Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Intimate area pigmentation

গোপনাঙ্গের আশপাশের ত্বক কালচে? কতটা ক্ষতিকর! প্রতিকারই বা কী

ইন্টিমেট এরিয়ার রং একটু আলাদা হলেই সেটা সমস্যা নয়। বরং নিজের শরীর যেমন আছে, তেমনভাবে গ্রহণ করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি এবং সেটাই সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৭, ২০২৬, ১৭:১১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৭, ২০২৬, ১৭:১১

options
link
গোপনাঙ্গের আশপাশের ত্বক কালচে? কতটা ক্ষতিকর! প্রতিকারই বা কী zoom
যা স্বাভাবিক, তা-ই কেন প্রশ্নবিদ্ধ। ছবি: প্রতীকী

১৮ বছর বয়স নিজের শরীরকে নতুন করে চেনার সময়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়, ‘সব কিছু ঠিক আছে তো?’ বিশেষ করে শরীরের সেই অংশগুলো, যেগুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা যায় না। ইন্টিমেট এরিয়া বা যৌনাঙ্গের আশপাশে ত্বকের রং একটু কালচে দেখালে অনেকেরই মনে দুশ্চিন্তা আসে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই দুশ্চিন্তার বেশিরভাগটাই অযৌক্তিক।

ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের সব জায়গার ত্বকের রং এক হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। বরং যৌনাঙ্গের আশপাশ, বগল বা উরুর ভেতরের অংশের ত্বক একটু কালচে হওয়াই স্বাভাবিক। বয়ঃসন্ধির পর হরমোনের প্রভাব, হাঁটা-চালার সময় নিয়মিত ঘষা লাগা, ঘাম, শেভিং বা ওয়াক্সিং করা, এসব কারণে এই অংশে মেলানিনের মাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে রং আলাদা দেখায়। এটা কোনও রোগ নয়, শরীরের স্বাভাবিক বৈচিত্র্য।

Advertisement

অনেকেই ভাবেন, এই রং কি ভবিষ্যতে যৌনজীবনে প্রভাব ফেলবে? চিকিৎসকদের মতে, এর সঙ্গে যৌন জীবনের কোনও সম্পর্ক নেই। ইন্টিমেট এরিয়ার রং যৌন সম্পর্কের সক্ষমতা বা আনন্দকে প্রভাবিত করে না। বরং সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন নিজের শরীর নিয়ে অস্বস্তি বা লজ্জা জন্ম নেয়। সেই মানসিক চাপই আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

intimate area pigmentation doctors explain normal or not
নিজের শরীর নিয়ে দ্বিধা? ছবি: প্রতীকী

এই অস্বস্তির সুযোগ নিয়েই বাজারে নানা ধরনের ‘ইন্টিমেট লাইটেনিং’ ক্রিম বা চিকিৎসা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অংশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। যে কোনও ব্লিচিং ক্রিম, অ্যাসিড বা স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে জ্বালা, অ্যালার্জি, এমনকী ত্বকের স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উল্টে পিগমেন্টেশন বা কালচে ভাব আরও বাড়তে।

তবে কিছু মেডিক্যাল ট্রিটমেন্টও রয়েছে। যেমন নির্দিষ্ট কেমিক্যাল পিল বা লেজার, যা ত্বকের রং কিছুটা হালকা করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এগুলো কখনওই নিজে থেকে করার বিষয় নয়। ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, ত্বকের ধরন বোঝা এবং সঠিক তত্ত্বাবধান, এই তিন ছাড়া এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, এই ট্রিটমেন্টগুলো খুব প্রয়োজনীয় নয়, চাইলে করতে পারেন।

intimate area pigmentation doctors explain normal or not
প্রয়োজনে ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত

কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি হতে পারে। যেমন হঠাৎ করে ত্বকের রং খুব দ্রুত বদলে যাওয়া, ত্বক মোটা বা খসখসে হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা জ্বালা হওয়া- এই ধরনের লক্ষণ থাকলে সেটা অন্য কোনও সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তখন নিজে কিছু না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

বিষয়টা ত্বকের রং নয়, নিজের শরীরকে কীভাবে দেখছি সেটাই আসল। আমরা অনেক সময় এমন একটা ‘পারফেক্ট’ ছবির সঙ্গে নিজেদের মেলানোর চেষ্টা করি, যা বাস্তবে খুব কম মানুষেরই থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, স্বাভাবিক শরীর মানেই একরকম হওয়া নয়, বরং ভিন্নতা থাকাই স্বাভাবিক।

তাই ইন্টিমেট এরিয়ার রং একটু আলাদা হলেই সেটা সমস্যা নয়। বরং নিজের শরীর যেমন আছে, তেমনভাবে গ্রহণ করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি এবং সেটাই সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.