Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Fatty Liver

চুপিসারে বাড়ছে ফ্যাটি লিভার! প্রতিদিনের অভ্যাসেই কীভাবে রুখবেন ঝুঁকি, জানালেন বিশেষজ্ঞ

ফ্যাটি লিভার আজ আর বিরল কোনও সমস্যা নয়। চিন্তার বিষয়, এই রোগের শুরুতে তেমন কোনও লক্ষণ থাকে না। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে লিভারের ক্ষতি চলতেই থাকে। তাই উপসর্গের অপেক্ষা না করে, সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

Advertisement
ডা. কেডি বিশ্বাস
ডা. কেডি বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ১, ২০২৬, ১৪:১০

link
ডা. কেডি বিশ্বাস
ডা. কেডি বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ১, ২০২৬, ১৪:১০

options
link
চুপিসারে বাড়ছে ফ্যাটি লিভার! প্রতিদিনের অভ্যাসেই কীভাবে রুখবেন ঝুঁকি, জানালেন বিশেষজ্ঞ zoom
নীরবে বাড়ছে ফ্যাটি লিভার। ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাটি লিভার বলতে বোঝায়, লিভারের কোষে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি জমে যাওয়া। সাধারণভাবে লিভারের মোট ওজনের ৫ শতাংশের বেশি ফ্যাট থাকলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। একসময় মনে করা হত, এটি শুধু মদ্যপানের ফল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। স্থূলতা, ডায়াবেটিস মেলাইটাস এবং ডিসলিপিডেমিয়া, বিশেষ করে যেখানে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি, এসব কারণেই বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের (Fatty Liver) ঝুঁকি।

Preventing Fatty Liver: Diet and Lifestyle Tips from Experts
নীরব বিপদ। ছবি: সংগৃহীত

উপসর্গ না থাকাই সবচেয়ে বড় সমস্যা
ফ্যাটি লিভারের শুরুতে সাধারণত কোনও উপসর্গ থাকে না। তাই অনেক সময় চিকিৎসকের কাছেও প্রথম দিকে ধরা পড়ে না। এক স্টেজ থেকে আরেক স্টেজে রোগ এগিয়ে যায় অজান্তেই। অনেক ক্ষেত্রে অন্য কোনও কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে বা আলট্রাসাউন্ডে হঠাৎ এই সমস্যা ধরা পড়ে।

Advertisement

কীভাবে ধরা পড়ে এই রোগ?
ডায়াগনোসিসের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে আলট্রাসাউন্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তার সঙ্গে রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে ট্রাইগ্লিসারাইড ও লিভার এনজাইমের মাত্রা দেখা হয়। প্রয়োজনে ফাইব্রোস্ক্যান করা হয়, যা লিভারের স্টিফনেস বা ফাইব্রোসিসের অবস্থা বোঝাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে ফ্যাটি লিভারের গ্রেডিং বা পর্যায় এবং রোগ কতটা এগিয়েছে তা নির্ধারণ করা যায়।

Fatty Liver Risk: Prevention Tips from Experts on Diet and Lifestyle
উপসর্গকে অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত

কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যাঁদের ওজন বেশি, বিশেষ করে বিএমআই ২৭-এর উপরে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। এছাড়া যাঁদের কোলেস্টেরল বা লিপিড প্রোফাইল মাত্রাতিরিক্ত বেশি বা যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের নিয়মিত লিভার টেস্ট করানো উচিত। কারণ উপসর্গ না থাকলেও রোগ ভেতরে ভেতরে বাড়তে পারে।

কতদিন অন্তর পরীক্ষা জরুরি?
যেহেতু ফ্যাটি লিভারের কোনও স্পষ্ট উপসর্গ নেই, তাই রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। যদি কোনও কারণে কোলেস্টেরল বেশি ধরা পড়ে বা অন্য কোনও রিপোর্টে সন্দেহজনক কিছু দেখা যায়, তাহলে লিভারের পরীক্ষা করানো উচিত। ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

How to Prevent Fatty Liver: Expert Advice on Diet and Lifestyle
লিভারের সুস্থতায় ডায়েটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জীবনযাত্রার পরিবর্তনই মূল চাবিকাঠি
ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এখনও এমন কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, যা একাই রোগ সারিয়ে দিতে পারে। চিকিৎসা মূলত নির্ভর করে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের উপর। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা, মদ্যপান এড়ানো এবং নিয়মিত শরীরচর্চা—এই বিষয়গুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা বা অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কখন ওষুধের প্রয়োজন হয়?
যদি দেখা যায় লিভারে স্টিফনেস বেড়েছে বা স্টিয়াটো হেপাটাইটিসের মতো জটিলতা তৈরি হয়েছে, তখন চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। বর্তমানে এমন কিছু ওষুধ বা মলিকিউল রয়েছে, যা সুগার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং কিছু ক্ষেত্রে লিভারের অবস্থাও উন্নত করতে পারে। তবে এগুলো সব রোগীর জন্য নয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।

Fatty Liver Prevention: Expert Tips on Diet and Lifestyle
জরুরি শরীরচর্চা। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় উপায়
একবার ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিসে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি অনেক জটিল হয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে এখন ফ্যাটি লিভারজনিত সিরোসিস লিভার ট্রান্সপ্লান্টের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠছে। তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার। খাওয়াদাওয়া ও জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তনই ভবিষ্যতে বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে। লিভার ডে আমাদের সেই বার্তাই আবার মনে করিয়ে দেয়- প্রতিরোধই সব থেকে শক্তিশালী উপায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.