বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে H3N2 ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ। যা সাধারণ মরশুমি ফ্লুর তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই বেশি ভোগান্তির কারণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ফ্লু টিকার নতুন সংস্করণে H3N2–কে লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট স্ট্রেন অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পেতে সময়মতো টিকা নেওয়া অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময় টিকাকরণ গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকায় দু’টি ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাস (H1N1 (সোয়াইন ফ্লু) ও H3N2) এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা B স্ট্রেনের বিরুদ্ধে সুরক্ষার পরিকল্পনা থাকা উচিত। কারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্রুত জেনেটিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে আগের সংক্রমণ বা টিকা থেকে তৈরি হওয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কমতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, H3N2 ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাসের একটি ধরন, যা কখনও কখনও অন্য ফ্লু স্ট্রেনের তুলনায় বেশি গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

ভারতেও সাম্প্রতিক সময়ে H3N2 সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় এই ভাইরাসকে ‘সুপার ফ্লু’ বলেও উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, H3N2 ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাসের একটি ধরন, যা কখনও কখনও অন্য ফ্লু স্ট্রেনের তুলনায় বেশি গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সাধারণত চার ধরনের—A, B, C এবং D। এর মধ্যে A ও B ভাইরাসই মূলত মরশুমি ফ্লুর জন্য দায়ী। H3N2 প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৬৮ সালে এবং সেই বছর শুরু হওয়া ‘হংকং ফ্লু’ মহামারির জন্যও এই ভাইরাসই দায়ি ছিল। ওই মহামারিতে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১০ থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

বর্তমানে H3N2 সংক্রমণে সাধারণত জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শরীরে ব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ কয়েক দিনের মধ্যে সেরেও যায়। তবে শিশু, প্রবীণ মানুষ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষ এবং ক্রনিক ডিজিজে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গর্ভবতী নারী, ছ-মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব ব্যক্তি, কোমর্বিডিটি এবং ক্রনিক ডিজিজ রয়েছে এমন ব্য়ক্তি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি বছর ফ্লু টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সেরও একই পরামর্শ।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্লু টিকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। যদিও এই হার খুব বেশি নয়, তবুও এটি গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার পাশাপাশি মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে স্বস্তির জয় মেসিহীন আর্জেন্টিনার, জিতলেও চোট চিন্তায় ব্রাজিল
-
বনগাঁ কাণ্ডে বারবার সমনেও গরহাজির! ‘ভুয়ো খবর’-এ আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মিমির
-
মধ্যরাতে মদন মিত্রের গাড়িতে হামলা, ছোঁড়া হল ডিম! বললেন, ‘মৃত্যুকে অনেক কাছ থেকে দেখলাম’
-
তালশাঁস তো ঢের খেয়েছেন, কিন্তু লস্যি থেকে পায়েস, সেরা ৩ সুস্বাদু রেসিপি জানেন?
-
‘বেকার বলে স্ত্রী, সন্তানের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না স্বামী’, বলল দিল্লি হাই কোর্ট