গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্যচর্চার আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি হল ‘গাট হেলথ’। প্রোবায়োটিক, গাট-ফ্রেন্ডলি ডায়েট বা মাইক্রোবায়োম, এসব শব্দ এখন আর শুধু চিকিৎসকদের চেম্বারে সীমাবদ্ধ নয়; সোশাল মিডিয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যআলোচনারও অংশ। কিন্তু তথ্যের এই সহজলভ্যতার মধ্যেই জন্ম নিয়েছে নানা ভুল ধারণা, যা অনেক সময় উপকারের বদলে বিভ্রান্তিই বাড়ায়।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞানসম্মত তথ্য জানা আরও বেশি জরুরি। কারণ গাট মাইক্রোবায়োমের জগৎ যত বিস্ময়কর, ততটাই জটিল।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
মিথ ১
প্রোবায়োটিক সবার জন্য সমান উপকারী
বাজারে প্রোবায়োটিককে অনেক সময় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এটি হজমের সব সমস্যার একমাত্র সমাধান। বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এত সরল নয়। প্রত্যেক মানুষের অন্ত্রে থাকা লক্ষ-কোটি অণুজীবের গঠন একেবারেই আলাদা। তাই একটি নির্দিষ্ট প্রোবায়োটিক সবার জন্য সমান কার্যকর হতে পারে না। একজনের জন্য যা উপকারী, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা কোনও সুফল নাও দিতে পারে। তাই প্রয়োজন বুঝে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই প্রোবায়োটিক গ্রহণ করা উচিত।
মিথ ২
সব হজমের সমস্যার জন্য দায়ী খাদ্যাভ্যাস
খাদ্য অবশ্যই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের অন্যতম নিয়ামক, কিন্তু সেটিই একমাত্র কারণ নয়। দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অনিয়মিত জীবনযাপন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু ওষুধও অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। তাই শুধু খাবারের তালিকা পরিবর্তন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

মিথ ৩
কোনও উপসর্গ নেই মানেই অন্ত্র সুস্থ
অনেকেই মনে করেন, পেটে ব্যথা, গ্যাস বা অস্বস্তি না থাকলে অন্ত্রও সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু গবেষণা বলছে, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে ভারসাম্যহীনতা অনেক সময় দীর্ঘদিন নীরবেই তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, লক্ষণ প্রকাশের আগেই শরীরের ভেতরে পরিবর্তন শুরু হয়ে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ নয়, সুস্থ জীবনযাপনও গাট হেলথের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
মিথ ৪
সব ব্যাকটেরিয়াই ক্ষতিকর
ব্যাকটেরিয়া মানেই রোগ, এই ধারণা বহুদিনের। অথচ মানুষের শরীরে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, বিশেষ করে অন্ত্রে। এই অণুজীবগুলো খাবার হজমে সহায়তা করে, পুষ্টি শোষণ সহজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করা নয়, বরং উপকারী জীবাণুগুলোর স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখা।

মিথ ৫
গাট মাইক্রোবায়োম মানেই শুধু ব্যাকটেরিয়া
গাট মাইক্রোবায়োম কেবল ব্যাকটেরিয়ার সমষ্টি নয়। আমাদের অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি ছত্রাক, ভাইরাস এবং আরও নানা ধরনের অণুজীব সহাবস্থানে থাকে। এই ক্ষুদ্র জীবজগতের প্রতিটি সদস্য একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। তাদের এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট হলে শুধু হজম নয়, শরীরের সামগ্রিক সুস্থতাও প্রভাবিত হতে পারে।
কাটুক বিভ্রান্তির মেঘ
অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা প্রতিদিনই নতুন তথ্য তুলে আনছে। তাই প্রচলিত বিশ্বাস, বিজ্ঞাপন বা সোশাল মিডিয়ার পরামর্শের উপর নির্ভর না করে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে, সুস্থ অন্ত্রের জন্য কোনও একক জাদুকরি সমাধান নেই। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শই হতে পারে সুস্থ গাটের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জামিন মিলল না, হাজতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন ও উজ্জ্বল বিশ্বাস!
-
পুলিশের কাজে বাধা! এবার অপরূপার বিরুদ্ধে মামলা, মঙ্গলেই যেতে হবে থানায়
-
‘এই ভূখণ্ড পাকিস্তানের নয়, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করব’, শাহবাজের বুক কাঁপিয়ে হুঁশিয়ারি পিওকে-বাসীর
-
চুরিতে সাহায্য! রাম মন্দির কাণ্ডে এবার নজরে ব্যাঙ্কও, কতটা গভীরে শিকড়?
-
‘পরের বিশ্বকাপে চেষ্টা করবেন,’ ব্রাজিল শেষ ষোলোয় উঠতেই পোস্ট নেইমারের, কাঁকে বিঁধলেন?