Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
Google Lab Mosquitoes

গুগল এবার ছাড়বে ৩ কোটি ২০ লক্ষ মশা! কারণ জানলে অবাক হবেন

অনুমোদন মিললে এটি হতে পারে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মশা নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগুলির একটি। আর সফল হলে ভবিষ্যতে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ছবিটাই বদলে যেতে পারে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১, ২০২৬, ১৪:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১, ২০২৬, ১৪:৩৭

options
link
গুগল এবার ছাড়বে ৩ কোটি ২০ লক্ষ মশা! কারণ জানলে অবাক হবেন zoom
মশার উপদ্রব কমাবে মশা! ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

শুনতে যেন হলিউডের কোনও সায়েন্স ফিকশন সিনেমার গল্প। কিন্তু বাস্তবেই এবার মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা গুগলের। ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার মতো ভয়ংকর রোগ ঠেকাতে আমেরিকায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ বিশেষভাবে তৈরি মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে গুগল।

ইউনাইটেড স্টেটস এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ)-র কাছে ইতিমধ্যেই অনুমতির আবেদন জমা পড়েছে। সবুজ সংকেত মিললেই ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে ছাড়া হবে এই ল্যাব-তৈরি পুরুষ মশা।

Advertisement
google lab mosquitoes release to stop malaria dengue diseases
মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচাবে মশা! ছবি: সংগৃহীত

মশা কমাতে মশা কেন?
প্রশ্নটা স্বাভাবিক। তবে বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা বেশ চমকপ্রদ। এই বিশেষ পুরুষ মশাগুলির শরীরে রয়েছে ‘Wolbachia pipientis’ নামে এক ধরনের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। এরা যখন সাধারণ স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হবে, তখন সেই ডিম আর ফুটবে না। ফলে ধীরে ধীরে কমতে থাকবে মশার সংখ্যা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। শুধুমাত্র স্ত্রী মশাই রোগ ছড়ায়। তাই এই প্রকল্পে মানুষের উপর অতিরিক্ত মশার আক্রমণের আশঙ্কা নেই বলেই দাবি গবেষকদের।

গুগলের ‘ডিবাগ’ প্রকল্প কী?
২০১৪ সালে গুগল তাদের গবেষণা শাখার মাধ্যমে ‘ডিবাগ’ নামে এই প্রকল্প শুরু করে। লক্ষ্য একটাই—রাসায়নিক কীটনাশকের বদলে আরও নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ। প্রকল্পটির দাবি, তারা বিজ্ঞানী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে মশাবাহিত রোগের ভয় অনেকটাই কমানো যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হন। বহু মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

google lab mosquitoes release to stop malaria dengue diseases
কমবে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার দাপট? ছবি: সংগৃহীত

আগেও সফল হয়েছে এই প্রযুক্তি
এই পদ্ধতি একেবারে নতুন নয়। বহু বছর ধরেই ‘স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক’ ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আগে পশুদের শরীরে ভয়ংকর সংক্রমণ ছড়ানো ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ এবং ফলের ক্ষতিকর মাছি নিয়ন্ত্রণেও এই প্রযুক্তি সফল হয়েছিল। এবার সেই একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে মশার বিরুদ্ধে।

উদ্বেগও রয়েছে
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। পরিবেশবিদদের একাংশের প্রশ্ন, ল্যাব-তৈরি বা ব্যাকটেরিয়া-বহনকারী মশা প্রকৃতির ভারসাম্যে কোনও অজানা প্রভাব ফেলবে না তো?
যদিও বিজ্ঞানীদের দাবি, এই ব্যাকটেরিয়া প্রকৃতিতেই বহু পোকামাকড়ের শরীরে স্বাভাবিকভাবে থাকে। এছাড়া মশাগুলিও স্থায়ীভাবে টিকে থাকার জন্য তৈরি করা হয়নি।

অনুমোদন মিললে এটি হতে পারে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মশা নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগুলির একটি। আর সফল হলে ভবিষ্যতে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ছবিটাই বদলে যেতে পারে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.