সিটবেল্ট পরেছেন? গাড়ির দরজা লক করেছেন? তাহলে আর একটা কাজ করুন। চুলে লাগানো ক্ল্যাচারটাও খুলে ফেলুন। শুনতে অবাক লাগছে? যে জিনিসটা কয়েক সেকেন্ডে এলোমেলো চুল গুছিয়ে দেয়, দুর্ঘটনার মুহূর্তে সেই ক্ল্যাচারই মাথায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ঘিরে সম্প্রতি নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ মাথার পিছনে শক্ত ক্ল্যাচার লাগানো থাকলে গাড়ির ধাক্কায় মাথা পিছনের দিকে ছিটকে যাওয়ার সময় সেটি হেডরেস্টের সঙ্গে চেপে যেতে পারে। ফলে মাথার ত্বকে গভীর ক্ষত থেকে শুরু করে আরও গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন:
অর্থাৎ, গাড়িতে ওঠার আগে চুল গুছিয়ে নেওয়া যতটা স্বাভাবিক, দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে ক্ল্যাচার খুলে রাখা ততটাই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।
আরও পড়ুন:

বিপদটা আসলে কোথায়?
বেশিরভাগ ক্ল্যাচার শক্ত প্লাস্টিক বা শক্ত কোনও উপাদানে তৈরি। মাথার পিছনে লাগানো অবস্থায় গাড়ি আচমকা ধাক্কা খেলে মাথা দ্রুত পিছনের দিকে যেতে পারে। তখন ক্ল্যাচারটি মাথা ও হেডরেস্টের মাঝে চাপা পড়তে পারে।
ক্ল্যাচারের শক্ত দাঁত মাথার ত্বকে চাপ তৈরি করে কেটে দিতে পারে। দুর্ঘটনার অভিঘাত বেশি হলে মাথায় আরও গুরুতর চোটের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। তাই সমস্যা ক্ল্যাচার পরার মধ্যে নয়। সমস্যা হল দুর্ঘটনার সময় মাথার ঠিক পিছনে একটি শক্ত বস্তু থাকা।
সোশাল মিডিয়ায় কেন এত আলোচনা?
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ডেথ ইনভেস্টিগেটর’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে জানতে চান, দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা দেখে এমন কোন অভ্যাস তাঁরা নিজেরা এড়িয়ে চলেন। সেখানেই উঠে আসে ক্ল্যাচারের প্রসঙ্গ। এরপর একাধিক মানুষ নিজেদের পরিচিতদের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেন।
৩০ বছর বয়সি এক মহিলা এমন এক ঘটনার কথা জানান, যেখানে তাঁর এক আত্মীয় দু’চাকার গাড়িতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি রাস্তায় পড়ে যান। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, মাথায় লাগানো ক্ল্যাচারটি পড়ে যাওয়ার সময় আঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পরে তাঁকে গুরুতর চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এমন ঘটনা আগেও সামনে এসেছে
ক্ল্যাচার নিয়ে এই সতর্কতা অবশ্য নতুন নয়। গত বছর ২২ বছরের এক অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর গাড়ি দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার সময় মাথায় থাকা ক্ল্যাচারটি ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর কনকাশনের শিকার হন। এরপর গাড়িতে ওঠার সময় ক্ল্যাচার না পরার পরামর্শ দেন তিনি।
তাহলে কি গাড়িতে ক্ল্যাচার পরা বন্ধ করতে হবে?
পুরোপুরি এমনটা বলার কারণ নেই। ক্ল্যাচার নিজে বিপজ্জনক কোনও বস্তু নয়। তবে দুর্ঘটনার সময় মাথার পিছনে শক্ত কোনও অ্যাকসেসরি থাকলে তা অতিরিক্ত আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই গাড়িতে ওঠার আগে ক্ল্যাচারটি খুলে ব্যাগে রেখে দেওয়া সহজ একটি সতর্কতা। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে নরম স্ক্রাঞ্চি বা হেয়ারব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।
সিটবেল্ট যেমন দুর্ঘটনার সময় জীবন বাঁচাতে পারে, তেমনই কিছু ছোট অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় আঘাতের ঝুঁকিও কমাতে পারে। তাই গাড়িতে ওঠার আগে একবার মনে করে দেখুন, মাথার পিছনে শক্ত ক্ল্যাচারটা লাগানো আছে কি না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রোগীর পরিজনদের ‘সাহায্য’ করার নামে প্রতারণা! এসএসকেএম থেকে পুলিশের জালে মহিলা দালাল
-
সীমান্তে সন্ত্রাসবাদীদের ডেরা, চলছে জাল আইডি তৈরি চক্র! শমীকের হুঙ্কার, ‘যে কোনও মূল্যে বন্ধ করবই’
-
মহিলা যাত্রী তুলতে অনীহা-হেনস্তা! অভিযোগ শুনতে চালু হেল্পলাইন, আর কী নির্দেশ অর্জুনের?
-
যেন মেয়েদের শচীন! এক ইনিংসেই জোড়া সর্বকালীন রেকর্ড স্মৃতির, এশিয়া কাপের সেমিতে ভারত
-
‘নো এন্ট্রি’ অথচ শহরে ঢুকছে বেআইনি ট্রাক! পুলিশের জালে সিন্ডিকেটের পান্ডা, নেপথ্যে কারা?