Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Mushroom for Cancer Treatment

১ মাশরুমেই ক্যানসার ‘বধ’, বিপজ্জনক কোষ খতম করে ২৪ ঘণ্টায়!

ভোজ্য ঝিনুক মাশরুমে মজুত ক্যানসার-বিরোধী এফ১৩ জরায়ু, ফুসফুস এবং স্তনের মতো মারাত্মক ক্যানসারের বিপজ্জনক কোষগুলিকে মেরে ফেলার ক্ষমতা রাখে।

গৌতম ব্রহ্ম
গৌতম ব্রহ্ম

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১৫:১৯

link
গৌতম ব্রহ্ম
গৌতম ব্রহ্ম

শেষ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১৫:১৯

options
link
১ মাশরুমেই ক্যানসার ‘বধ’, বিপজ্জনক কোষ খতম করে ২৪ ঘণ্টায়! zoom
১ মাশরুমেই ক্যানসার 'বধ' বিপজ্জনক কোষ খতম করে ২৪ ঘণ্টায়!
Advertisement

কয়লা মাশরুম, কুড়কুড়ে মাশরুমের পর ঝিনুক মাশরুম। ফের মাশরুমে ক্যানসার সারানোর মহৌষধ আবিষ্কার করে বিশ্বকে আশার আলো দেখালেন তিন বাঙালি বিজ্ঞানী। স্পষ্ট করলেন এক অমোঘ সত্যি। ভোজ্য ঝিনুক মাশরুমে মজুত ক্যানসার-বিরোধী এফ১৩ জরায়ু, ফুসফুস এবং স্তনের মতো মারাত্মক ক্যানসারের বিপজ্জনক কোষগুলিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেরে ফেলতে সক্ষম।

মারণ রোগ ক্যানসার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন অধ্যাপক ড. স্বপনকুমার ঘোষ। প্রতিষ্ঠা করেছেন রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টিনারি কলেজের ক্যানসার গবেষণা ইউনিট। স্বপনবাবু এর আগে রাঙামাটি অঞ্চলে জন্মানো কুড়কুড়ে মাশরুম থেকে ক্যানসার-বিরোধী এফ১২ আবিষ্কার করেছেন, যা বৈজ্ঞানিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কয়লা মাশরুম থেকেও তিনি আবিষ্কার করেছেন ক্যানসার-বিরোধী এফ৫। এবার আরও এক ভোজ্য মাশরুম থেকেও ক্যানসার ধ্বংসের যৌগ খুঁজে বের করলেন তিনি। সঙ্গী হলেন আরও দুই গবেষক ডা. কৌশিক পাণ্ডে হয়েছে। এবং মধুপর্ণা ঘোষ। যা সম্প্রতি বিশ্ববন্দিত নেচার গ্রুপের জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত স্বপনবাবুর দাবি, ঝিনুক মাশরুম রান্না করার পরও এফ১৩ যৌগগুলি সক্রিয় থাকে।

Advertisement

Consuming 50 grams Mushrooms per day may help in Cancer Treatment

নিয়মিত এই মাশরুম খেলে তা আমাদের ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এবং ক্যানসার রোগীরা যদি সকাল ও সন্ধ্যায় ৫০ গ্রাম করে এই মাশরুম গ্রহণ করেন, তা হলে তাঁরা ক্যানসার থেকে উপশম পেতে পারেন।

ফলে, নিয়মিত এই মাশরুম খেলে তা আমাদের ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এবং ক্যানসার রোগীরা যদি সকাল ও সন্ধ্যায় ৫০ গ্রাম করে এই মাশরুম গ্রহণ করেন, তা হলে তাঁরা ক্যানসার থেকে উপশম পেতে পারেন। এই গবেষণাকে বৈপ্লবিক আখ্যা দিয়েছেন ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ঝিনুক মাশরুমের মিথানলিক এক্সট্র্যাক্ট থেকে কলাম ক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতির মাধ্যমে পৃথকিকৃত এফ-১৩ ফ্র্যাকশনটি যে একাধারে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং অ্যান্টি- টিউমার গুণাবলি যুক্ত, তা এই গবেষণায় ওঠে এসেছে। সেল-লাইনের উপর করা গবেষণার ফলাফল মানুষের দেহ-কোষেও অনুরূপ দেখালে, এটি ক্যানসার-চিকিৎসায় ‘গেম-চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে।

ঝিনুক মাশরুম সব ঋতুতেই চাষ হয়। তাই এটি সবসময় বাজারে মেলে। এই সহজলভ্য ছত্রাকটির মধ্যেই ক্যানসার নিকেশের ব্রহ্মাস্ত্র এফ১৩ রয়েছে। স্বপনবাবুর দাবি, এফ১৩-তে কুমারিক অ্যাসিড, কোয়ারসেটিন, কুইনাইনের মতো ছয়টি সক্রিয় জৈব যৌগ রয়েছে। যা জরায়ু, ফুসফুস এবং স্তনের মতো মারাত্মক ক্যানসারের বিপজ্জনক কোষগুলিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেরে ফেলতে সক্ষম। গবেষণায় প্রমাণিত, এই এফ১৩ অ্যাপোপটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্তন ক্যানসার কোষ, জরায়ুমুখের ক্যানসার এবং ফুসফুসের ক্যানসার কোষকে দক্ষতার সাথে ধ্বংস করে। আসলে পি৫৩ জিন আমাদের সমস্ত জিনের পর্যবেক্ষক বা টিউমার রক্ষকের মতো কাজ করে। এটি নিষ্ক্রিয় বা পরিবর্তিত হলে বিসিএল২-এর মতো ক্যানসার সৃষ্টিকারী জিনগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ক্যানসার সৃষ্টি করে। স্বপনবাবুরা এফ১৩ কাজে লাগিয়ে ক্যানসার কোষ ধ্বংসের মূল কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখেন যে, এফ ১৩ ক্যানসার সৃষ্টিকারী জিনকে নিষ্ক্রিয় করে এবং টিউমার প্রতিরোধকারী পি৫৩ জিনকে সক্রিয় করে। সক্রিয় করে অ্যাপোপটোসিস সৃষ্টিকারী জিনগুলোকেও। স্বপনবাবুর আশা, মানবদেহে পরীক্ষার পর ঝিনুক মাশরুম থেকে প্রাপ্ত তাঁর এফ১৩ তিনরকম ক্যানসারের বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক ঔষধ হিসাবে যুগান্তকারী সাফল্য

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.