অফিসে হোক বা বাড়িতে। ট্রেনে কিংবা হাঁটা পথে। হাতে মোবাইল থাকলে ঘনঘন দেখার অভ্যাস প্রায় সকলের। ফোনে রিল দেখার নেশা শুধু উঠতি বয়েসের ছেলেমেয়েদের নয়, সব বয়েসেই সমান ভাবে রয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন রিল দেখার চক্করে অজান্তেই মন্থর হয়ে পড়ছে আপনার মস্তিষ্ক? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। সমাজমাধ্যমের ছোট ভিডিও আপনার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পছন্দের ভিডিও দেখতে দেখতে মস্তিষ্কের ‘ডোরসাল অ্যান্টিরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স’ এবং ‘ডোরসোলেটারাল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ নামক দুটি নির্দিষ্ট অংশের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। মানুষের মনসংযোগ রক্ষা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে এই দুটি অংশ মূল ভূমিকা নেয়। সহজ ভাষায়, পছন্দের ভিডিও দেখার সময়েই মস্তিষ্কের স্বনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কিছুটা অলস হয়ে পড়ে। ফলে কয়েক মিনিট সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে রিল খুললেও মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রোল করতেই থাকে।
আরও পড়ুন:

ইনস্টাগ্রামের রিল বা ইউটিউব শর্টস এখন নেটপাড়ার দৈনন্দিন সঙ্গী। আঙুলের সামান্য ছোঁয়ায় একের পর এক ভিডিও বদলে যায়। এক একটি ক্লিপ দেখে সাময়িক আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যা ডোপামিন হরমোনের প্রভাব। কিন্তু এই অভ্যাসের দরুণ যে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা শিথিল হয়ে পড়ে, তা সামনে এনেছেন একদল গবেষক।
‘নিউরোইমেজ’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, রিল বা শর্টস দেখার সময় মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অঞ্চলটি কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। তরুণ প্রজন্মের ৫৬ জন সদস্যের উপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। এফএমআরআই (fMRI) স্ক্যানারের সাহায্যে তাঁদের মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। একই সঙ্গে মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তনও মাপেন তাঁরা।

পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পছন্দের ভিডিও দেখতে দেখতে মস্তিষ্কের ‘ডোরসাল অ্যান্টিরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স’ এবং ‘ডোরসোলেটারাল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ নামক দুটি নির্দিষ্ট অংশের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। মানুষের মনসংযোগ রক্ষা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে এই দুটি অংশ মূল ভূমিকা নেয়। সহজ ভাষায়, পছন্দের ভিডিও দেখার সময়েই মস্তিষ্কের স্বনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কিছুটা অলস হয়ে পড়ে। ফলে কয়েক মিনিট সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে রিল খুললেও মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রোল করতেই থাকে।
তবে বিজ্ঞানীদের মতে, রিল দেখলেই মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কার্যক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে— তা কিন্তু নয়। মূল সমস্যা হল মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়া। ২০২৫ সালে নিকোলাস বার্টন ও মাইকেল স্মিথের প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দেখানো হয়, রিলের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিষয়বস্তুর ফলে মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্রান্ত স্মৃতিশক্তি বা ‘প্রস্পেক্টিভ মেমোরি’ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

একই কথা উঠে এসেছে ২০২৬ সালের জুনে কায়ইউ ঝাই, ইউনফেই গুও এবং লি ওয়াং-এর সমীক্ষাতেও। দীর্ঘ সময় ধরে শর্ট ভিডিও দেখলে পরবর্তীতে করার মতো কাজ মনে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কাজের মনোযোগ অনুযায়ী এর প্রভাবে তারতম্য ঘটে। সব মিলিয়ে রিলের অতিরিক্ত ব্যবহার ডিজিটাল দুনিয়ার এক বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভূরি ভূরি সুযোগ নষ্টের ম্যাচে টাইব্রেকারে জয়, ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল
-
পাঞ্জাবেই সংখ্যালঘু হওয়ার পথে শিখেরা! ‘বেশি করে সন্তান নিন’, বলছে উদ্বিগ্ন অকাল তখত
-
কোর্টের নির্দেশে ‘অস্থায়ী’, বিরোধী দলনেতা হিসাবে সেই ঋতব্রতর নাম উঠল বিধানসভার বোর্ডে
-
পুকুরে অন্নপূর্ণার ফর্ম! টাকা না পেয়ে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন মহিলারা
-
রোজ মিষ্টি খাচ্ছেন! অজান্তে বাড়ছে টাক পড়ার আশঙ্কা, কী বলছেন চিকিৎসকরা?