অনেকেই মনে করেন, বাদ্যযন্ত্র শেখার সঠিক সময় শৈশব বা কৈশোর। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। ৭০ বছর বয়সের পরও যদি কেউ নতুন করে কোনও বাদ্যযন্ত্র শেখেন বা নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যান, তাহলে তা শুধু একটি নতুন শখই নয়, বরং স্মৃতিশক্তি রক্ষা এবং মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত ক্ষয় ধীর করার কার্যকর উপায়ও হতে পারে।
জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রবীণ ব্যক্তি নতুন করে বাদ্যযন্ত্র শেখার পর অন্তত তিন বছর নিয়মিত চর্চা চালিয়ে গেছেন, তাঁদের স্মৃতিশক্তি তুলনামূলকভাবে অক্ষুণ্ন ছিল। একই সঙ্গে তাঁদের মস্তিষ্কে বয়সজনিত যে সংকোচন সাধারণত দেখা যায়, তার মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গড় বয়স ছিল ৭৩ বছর। তাঁরা প্রথমবারের মতো একটি বাদ্যযন্ত্র শেখা শুরু করেন। চার মাসের প্রশিক্ষণ শেষে একদল নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান, আর অন্য দলটি বাদ্যযন্ত্র ছেড়ে অন্য শখে মনোযোগ দেন।
প্রায় চার বছর পর গবেষকরা তাঁদের এমআরআই স্ক্যান এবং স্মৃতিশক্তির বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। ফলাফল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যাঁরা বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তাঁদের ভার্বাল ওয়ার্কিং মেমরি, অর্থাৎ, তথ্য মনে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা কমে যায়। একই সঙ্গে মস্তিষ্কের রাইট পুটামেন অংশে সংকোচনের লক্ষণ দেখা যায়। এই অংশটি স্মৃতি, শেখা এবং বিভিন্ন মানসিক দক্ষতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত এর কার্যকারিতা হ্রাস পায়।

অন্যদিকে, যাঁরা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতিশক্তিতে তেমন কোনও অবনতি দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, তাঁদের মস্তিষ্কের সেরিবেলাম অংশে কার্যকলাপও বেশি ছিল, যা সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে মানুষের মস্তিষ্ক বৃদ্ধ বয়সেও নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা ধরে রাখে। নিয়মিত বাদ্যযন্ত্র চর্চা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের গতি ধীর করতে সাহায্য করে।
গবেষণার প্রধান গবেষক কাওরু সেকিয়ামার কথায়, তাঁদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সে বাদ্যযন্ত্র শেখা শুরু করলেও মস্তিষ্কে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ, মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে নতুন কিছু শেখার জন্য কখনওই দেরি হয়ে যায় না।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং কাজ মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই নতুন গবেষণা সেই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে যাঁরা শারীরিক অসুস্থতা, জয়েন্টের ব্যথা বা চলাফেরার সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন না, তাঁদের জন্য বাদ্যযন্ত্র শেখা হতে পারে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার একটি নিরাপদ ও আনন্দদায়ক উপায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নতুন কিছু শেখার জন্য বয়স কোনও বাধা নয়। ৭০ বছর পেরিয়েও একটি বাদ্যযন্ত্র হাতে তুলে নেওয়া শুধু নতুন দক্ষতা অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিন স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং মস্তিষ্কের সুস্থতা ধরে রাখার একটি কার্যকর উপায়ও হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে গা ঢাকা দিয়েও হল না শেষরক্ষা, কীভাবে এসটিএফের জালে অদিতির স্বামী দেবরাজ?
-
খাস কলকাতায় নাবালিকাকে ‘গণধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত
-
ঠেকেও শিখল না ভারত! ইংল্যান্ডেও হল না বৈভবের অভিষেক, শ্রেয়সের প্রথম একাদশে কারা?
-
সিকিমজুড়ে রয়েছে জনশ্রুতি! অবশেষে ক্যামেরাবন্দি বিলুপ্তপ্রায় ‘ইউরেশিয়ান লিংক্স’
-
আদালতে ১৫টি নথি জমা দিয়েও ভারতীয় নাগরিক প্রমাণে ব্যর্থ, কী ভুল হল অসমের ব্যক্তির?