন। তাই এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘুমের ঘোরে এমন অদ্ভুত আচরণ চিকিৎসা পরিভাষায় এই ধরনের সমস্যা ‘সেক্সসমনিয়া’ (Sexsomnia) নামে পরিচিত। যাঁরা এই ধরনের সমস্য়ায় ভোগেন তাঁরা ঘুমঘোরে ঘন ঘন যৌনাঙ্গ স্পর্শ করেন। আবার কখনও কখনও স্বমেহন শুরু করে দেন। একই বিছানায় থাকা সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌনতায় মেতে ওঠার চেষ্টাও করেন। ‘স্লিপ সায়েন্স’ জার্নালে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ২০২১ সালের একটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি লেখা হয়। মহিলা, পুরুষ উভয়েই এই সমস্যায় ভুগতে পারেন।
আরও পড়ুন:
‘সেক্সসমনিয়া’র কারণ:
অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে অবসাদের জন্ম হয়। তার ফলে স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে অনেকের। এই ধরনের মানুষেরাই মূলত ‘সেক্সসমনিয়া’য় ভোগেন। এই সমস্যায় ভুগতে থাকা বহু পুরুষের ‘সেক্সসমনিয়া’র ফলে বীর্যপাতও হয়। মহিলারাও চরমসুখ পান।
‘সেক্সসমনিয়া’র উপসর্গ:
- ঘুমের মধ্যে ঘন ঘন যৌনাঙ্গ স্পর্শ
- স্বমেহন
- ঘুমের ঘোরে পাশে থাকা সঙ্গী বা সঙ্গিনীর গোপনাঙ্গে হাত
- প্রায় জোর করে যৌনতায় মেতে ওঠার চেষ্টা

কেন ‘সেক্সসমনিয়া’র প্রবণতা বাড়ে:
- ঘুম কম হওয়া
- অবসাদ
- ঘুমের সময় কিংবা জায়গা পরিবর্তন
- স্লিপ অ্যাপনিয়া
- যৌন হেনস্তার শিকার হওয়া
- মদ্যপান
- অত্যন্ত নেশা করা
- মস্তিষ্কের সমস্যা
কী করণীয়:
- সমস্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
- মানসিক দুশ্চিন্তা কমাতে ধ্যান কিংবা যোগচর্চা করতে পারেন।
- কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমনোর চেষ্টা করুন।
- ঘুমোতে যাওয়ার আগে যৌন সুড়সুড়ি দেওয়া সিনেমা বা সিরিজ না দেখা।

সঙ্গী বা সঙ্গিনী ‘সেক্সসমনিয়া’য় ভুগলে কী করবেন?
- সঙ্গীকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। তাকে হেনস্তা না করে সাহস জোগান।
- বহুক্ষেত্রেই দেখা যায় সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনী নিজের এই সমস্যার কথা মানতে চান না। প্রয়োজন মোবাইলে রেকর্ড করে তাঁকে দেখান।
- তবে কোনওভাবেই আপনার ঘরের কথা বাইরের কেউ যেন জানতে না পারেন। তাতে সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনী লজ্জিত হতে পারেন।
- সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনী খুব উত্তেজিত হয়ে পড়লে অন্য ঘরে থাকার বন্দোবস্ত করুন।
- ঘুমের ঘোরে যৌনাচারের ফলে যাতে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের মতো সমস্যা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
কোনও কিছুতেই কাজ না হলে সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। নিয়মিত থেরাপিতে সমস্যা মুক্তি সম্ভব। তাই সবসময় তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সাত বছরের অপেক্ষার অবসান, বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে ফের সাফ মহিলা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ভারত
-
তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়ে কন্ডোম, গুদাম থেকে মিলল প্রচুর ত্রাণ! চাঞ্চল্য খণ্ডঘোষে
-
‘সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে আবার হাওয়া বদল!’ রুদ্রনীলকে পাশে নিয়ে আর কী বললেন পরমব্রত?
-
‘মাওবাদী মুক্ত’ ছত্তিশগড়ে পুরভোটে এগিয়ে বিজেপি, সমান টক্কর দিয়ে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত কংগ্রেসেরও
-
মাদ্রাসার আড়ালে বেআইনি কার্যকলাপ নয় তো? খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে জেলাশাসকদের ‘ডেডলাইন’ নবান্নের