জিম হোক বা কাজের জায়গা, ভারী ওজন তোলা অনেক পুরুষেরই দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। বিষয়টা অনেকের কাছে খুবই সাধারণ। কিন্তু এই অভ্যেসই ধীরে ধীরে শরীরের ভেতর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এমন কিছু সমস্যার সূত্রপাত করতে পারে, যেগুলো প্রথমে তেমন গুরুতর বলে মনে হয় না।
চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিটা ওজন তোলায় নয়, বরং ভুল পদ্ধতি, অতিরিক্ত ওজন এবং শরীরে কোনও সমস্যা দেখা দিলে সেটাকে উপেক্ষা করা।

অতিরিক্ত ওজন কীভাবে বিপদ ডেকে আনে?
যখন কেউ ভুল ভঙ্গিতে বা সীমার বাইরে গিয়ে ভারী ওজন তোলেন, তখন পেটের ভেতর চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে পেশির দুর্বলতা তৈরি হয়। আর সেখান থেকেই শুরু হতে পারে হার্নিয়ার সমস্যা।
প্রথমে হয়তো সামান্য টান লাগা, অস্বস্তি বা হালকা ব্যথা, এগুলোকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই ছোট লক্ষণই পরবর্তীতে বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
হার্নিয়া কী?
হার্নিয়া হল এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের ভেতরের কোনও অঙ্গ বা টিস্যু দুর্বল জায়গা দিয়ে বাইরে ঠেলে ওঠে। এটি সাধারণত পেট বা কুঁচকির এলাকায় দেখা যায়। ভারী ওজন তোলা ছাড়াও দীর্ঘদিন কাশি, স্থূলতা বা কোষ্ঠকাঠিন্যও এর কারণ হতে পারে।
শুরুর দিকে ছোট একটা ফোলা বা অল্প ব্যথা ছাড়া তেমন কিছু বোঝা যায় না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বড় হতে পারে এবং জটিল আকার নিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হার্নিয়া এমন অবস্থায় পৌঁছায়, যেখানে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তখন অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনও রাস্তা থাকে না।

সব ফোলাই হার্নিয়া নয়
এখানেই সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়। শরীরে কোনও গাঁট বা ফোলা দেখলে অনেকেই ধরে নেন সেটা হার্নিয়া। কিন্তু একই ধরনের লক্ষণ অন্য গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। বিশেষ করে টেস্টিকুলার ক্যানসার বা পেটের টিউমারের ক্ষেত্রে এমন উপসর্গ দেখা যেতে পারে।
কখনও কখনও শরীরের ভেতরে টিউমার বড় হতে থাকলে সেটি ভেতরের চাপ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে বাইরে থেকে হার্নিয়ার মতো ফোলা দেখা যায়। এই ভুল ধারণার কারণে অনেক সময় রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়, আর সেই দেরিই ঝুঁকি বাড়ায়।
কোন লক্ষণগুলো একেবারেই অবহেলা নয়?
শরীর সাধারণত আগেই সতর্ক করে দেয়, কিন্তু আমরা সেটাকে গুরুত্ব দিই না। যদি ফোলা দ্রুত বড় হতে থাকে, ব্যথা বাড়ে, অস্বস্তি স্থায়ী হয়, হঠাৎ ওজন কমে, প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায় বা দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

সচেতনতাই সুরক্ষার প্রথম ধাপ
ভারী ওজন তোলা বন্ধ করার দরকার নেই। কিন্তু সঠিক ভঙ্গি, সীমা মেনে চলা এবং শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া খুবই জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা, শরীরের অস্বাভাবিক কোনও পরিবর্তনকে হালকাভাবে নেবেন না। কারণ অনেক সময় যেটাকে আমরা সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই, সেটাই হতে পারে শরীরের গভীর কোনও বিপদের প্রথম ইঙ্গিত।
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?