বর্ষা মানেই চারদিকে সবুজের সমারোহ, ভেজা মাটির গন্ধ আর স্বস্তির ছোঁয়া। তবে এই ঋতুতেই বাড়ে মশা, পিঁপড়েসহ নানা পোকামাকড়ের উপদ্রব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের কামড় ক্ষণিকের অস্বস্তি তৈরি করলেও, কখনও কখনও তা গুরুতর সংক্রমণ বা তীব্র অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। সম্প্রতি অভিনেতা রাজেশ শর্মার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও সেই আশঙ্কাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তাই বর্ষাকালে পোকামাকড়ের কামড়ের পর কী করবেন, আর কোন লক্ষণ দেখলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না, জেনে রাখা জরুরি।
একটি সাধারণ পোকার কামড়ও যে কখন গুরুতর বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে, তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ অভিনেতা রাজেশ শর্মা। প্রভাস অভিনীত একটি ছবির শুটিং চলাকালীন রামোজি ফিল্ম সিটিতে তাঁকে একটি পোকা কামড়ায় বলে জানা গিয়েছে। কলকাতায় ফিরে আসার পর সেই কামড়ের জায়গায় সমস্যা বাড়তে থাকায় তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর অনুযায়ী, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ পোকামাকড়ের কামড় ক্ষতিকর নয়। সামান্য চুলকানি, লালচে ভাব বা ফোলাভাব কয়েক দিনের মধ্যেই কমে যায়। তবে শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে বা তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে পারে। ডায়াবেটিস, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা বয়সজনিত কারণে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন:

পোকামাকড়ের কামড়ের পর কী করবেন?
প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক পদক্ষেপই অনেক সময় বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করে।
- আক্রান্ত স্থান সাবান ও পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফ মুড়ে ১০-১৫ মিনিট ঠান্ডা সেঁক দিন। এতে ব্যথা ও ফোলাভাব কমবে।
- কামড়ের জায়গা চুলকাবেন না। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
- মৌমাছির হুল ত্বকে আটকে থাকলে নখ বা কোনও শক্ত কার্ডের ধার দিয়ে আলতো করে তুলে ফেলুন। চিমটি দিয়ে চেপে ধরবেন না, এতে শরীরে আরও বিষ প্রবেশ করতে পারে।
কোন লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
পোকামাকড়ের কামড়ের পর নিচের কোনও উপসর্গ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়।
- দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলাভাব
- অসহ্য বা ক্রমশ বেড়ে যাওয়া ব্যথা
- কামড়ের জায়গা থেকে পুঁজ বের হওয়া
- জ্বর
- শ্বাসকষ্ট
- মাথা ঘোরা
- ঠোঁট, জিভ বা মুখ ফুলে যাওয়া
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
এগুলি গুরুতর অ্যালার্জি বা সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকলে কেন বাড়ে ঝুঁকি?
রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং ক্ষত সারতে দেরি হয়। ফলে একটি ছোট পোকার কামড় থেকেও সহজে সংক্রমণ হতে পারে। অনেক সময় সেই সংক্রমণ ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে লালচে ভাব, ফোলাভাব বা ব্যথা বাড়তে থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়।
কারা সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকবেন?
শিশু, প্রবীণ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং যাঁদের আগে পোকামাকড়ের হুলে তীব্র অ্যালার্জি হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সামান্য কামড়ও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ছোট সমস্যা ভেবে অবহেলা করবেন না
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পোকামাকড়ের কামড় কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু উপসর্গ যদি কমার বদলে বাড়তে থাকে, ক্ষত থেকে পুঁজ বের হয়, জ্বর আসে বা শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাহলে তা বিপদের ইঙ্গিত। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে বড় জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
রাজেশ শর্মার ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, পোকামাকড়ের সামান্য কামড়কে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা অন্য কোনও ক্রনিক ডিজিজ থাকলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড অপেক্ষাতেই পেনাল্টি মিস এমবাপের! তিতিবিরক্ত দেশঁ, ফুঁসে উঠলেন হালান্ডও
-
সারাদিন ফোনে মুখ গুঁজে বাড়ছে ডার্ক সার্কেল? দু’সপ্তাহেই ‘ভ্যানিশ’ হবে পাঁচ ঘরোয়া উপায়ে
-
সোমেই লাগু গুন্ডাদমন, ‘সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান আর হবে না’, বহরমপুরে দাঁড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
-
নকল ডিগ্রি, জাল শংসাপত্র! শিক্ষায় ‘কঙ্কালসার’ বিহারে চাকরি যাচ্ছে ৩ হাজার শিক্ষকের
-
মায়েরা সব পারে… ফুসফুসের রোগে শয্যাশায়ী ছেলে, হাতে নোট লিখে জেইই পরীক্ষা পাশ করালেন মা!