দু’বছর আগের কনুইয়ের চোট। অস্ত্রোপচার করে বসানো হয়েছিল প্লেট ও স্ক্রু। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই হাতেই শুরু হয় ব্যথা, আঙুলে ঝিনঝিন ভাব। কমতে থাকে গ্রিপের শক্তিও। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করে জানা গেল, পুরনো একটি স্ক্রু চেপে বসেছিল আলনার নার্ভ, অর্থাৎ, হাতের একটি প্রধান স্নায়ু উপর। সেটি সরিয়ে দেওয়ার পরই দ্রুত স্বস্তি পান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। অস্ত্রোপচারের দ্বিতীয় দিনেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি।
ডান হাতের এই সমস্যার চিকিৎসার জন্য কলকাতার পিয়ারলেস হসপিটালে ভর্তি হন মহাগুরু। প্রায় দু’বছর আগে ডান হাতের কনুইয়ের কাছে ডিস্টাল হিউমেরাস, অর্থাৎ, কনুইয়ের ঠিক উপরে বাহুর প্রধান হাড়ের নিচের প্রান্তে ফ্র্যাকচার হয়েছিল তাঁর। অস্ত্রোপচার করে প্লেট ও স্ক্রুর সাহায্যে হাড় জোড়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ওই হাতে ব্যথা ও ঝিনঝিন ভাব বাড়তে থাকে। দুর্বল হয়ে পড়ে আঙুলের গ্রিপও।
আরও পড়ুন:
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পুরনো ইমপ্ল্যান্ট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজি বিভাগের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. সোমনাথ দে-র নেতৃত্বে হয় অস্ত্রোপচার। আলনার নার্ভটি সাবধানে চিহ্নিত করে তার চারপাশে জমে থাকা ফাইব্রাস টিস্যু সরিয়ে নার্ভটিকে মুক্ত করা হয়। এরপর খুলে ফেলা হয় পুরনো মেডিয়াল টাইটানিয়াম প্লেট ও স্ক্রুগুলি।
আরও পড়ুন:

অস্ত্রোপচারের সময়ই সামনে আসে সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দেখা যায়, ৬ মিলিমিটারের একটি ক্যানুলেটেড স্ক্রু আলনার নার্ভের উপর চাপ তৈরি করছে। চিকিৎসকদের মতে, নার্ভের উপর এই চাপই মিঠুনের হাত ও আঙুলে ব্যথা এবং ঝিনঝিন ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে স্ক্রুটি সরিয়ে নার্ভটিকে সুরক্ষিত করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর অবশ্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। প্রথম পোস্ট-অপারেটিভ দিনেই হাত ও আঙুলের অসাড়তা এবং দুর্বলতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি টের পান মিঠুন। একই সঙ্গে ফিরে আসে আঙুলের গ্রিপ। অস্ত্রোপচারের পর কোনও জটিলতাও দেখা দেয়নি। চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশন ভালো ভাবে এগোনোর পর গত শুক্রবার, ৮ অগস্ট, দ্বিতীয় পোস্ট-অপারেটিভ দিনেই তাঁকে হসপিটাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান মিঠুন। তিনি জানান, পিয়ারলেস হসপিটালে কাটানো তিন দিন কীভাবে কেটে গেল, তা বুঝতেই পারেননি। ডা. সোমনাথ দে, ডা. প্রদীপ সেন, ডা. প্রসাদ কৃষ্ণন, ডা. সুস্মিতা ভট্টাচার্য এবং ডা. জনমেজয় সেনগুপ্ত-সহ চিকিৎসক দল, নার্সিং টিম ও কেয়ারগিভারদের যত্নের প্রশংসা করেন তিনি। অস্ত্রোপচারের পরের দিনই হাত ও আঙুলের অসাড়তা এবং দুর্বলতা কমার পাশাপাশি গ্রিপ ফিরে আসায় তাঁর স্বস্তির কথাও জানান অভিনেতা।
শুক্রবার সকালে মিঠুনকে দেখতে পিয়ারলেস হসপিটালে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সুস্থতা কমনা করেন তিনি। পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় হসপিটালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিঠুনের খুব ভালো যত্ন নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মহাগুরুকে দেখতে যান অভিনেতা দেব-ও।

পিয়ারলেস হসপিটালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. ডি পি সামাদ্দার বলেন, মিঠুনের চিকিৎসায় একাধিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত ভূমিকা ছিল। অর্থোপেডিক্স, প্লাস্টিক সার্জারি, নিউরোসায়েন্সেস এবং অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সিং ও রিহ্যাবিলিটেশন টিমও গোটা চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল।
ডা. সোমনাথ দে জানান, পুরনো ফ্র্যাকচার ফিক্সেশনের পর মিঠুনের ডান হাত ও আঙুলে ব্যথা এবং ঝিনঝিন ভাব ছিল। অস্ত্রোপচারের সময় আলনার নার্ভের উপর চাপ তৈরি করা ক্যানুলেটেড স্ক্রুটি শনাক্ত করা হয়। সেটি নিরাপদে সরিয়ে নার্ভের নিউরোলাইসিস করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর অভিনেতার শারীরিক উন্নতি যথেষ্ট সন্তোষজনক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রেজিনগরে ঋত শিবিরের প্রার্থী সফিউজ্জামান আবু তাহেরের ভাগ্নে? কী বলছেন এনসিপি সাংসদ?
-
গণেশ পুজোয় দেশি লুকে টিফানি, ট্রাম্পকন্যার সঙ্গে ছবি পোস্ট করে ‘সুন্দরী’ সম্বোধন সঞ্জয়ের
-
রোগী পিছু ফি ৮০০ টাকা, আটটি চেম্বার! সোনারপুরে গ্রেপ্তার ভুয়ো চিকিৎসক
-
‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’, মোদিকে বলিউডি বার্তা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর, কী বললেন পুতিনকে?
-
নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানিই! শুভেন্দুর সঙ্গে জমা দেবেন মনোনয়ন