একসময় ওজন ছিল ১৩৫ কেজি। এখন তা নেমে এসেছে ৮৯ কেজিতে। অর্থাৎ, প্রায় ৪৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়করি (Nitin Gadkari)। কিন্তু কোনও চটজলদি ডায়েট বা ‘ম্যাজিক’ পদ্ধতির কথা বলেননি তিনি। বরং কোভিডের পর বদলে ফেলেছেন নিজের জীবনযাপনের ধরন। শরীরচর্চাকে করেছেন প্রতিদিনের রুটিনের অপরিহার্য অংশ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গড়করি জানান, এখন যত ব্যস্ততাই থাকুক, শরীরচর্চার জন্য সময় বের করেন তিনি। এমনকী রাত পর্যন্ত কাজ করার পরও সকাল ৭টায় উঠে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করেন।
আরও পড়ুন:
কোভিডই বদলে দিয়েছিল ভাবনা
গড়করির জীবনে কোভিড অতিমারি শুধু একটি কঠিন সময় হয়ে আসেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর ভাবনাও অনেকটাই বদলে দিয়েছিল। সেই সময়ে কাছের কয়েকজন বন্ধুকে হারিয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের দিকে নতুন করে নজর দিতে বাধ্য করে।
আরও পড়ুন:
তাঁর কথায়, আগে জীবনযাপন ছিল অনেকটাই ‘অনিয়ন্ত্রিত’ এবং ‘অপরিকল্পিত’। কিন্তু অতিমারির অভিজ্ঞতার পর বুঝতে পারেন, কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়াটাও জরুরি।

১৩৫ থেকে ৮৯!
গড়করির কথায়, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসে। শরীরচর্চা এখন তাঁর কাছে আলাদা করে সময় পেলে করার বিষয় নয়। বরং প্রতিদিনের কাজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। সকাল ৭টায় উঠে প্রায় আড়াই ঘণ্টা শরীরচর্চা করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘একসময় আমার ওজন ১৩৫ কেজি ছিল। এখন ৮৯ কেজি।’
এই পরিবর্তনকে তিনি শুধুমাত্র ওজন কমানোর সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। বরং স্বাস্থ্যকে জীবনের অন্যতম অগ্রাধিকার করে তোলার ফল হিসেবেই দেখছেন।
‘ব্যায়াম’ যখন রুটিন, তখনই আসে বদল
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় কঠিন ডায়েট বা হঠাৎ অতিরিক্ত শরীরচর্চা শুরু করেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর সেই অভ্যাস ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। গড়করির অভিজ্ঞতায় বরং নিয়মিত অভ্য়াস বজায় রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একদিন বেশি ব্যায়াম করার চেয়ে প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শরীরচর্চা করা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। আর ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

শুধু ব্যায়াম নয়, খাবার-ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ
গড়করি তাঁর ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শরীরচর্চার কথা বিশেষভাবে বলেছেন। তবে বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি ওজন নিয়ন্ত্রণ শুধু ব্যায়ামের উপর নির্ভর করে না। খাবারের ধরন ও পরিমাণ, ঘুম, মানসিক চাপ, দৈনন্দিন চলাফেরা, বয়স, শারীরিক সমস্যা এবং কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ—সবই ওজনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কারও ব্যক্তিগত ওজন কমানোর রুটিন অন্যের জন্য একই ফল দেবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন শরীরচর্চা না করা কেউ যদি হঠাৎ করে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ব্যায়াম শুরু করেন, তা শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে। নিজের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে শরীরচর্চার মাত্রা বাড়ানোই ভালো। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।

৪৬ কেজি ওজন কমানো, কী শেখালো?
গড়করির গল্পের আকর্ষণ শুধু ৪৬ কেজি ওজন কমানোর সংখ্যায় নয়। বরং কীভাবে তিনি নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরন বদলেছেন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোভিডের কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিল, স্বাস্থ্যকে অবহেলা করে ব্যস্ত জীবন চালিয়ে যাওয়া যায় না। সেই উপলব্ধি থেকেই শরীরচর্চা তাঁর জীবনে জায়গা করে নেয়।
১৩৫ কেজি থেকে ৮৯ কেজি, এই যাত্রা তাই তাঁর কাছে শুধুই ওজন কমানোর গল্প নয়। এটি নিজের জীবনযাপনকে নতুন করে সাজানোর গল্প। আর এখানেই তাঁর অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় শিক্ষা, ওজন কমানোর জন্য কোনও ‘ম্যাজিক’ খোঁজার চেয়ে, দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায় এমন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এলাচের নামে ‘নিষিদ্ধ’ পান মশলার বিজ্ঞাপন! আইনি নোটিস শাহরুখ-অজয়-টাইগারকে
-
বিমানবন্দরে চেকিংয়ের সময় যাত্রীর বন্দুক থেকে গুলি! আহত শিশু-সহ চার, চাঞ্চল্য বারাণসীতে
-
হাসিনাকে ঢাকার হাতে প্রত্যর্পণ? সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালতই, দু’দেশের আলোচনা তুঙ্গে
-
নদিয়ায় কংগ্রেস কর্মী ও ছেলে খুনে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতার স্ত্রী! রাজ্যে কালা দিবসের ডাক শুভঙ্করদের
-
‘বাড়ির দখল নিতে চাইছে’, ভাটপাড়ায় ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি দুষ্কৃতীদের