জ্বর কমেছে। শরীরও আগের চেয়ে অনেকটা ভালো। তাই কি ধরে নেবেন এইচ১এন১ বা সোয়াইন ফ্লুর অধ্যায় শেষ? চিকিৎসকদের মতে, ঠিক এখানেই অনেকে ভুল করেন।
থার্মোমিটারে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলেও শরীরের ভিতরে সংক্রমণের ধকল পুরোপুরি কাটতে সময় লাগতে পারে। কাশি, ক্লান্তি বা আগের মতো পরিশ্রম করতে না পারার সমস্যা কিছু দিন থেকে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর চলে যাওয়াকে সম্পূর্ণ সুস্থতার সমার্থক ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সংক্রমণের তীব্রতা কমলেও শ্বাসনালির প্রদাহ, দুর্বলতা এবং শরীরের কর্মক্ষমতা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই সোয়াইন ফ্লু বা অন্য কোনও ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে সেরে ওঠার সময়ে এই ৭টি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি।
আরও পড়ুন:

১. জ্বর কমতেই জিমে দৌড়
জ্বর চলে গিয়েছে মানেই শরীর আগের মতো কঠোর ব্যায়ামের জন্য তৈরি, এমনটা ভাববেন না। ফ্লুয়ের পরে কিছু দিন ক্লান্তি থাকতে পারে, শ্বাসপ্রশ্বাসেও আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্য নাও ফিরতে পারে।
তাই জ্বর কমার পরের দিনই জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলা, দীর্ঘক্ষণ দৌড়ানো বা কঠোর শরীরচর্চা শুরু করা ঠিক নয়। শরীরের শক্তি, খিদে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রেখে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজ ও শরীরচর্চায় ফেরা ভালো।
২. উপসর্গ নিয়েই কাজে ফেরা
জ্বর নেই বলে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে অফিস বা স্বাভাবিক ব্যস্ত জীবনে ফিরে যান। কিন্তু এখনও যদি কাশি, ক্লান্তি বা অসুস্থতা থাকে, তা হলে শরীরের আরও বিশ্রামের প্রয়োজন হতে পারে। কাজে ফেরার আগে সামগ্রিকভাবে উপসর্গের উন্নতি হচ্ছে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক নয়
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। তাই সাধারণ ফ্লু সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার কোনও যুক্তি নেই।
অবশ্য ফ্লুয়ের পরে কোনও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। কিন্তু সেটা রোগের জটিলতা ও রোগীর অবস্থা দেখে চিকিৎসকই ঠিক করবেন। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যাও বাড়তে পারে।

৪. কম জল পান
জ্বর ও ঘামের কারণে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়। অসুস্থতার সময়ে খিদে ও তেষ্টাও অনেকের কমে যায়। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
সেরে ওঠার সময়ে তাই পর্যাপ্ত জল ও উপযুক্ত তরল গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে অসুস্থতার সময়ে যদি খাওয়া-দাওয়া কমে গিয়ে থাকে, তা হলে শরীরে জলের চাহিদার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
৫. বিশ্রামকে গুরুত্ব না দেওয়া
ফ্লু থেকে ওঠার পরেও অনেকের শরীর দুর্বল লাগে। কিন্তু এই ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে অনেকে আগের মতো ব্যস্ত রুটিনে ফিরতে চান। ঘুম কমিয়ে দেওয়া, খাবার স্কিপ করা বা শরীরকে বিশ্রামের সুযোগ না দেওয়া, এসব ভুল আরও ক্লান্ত করে দিতে পারে।
এই সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার এবং সুষম পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফল ও শাকসবজিসহ সুষম খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।
৬. ধূমপান বা ভেপিং
ইনফ্লুয়েঞ্জার ধকল কাটিয়ে ওঠার সময়ে শ্বাসনালি কিছুটা সংবেদনশীল থাকতে পারে। এই সময়ে ধূমপান বা ভেপিং শ্বাসনালির সমস্যাকে আবার বাড়াতে পারে।
কাশি, বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্ট থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সুস্থ হওয়ার সময়ে তামাকের ধোঁয়া এবং অন্যান্য শ্বাসনালির ক্ষতিকর উপাদান এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৭. ভালো হওয়ার পর ফের উপসর্গ দেখা দিলেও অবহেলা
প্রথমে মনে হল শরীর ভালো হচ্ছে। কিন্তু কয়েক দিন পর ফের জ্বর এল, কাশি বেড়ে গেল বা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
ইনফ্লুয়েঞ্জার পরে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উপসর্গ কিছুটা কমার পর ফের জ্বর বা কাশি বেড়ে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা শরীরের অবস্থা খারাপের দিকে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
জ্বর নেই, তবু দুর্বল লাগছে কেন?
ইনফ্লুয়েঞ্জার তীব্র উপসর্গ সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে কমে এলেও কাশি ও দুর্বলতা আরও দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। বিশেষত প্রবীণ বা যাঁদের দীর্ঘদিনের ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ বেশি দিন স্থায়ী হতে পারে।
তাই শুধু জ্বর চলে গিয়েছে বলে নিজেকে পুরোপুরি সুস্থ ভাবার কারণ নেই। শরীরের শক্তি ফিরছে কি না, খিদে কেমন, স্বাভাবিক কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে কি না বা শ্বাসপ্রশ্বাসে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না—সেগুলিও সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

জোর করে ক্লান্তি কাটানো সম্ভব?
একেবারেই নয়। ফ্লুয়ের পরে দুর্বলতা বা ক্লান্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়। শরীর সংক্রমণের ধকল সামলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় নেয়।
তাই ‘আগের মতোই কাজ করতেই হবে’, এই মানসিকতা না রেখে শরীরকে সময় দিন। ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ বাড়ান। শরীর কেমন সাড়া দিচ্ছে, সেটাই হোক আপনার সবচেয়ে বড় নির্দেশক।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ফ্লু থেকে সেরে ওঠার পথে হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে তা গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে প্রথমে উপসর্গ কমার পর যদি আবার জ্বর আসে বা কাশি বেড়ে যায়, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
এ ছাড়াও শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব বা বিভ্রান্তি, তীব্র দুর্বলতা বা অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
মনে রাখুন, এইচ১এন১ বা ফ্লুতে জ্বর কমা মানেই সুস্থতার শেষ ধাপ নয়। বরং সেই সময় থেকেই শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সাহায্য করা জরুরি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, জল পান এবং শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর—এই কয়েকটি বিষয়ই নিরাপদে সুস্থ হয়ে ওঠার পথে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নেপালে প্রলয়ের ফল, বিহারে ভেসে আসছে ‘অজানা মাছ’, বিপজ্জনক মৎস্যমুখে বারণ প্রশাসনের
-
বন্ধ হবে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস? কড়া নোটিস দমকলের, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব তলব
-
শুরু প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া, কলকাতা পুরসভায় ২০৯ আসনেই লড়বে ঋতব্রতর ‘আসল’ তৃণমূল
-
শ্রদ্ধাঞ্জলি পদযাত্রা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, উত্তম কুমারের মতো সাজলেই সেরাদের পুরস্কৃত করবে রাজ্য সরকার
-
হার্ট নিয়ে চিন্তা? ওষুধ নয়, পাতে এই ১১ ফল রাখলেই কেল্লাফতে!