যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, ইরেকটাইল ডিসফাংশন, সহবাসে অস্বস্তি, যোনিতে শুষ্কতা, ক্লান্তি বা ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা— এই ধরনের সমস্যাকে অনেকেই লজ্জা, বয়স, স্ট্রেস বা সম্পর্কের টানাপোড়েন বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, যৌন স্বাস্থ্যের এই পরিবর্তন অনেক সময় শরীরের ভেতর লুকিয়ে থাকা গুরুতর অসুখের প্রথম সংকেত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন স্বাস্থ্য কখনও আলাদা কোনও বিষয় নয়। এটি শরীরের হরমোন, হৃদ্যন্ত্র, স্নায়ু, ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্য ও বিপাকক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে। তাই যৌন জীবনে হঠাৎ বদল মানেই শুধুই মানসিক সমস্যা নয়, তার পেছনে থাকতে পারে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হার্টের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা ডিপ্রেশনের মতো অসুখও।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের কথায়, যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাকে অনেক সময় শুধুই মানসিক বা সম্পর্কের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। অথচ এগুলো শরীরের ভেতর চলতে থাকা রোগের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও হতে পারে।
আরও পড়ুন:

কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করবেন না?
- হঠাৎ যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া
- সহবাসে ব্যথা বা যোনিতে শুষ্কতা
- অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়া
- ঘুমের সমস্যা
- অকারণে ওজন বাড়া বা কমা
- মুড সুইং, উদ্বেগ বা হতাশা
- ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে অস্বস্তি
- মহিলাদের অনিয়মিত পিরিয়ড
- স্ট্যামিনা কমে যাওয়া
ডায়াবেটিসের প্রথম ইঙ্গিতও হতে পারে
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস যৌন সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি হয়। তার প্রভাব পড়ে যৌন স্বাস্থ্যে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিসফাংশন দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, মহিলাদের যোনিতে শুষ্কতা, সহবাসে ব্যথা বা যৌন তৃপ্তি কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়।
অনেক সময় পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন ভবিষ্যতের হৃদ্রোগেরও আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। কারণ শরীরে রক্তনালিতে ক্ষতি শুরু হলে তার প্রভাব প্রথমে যৌন সক্ষমতার উপরই পড়ে।

হরমোনের গোলমালেও বদলে যেতে পারে যৌন জীবন
থাইরয়েডের সমস্যা, পিসিওএস, মেনোপজ বা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়া যৌন স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে। মহিলাদের ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা বা পিসিওএস থাকলে যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়া, ক্লান্তি ও মুড পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আবার মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ার ফলে যোনিতে শুষ্কতা, ঘুমের সমস্যা ও যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া খুবই সাধারণ।
পুরুষদের ক্ষেত্রেও টেস্টোস্টেরনের ভারসাম্য নষ্ট হলে যৌন ইচ্ছা, শক্তি ও মানসিক অবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।

মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাবও বড় কারণ
দীর্ঘদিন স্ট্রেস, উদ্বেগ, ডিপ্রেশন বা ঘুমের সমস্যা সরাসরি যৌন জীবনে প্রভাব ফেলে। কম ঘুম শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে কমে যেতে পারে যৌন ইচ্ছা ও কর্মক্ষমতা।
তার সঙ্গে ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, শরীরচর্চার অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়মিত জীবনযাপন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
লজ্জা নয়, দরকার দ্রুত পরীক্ষা
যৌন সমস্যা নিয়ে চুপ করে থাকা বা নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ সঠিক সময়ে পরীক্ষা করালে অনেক বড় অসুখ প্রাথমিক অবস্থাতেই ধরা পড়ে যায়।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তে শর্করা পরীক্ষা, থাইরয়েড টেস্ট, হরমোন প্রোফাইল, হৃদ্রোগের পরীক্ষা বা মানসিক স্বাস্থ্যে মূল্যায়ন জরুরি।
যৌন স্বাস্থ্য আসলে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতারই প্রতিফলন। তাই শরীরের এই নিঃশব্দ সতর্কবার্তাগুলিকে হালকা ভাবে না নেওয়াই শ্রেয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘বগা বাইরে মার, পেনাল্টিতে আমরা গোল দিই না’, বাঙালির ফুটবল-আবেগ
-
সম্পর্ক থেকে বেরতেই লাগাতার হুমকি! নাবালিকা মৃত্যুতে গ্রেপ্তার প্রেমিক, লাভ জিহাদের আশঙ্কা বিধায়কের
-
সেনার হাতে ফলল সোনা! ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক এল রোয়িং বিশ্বকাপে
-
‘জেহকে একটু কেটেও ফেলেছিল’, ‘অভিশপ্ত রাত’-এর ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ভাগ সইফের
-
সাবাশ খুদে কমরেড! জন্মদিনে পাওয়া অর্থ হকারদের জন্য বিমান বসুর হাতে দিল ২ বছরের কন্যা