Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Blue Baby Syndrome

নবজাতকের ঠোঁট-ত্বক নীলচে? অভিভাবকরা চিনে রাখুন ব্লু বেবি সিনড্রোমের সংকেত

ব্লু বেবি সিনড্রোম শুনতে ভয়ানক লাগলেও, সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপই এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানুন, সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করুন। কারণ আপনার সচেতনতাই আপনার সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩, ২০২৬, ২০:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৩, ২০২৬, ২০:৩৭

options
link
নবজাতকের ঠোঁট-ত্বক নীলচে? অভিভাবকরা চিনে রাখুন ব্লু বেবি সিনড্রোমের সংকেত zoom
ব্লু বেবি সিনড্রোম। ছবি: প্রতীকী

নবজাতকের জন্মের মুহূর্ত যেন এক অপার আনন্দের সময়। শিশুর প্রথম কান্না, প্রথম নড়াচড়া- সবই নতুন জীবনের সূচনা। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই যদি হঠাৎ চোখে পড়ে শিশুর ঠোঁট বা ত্বক নীলচে হয়ে আছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়। এই নীলচে আভাই হতে পারে ‘ব্লু বেবি সিনড্রোম’-এর ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থার লক্ষণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময়মতো চিকিৎসা না হলে জটিলতা বাড়তে পারে।

newborn blue baby syndrome warning signs early detection
ব্লু বেবি সিনড্রোম। ছবি: প্রতীকী

ব্লু বেবি সিনড্রোম কী?
ব্লু বেবি সিনড্রোম এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে নবজাতকের ত্বক, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যায়। এর মূল কারণ রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর পেছনে থাকে জন্মগত হার্টের অসুখ (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ), অর্থাৎ, গর্ভাবস্থাতেই শিশুর হৃদযন্ত্রে কিছু ত্রুটি তৈরি হয়, যা স্বাভাবিকভাবে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা দেয়।

Advertisement

ভারতের পরিস্থিতি
ভারতে জন্মগত হৃদরোগ একটি পরিচিত সমস্যা। প্রতি ১,০০০ জীবিত জন্মের মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০টি শিশুর এই ধরনের সমস্যা থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ সায়ানোটিক হার্ট ডিজিজ, যেখানে শিশুর শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং ত্বক নীলচে হয়ে যায়।

newborn blue baby syndrome warning signs early detection
জরুরি লক্ষণ চেনা। ছবি: প্রতীকী

যেসব লক্ষণ দেখলে একদম দেরি করবেন না
প্রথম থেকেই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। নজরে রাখুন-

  • ঠোঁট, জিভ, হাত-পায়ের আঙুলে নীলচে আভা
  • দ্রুত বা কষ্ট করে শ্বাস নেওয়া
  • খাওয়ার সময় ঘাম হওয়া বা সবসময় খেতে না চাওয়া
  • ঠিকমতো ওজন না বাড়া বা কমে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি, নিস্তেজ ভাব বা অতিরিক্ত ঘুম
  • কিছু ক্ষেত্রে হঠাৎ করে শিশুর শরীর খুব বেশি নীল হয়ে যেতে পারে, শ্বাস দ্রুত হতে পারে বা শিশু একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়তে পারে, এগুলো জরুরি বা এমার্জেন্সি পরিস্থিতি। তখন দেরি না করে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
newborn blue baby syndrome warning signs early detection
জরুরি সময়মতো চিকিৎসা। ছবি: প্রতীকী

সব সময় জন্মের পরই বোঝা যায় না
সব শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণ ধরা পড়ে না। অনেক সময় কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। তাই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও শিশুর শারীরিক পরিবর্তনগুলোর দিকে নজর রাখা জরুরি।

এর চিকিৎসা কী?
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন ব্লু বেবি সিনড্রোমের চিকিৎসা অনেকটাই সফল। রোগের ধরন অনুযায়ী ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যায়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে অধিকাংশ শিশুই পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

ব্লু বেবি সিনড্রোম শুনতে ভয়ানক লাগলেও, সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপই এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানুন, সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করুন। কারণ আপনার সচেতনতাই আপনার সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.