ভালোবাসার সম্পর্ক ভাঙতে পারে। কখনও মতের অমিল, কখনও অবিশ্বাস, আবার কখনও অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ— বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে অনেক। কিন্তু সম্পর্ক শেষ করার পরিবর্তে কেন কিছু মানুষ হত্যার মতো ভয়াবহ পথ বেছে নেন? কী এমন ঘটে, যা একজন মানুষকে যুক্তির সীমা পেরিয়ে চরম নৃশংসতার দিকে ঠেলে দেয়?
পুনের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত ঘিরে এই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, ট্রেকিংয়ের সময় কেতনকে লোহাগড় দুর্গের খাদে ফেলে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবু এই ঘটনা সম্পর্ক, আবেগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জটিল দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। সাধারণভাবে এমন অপরাধের পেছনে কী ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া কাজ করে?
আরও পড়ুন:
একক কোনও মানসিক রোগ নয়
মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, এমন চরম অপরাধের পেছনে সাধারণত একটি মাত্র কারণ কাজ করে না। বিকৃত চিন্তাভাবনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং ব্যক্তিত্বের কিছু অস্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে একজন মানুষকে নৃশংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। অনেক সময় কিছু মানুষ সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক বন্ধন’-এর বদলে ‘মালিকানার সম্পর্ক’ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। তাঁদের কাছে সঙ্গী যেন একজন স্বাধীন ব্যক্তি নন, বরং নিজের নিয়ন্ত্রণের অংশ। ফলে বিচ্ছেদ বা প্রত্যাখ্যানকে তাঁরা সম্পর্কের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে নয়, নিজের অস্তিত্ব ও আত্মসম্মানের উপর আঘাত হিসেবে অনুভব করেন।
আরও পড়ুন:

আবেগ যখন যুক্তিকে হার মানায়
প্রবল ঈর্ষা, পরিত্যক্ত হওয়ার ভয়, অপমানবোধ বা বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি অনেক সময় মানুষের স্বাভাবিক বিচারবোধকে দুর্বল করে দেয়। এর সঙ্গে যদি রাগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বা ‘সব নয়তো কিছুই নয়’ ধরনের মানসিকতা যুক্ত হয়, তাহলে কিছু মানুষের কাছে সহিংসতাই ভুলভাবে সমস্যার সমাধান বলে মনে হতে পারে। বিশেষজ্ঞের কথায়, এটি কোনও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নয়; বরং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভয়াবহ ভেঙে পড়ার ফল।
মানসিক অসুস্থতা মানেই সহিংসতা নয়
মানসিক রোগ এবং সহিংসতাকে এক করে দেখা উচিত নয়। অধিকাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কখনওই সহিংস হয়ে ওঠেন না। বরং অতীতের অভিজ্ঞতা, পারিবারিক পরিবেশ, মাদকাসক্তি, পরিস্থিতিগত চাপ এবং ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য— সব মিলিয়েই হিংস্র আচরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কে কিছু আচরণকে কখনওই ‘ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ’ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। যেমন—
- অতিরিক্ত অধিকারবোধ বা মালিকানার মনোভাব
- সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা
- বারবার হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানো
- ব্যক্তিগত সীমারেখা মানতে অস্বীকার করা
- বিচ্ছেদ বা প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পারা
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মান, বিশ্বাস এবং স্বাধীনতা। সম্পর্ক শেষ হতে পারে, কিন্তু সেই সমাপ্তি কখনওই সহিংসতার কারণ হতে পারে না। আবেগ যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন সাহায্য চাওয়াই সবচেয়ে পরিণত সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অস্তিত্ব সংকটে জয়ললিতার দল! ২ মাসে ইস্তফা ছয় বিধায়কের, নেপথ্যে কোন সমীকরণ?
-
সম্পর্কে পরিবারের বাধা! বেঙ্গালুরুর হোমস্টের ভিতরে উদ্ধার তরুণীর দেহ, অচেতন প্রেমিক
-
সাফল্যের গল্প নিয়ে এনটিসিএ-কে চিঠি, আসছে আরও জোড়া বাঘিনী
-
বান্দ্রায় সমুদ্রমুখী ‘প্রাসাদ’ তৈরি করছেন সলমন! ছাড়পত্র প্রশাসনের, শাহরুখের প্রতিবেশী হচ্ছেন?
-
সেশেলসে সনাতন ধর্মের জয়গান! একমাত্র হিন্দু মন্দিরে পুজো দিলেন প্রধানমন্ত্রী