সকালে হাঁটা (Morning Walk) মানেই নিরাপদ, এই ধারণা অনেকেরই। কিন্তু তীব্র গরমের সময়ে সেই ভাবনাই ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। বাইরে তখনও রোদ তেমন চড়েনি, তবুও শরীর ভেতর থেকে গরমে ক্লান্ত থাকে। তাই দিনের একেবারে শুরুর সময়েও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬২ বছরের প্রবীণ এক ব্যক্তি। এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল, গরম এখন আর শুধু দুপুরের বিপদ নয়, সকালেও লুকিয়ে আছে ঝুঁকি।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
সকালের ঠান্ডা ভাবটাই বিভ্রান্তি
অনেকের ধারণা, রোদ চড়ার আগেই বেরিয়ে পড়লে গরমের প্রভাব এড়ানো যায়। কিন্তু হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহের সময় শরীর রাতভরই তাপ আর আর্দ্রতার চাপে থাকে। ঘুমের মধ্যেও শরীর ঠিকমতো ঠান্ডা হতে পারে না। এই জমে থাকা তাপই তৈরি করে কিউমুলেটিভ হিট স্ট্রেস, যার ফলে সকালে বেরোলেও শরীর থাকে ক্লান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়।
ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা ছিল। হাঁটা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘাম, এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এগুলো হিট এগজশনের প্রাথমিক ইঙ্গিত, যা অল্প সময়েই মারাত্মক হিটস্ট্রোকে পরিণত হতে পারে।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
তীব্র গরমে সকালের হাঁটাও সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ করে-
- ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ
- হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী
- যাঁরা নিয়মিত ডিউরেটিক বা বিটা-ব্লকার জাতীয় ওষুধ খান
- যাঁরা পর্যাপ্ত জল পান করেন না বা গরম পরিবেশে ঘুমান
এই অবস্থায় সূর্যের তাপ তেমন প্রখর না হলেও, শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

জলই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
গরমে টিকে থাকার সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় নিয়মিত জল পান। তেষ্টা পেলেই জল পানের অভ্যাস যথেষ্ট নয়; তার আগেই শরীরের দরকার জলের। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে শুধু জল নয়, প্রয়োজনীয় নুনও বেরিয়ে যায়।
ডাবের জল, লেবুর শরবত বা ঘোল শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে। তবে সফট ড্রিংক, অতিরিক্ত চিনি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়ানোই ভালো, এসব শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট করে।
শরীর আগেই সংকেত দেয়
গরমজনিত অসুস্থতা হঠাৎ করে হয় না, শরীর আগে থেকেই সতর্ক করে। যেমন-
- অস্বাভাবিক ঘাম বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া
- হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া
- দ্রুত হার্টবিট
- বমি ভাব
- পেশিতে টান
- আচরণে বিভ্রান্তি
এই লক্ষণগুলো দেখলেই দেরি না করে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।

কী বদল আনবেন অভ্যাসে?
সময় দেখে নয়, পরিস্থিতি বুঝে চলাটাই এখন জরুরি। তীব্র গরমে সূর্য ওঠার পর হাঁটতে না বেরোনোই ভালো। বেরোতে হলে আগে জল পান করে নিন, হালকা পোশাক পরুন, আর শরীরের কথা শুনুন। সম্ভব হলে ঘরের ভেতরেই শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের বিকল্প বেছে নিন।
এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, একটি সতর্কবার্তা। জলবায়ু বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসও বদলাতে হবে। যে সকালের হাঁটা একসময় নিশ্চিন্ত মনে হত, এখন তা-ই হয়ে উঠতে পারে বিপদের কারণ।
নিজের শরীরকে অবহেলা নয়, বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ এই গরমে সচেতন থাকাটাই সুস্থভাবে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হাসপাতাল যেন জেলখানা! সোনমের ‘মুক্তি’ চেয়ে আদালতে স্ত্রী, অনশনে এবার বাম ছাত্রনেতারাও
-
নগ্ন হয়ে মন্দিরে প্রবেশ, দেবী মূর্তি চুরি করে নদীতে ঝাঁপ তরুণীর! তারপর…
-
‘দরকারে চিনকে সঙ্গে নেব’, বিশ্বকাপ ‘সফল’ ঘোষণা করে আবার আয়োজনের আবদার ট্রাম্পের
-
‘ওকে শেষ করে দিয়েছি’, প্রাক্তন লিভ-ইন সঙ্গীকে ‘খুন’, হবু স্বামীকে ফোন যুবকের!
-
বাংলায় শিল্পায়নের জোয়ারে লক্ষ্য কর্মসংস্থান, শাহের হাতে আজ আমুলের দই কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন