দোল মানেই রঙে ভেজা সকাল, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-গান আর টেবিলভরা প্রিয় খাবার। মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয়, ভাজাভুজি – সবমিলিয়ে দিনটা একটু বেশি উপভোগ করারই সময়। কিন্তু আনন্দের শেষে যদি পেট ভার, অস্বস্তি বা ক্লান্তি এসে হাজির হয়, তাহলে উৎসবের মেজাজটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই উৎসব থাকুক জমজমাট, শরীরটাও থাকুক স্বস্তিতে।
সকালটা শুরু হোক ঠিকভাবে
অনেকে ভাবেন, সকালে না খেলে পরে নিশ্চিন্তে বেশি খাবার খাওয়া যাবে। বাস্তবে হয় উলটোটা। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। তখন হঠাৎ মিষ্টি আর তেলেভাজার প্রতি টান বেড়ে যায়, আর বুঝে ওঠার আগেই আমরা এসব বেশি খেয়ে ফেলি। তাই সকালে হালকা কিন্তু পুষ্টিকর প্রাতঃরাশ করুন। প্রোটিন ও ফাইবার থাকলে ভালো। সবজি দেওয়া উপমা, চিঁড়ে-দই, ওটস, ডালিয়া—এগুলো দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, শক্তিও দেয়। খেতেও সুস্বাদু আর ভরপুর পুষ্টি।
আরও পড়ুন:

সব নয়, পছন্দটুকুই
উৎসবে খাবারের বাহার থাকবেই। কিন্তু সবকিছু একসঙ্গে খেতে হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। নিজের সবচেয়ে প্রিয় আইটেমটি বেছে নিন। অল্প পরিমাণ নিন, ধীরে খান, স্বাদ উপভোগ করুন। আড্ডা দিতে দিতে স্ন্যাকসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে অজান্তেই অনেকটা খাওয়া হয়ে যায়। তাই প্লেটে যতটা নেবেন, সেটুকুই খান। বারবার হাত বাড়ানো কমান।
জলই সেরা সঙ্গী
দোলের দিন সাধারণত বাইরে কাটে। রোদ, দৌড়ঝাঁপ আর রঙের মাঝে শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত জলপান জরুরি। শুধু ঠান্ডা পানীয় নয়, সাধারণ জলই সেরা। ডাবের জল বা লেবুর শরবত ভাল বিকল্প। লস্যি খেলে বাড়িতে বানানো হলেই ভাল—চিনি কমিয়ে বাদাম, মৌরি যোগ করতে পারেন। তাতে স্বাদও বাড়বে।
প্লেটে থাকুক ভারসাম্য
ভাজাভুজি দিয়ে প্লেট ভরবেন না। আগে অর্ধেকটা স্যালাড বা হালকা সবজি নিন। সঙ্গে ডাল, ছোলা, পনির বা দইয়ের মতো প্রোটিন রাখুন। তারপর অল্প করে মিষ্টি বা ভাজা খাবার নিন। এই সহজ নিয়ম শরীরকে ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণে সাহায্য করে। হঠাৎ অস্বস্তি বা শক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

শরীর থাকুক সচল
হোলিতে রং খেলা, নাচ, হাসিঠাট্টা – সবই একধরনের শরীরচর্চা। সকালে একটু হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করলে শরীর সতেজ থাকে। উৎসব শেষে খাওয়াদাওয়া করে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়ে, সামান্য হাঁটাহাঁটি করলে হজমেও সুবিধা হয়।
আনন্দ থাকুক, অস্বস্তি নয়
একদিন একটু বেশি খেলে তাতে সমস্যা হয় না। সমস্যা তখনই, যখন সেটা নিয়মে পরিণত হয়। তাই দোলের দিনে নিজেকে খাবার থেকে দূরে রাখার প্রয়োজন নেই। শুধু সচেতন থাকুন। রঙ যেমন উজ্জ্বল, তেমনই থাকুক আপনার সুস্থতাও। উৎসব উপভোগ করুন, তবে অবশ্যই শরীরের খেয়াল রেখে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অন্নপূর্ণার তথ্য আপলোডে বাধা! আটক জিয়াগঞ্জের পুরপ্রধান, চলল ডিম থেরাপিও
-
পরিবর্তনের বাংলায় কমল কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা, নবান্নের সুরক্ষা থেকেও সরলেন জওয়ানরা
-
অবশেষে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের অবসান! শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করল ইরান-আমেরিকা, খুলছে হরমুজ
-
রায়গঞ্জ নয়, শিলিগুড়িতে এইমস? ফাঁসিদেওয়া, মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে জমি দেখা শুরু
-
এমআরপির থেকে বেশি দামে আলু টিক্কি বিক্রি! ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা বাংলার শপিং মলের