ব্রেন ইটিং বা মগজ খেকো অ্যামিবা সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে কেরলে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল, এই চার মাসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই মারাত্মক সংক্রমণে। একই সময়ে ৯৬টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনাও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগটি বিরল হলেও অত্যন্ত প্রাণঘাতী, তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই একমাত্র ভরসা।

আরও পড়ুন:
কী এই ব্রেন ইটিং অ্যামিবা সংক্রমণ?
রোগটির নাম প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস (পিএএম)। এটি হয় নেগলেরিয়া ফাওলেরি নামের এক ধরনের অ্যামিবার সংক্রমণে। সাধারণত এই জীবাণু উষ্ণ ও অগভীর মিষ্টি জলে, যেমন পুকুর, হ্রদ বা নদীতে থাকে। যখন এই দূষিত জল নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে, তখন তা সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এই অ্যামিবা এবং পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
কেন এত ভয়ঙ্কর?
এই সংক্রমণের মৃত্যুহার বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৯ শতাংশ। তবে কেরলে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ফলে মৃত্যুহার কিছুটা কমিয়ে আনা গেছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আগে এই রোগ ধরা পড়ত দেরিতে, এখন মস্তিষ্কের সংক্রমণ দেখা দিলেই অ্যামিবা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কীভাবে ছড়ায়?
এই রোগ জলপান থেকে হয় না, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংক্রমণ হয় তখনই, যখন দূষিত জল নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। সাঁতার কাটার সময় বা জলাশয়ে স্নানের সময় এমনটা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?
প্রথম দিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই উপসর্গ দেখা দেয়। মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব ও বমি। পরবর্তী সময়ে লক্ষণগুলো মারাত্মক হয়ে ওঠে। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি ও অস্বাভাবিক আচরণ, ভারসাম্য হারানো, খিঁচুনি, আলোতে অস্বস্তি, হ্যালুসিনেশনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
সংক্রমণ এড়াতে কিছু সতর্কতা জরুরি-
- স্থির মিষ্টি জল, অর্থাৎ, পুকুর বা জলশয়ে সাঁতার কাটার সময় নাক দিয়ে যাতে জল শরীরে প্রবেশ না করে সেদিকে খেয়াল রাখুন, সম্ভব হলে নোজ ক্লিপ ব্যবহার করুন।
- যেখানে এই অ্যামিবার উপস্থিতির আশঙ্কা আছে, সেখানকার জল এড়িয়ে চলুন।
- নাক পরিষ্কারের জন্য কখনওই সরাসরি কলের জল ব্যবহার করবেন না। ফোটানো বা বিশুদ্ধ জল ব্যবহার করুন। সঠিক মানের ফিল্টার ব্যবহার করুন।
- জল থেকে উঠে জ্বর বা মাথাব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মগজ খেকো অ্যামিবা সংক্রমণ বিরল হলেও অবহেলা করার মতো নয়। বিশেষ করে গরমে ঝুঁকি বাড়ে। তাই অপ্রয়োজনে অজানা জলাশয়ে নামা এড়িয়ে চলুন, আর সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক