ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। শুরু হয়ে যায় ওষুধ খোঁজার তাড়াহুড়ো। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হয়তো কোনও ট্যাবলেট নয়, বরং দরকার জীবনযাপনে বদল।
আজকের ব্যস্ত, বসে কাজ করার অভ্যাসে ভরা জীবনে ফ্যাটি লিভার এখন নীরব মহামারির মতো ছড়াচ্ছে। স্থূলতা, কম ঘুম, প্রসেসড খাবার, সফট ড্রিংক, রাত জাগা, স্ট্রেস, শরীরচর্চার অভাব— সব মিলিয়ে চুপিসারে লিভারের ভেতরে জমতে থাকে চর্বি। সমস্যা হল, শরীর অনেক সময় কোনও লক্ষণই দেয় না। নিয়মিত চেকআপ বা আল্ট্রাসাউন্ডে আচমকাই ধরা পড়ে রোগটি।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের কথায়, লাইফস্টাইলই সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ। নিয়ম মেনে জীবনযাত্রায় কিছু বদল আনতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ছাড়াই ফ্যাটি লিভারে সুস্থতা সম্ভব।
আরও পড়ুন:

চিনি: লিভারের নীরব শত্রু
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ লিভারের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকারকগুলির মধ্যে একটি। কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস, বিস্কুট, মিষ্টি বা অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার শরীরে এমন চাপ তৈরি করে, যার বাড়তি অংশ জমতে থাকে লিভারে চর্বি হিসেবে। বহু রোগীর ক্ষেত্রেই শুধু চিনি কমানোর পর লিভারের রিপোর্টে উন্নতি দেখা গিয়েছে।
হাঁটলেই বদলাতে পারে ছবি
ফ্যাটি লিভার মানেই জিমের কঠিন রুটিন, এমনটা নয়। বরং নিয়মিত হাঁটাই বড় ওষুধ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত ৫-৬ দিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে যোগব্যায়াম, স্কোয়াট, পুশ-আপ বা হালকা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে লিভারের উপর চাপ কমে।

কম ঘুমেও বাড়ছে বিপদ
রাত জাগা এখন অনেকের অভ্যাস। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম ঘুম ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। কর্টিসল ও ইনসুলিনের পরিবর্তনের প্রভাব গিয়ে পড়ে লিভারের উপরও। তাই প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমকে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
ওজন কমলে কমতে পারে লিভারের চর্বিও
শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলেই ফ্যাটি লিভারের যথেষ্ট উন্নতি হতে পারে। তবে হঠাৎ না খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা বিপজ্জনক। ক্র্যাশ ডায়েট উলটে লিভারের ক্ষতি বাড়াতে পারে।

অ্যালকোহল ‘সামান্য’ হলেও ক্ষতি
অনেকে ভাবেন, সপ্তাহে এক-দু’দিন অ্যালকোহল পানে সমস্যা নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, লিভার যখন ইতিমধ্যেই চাপে রয়েছে, তখন অল্প অ্যালকোহলও সুস্থ হয়ে ওঠার গতি কমিয়ে দিতে পারে।
কী খাবেন?
- বাড়ির তৈরি খাবার
- পরিমাণ মতো শাকসবজি ও ফল
- ডিম, মাছ, দানাশস্য
- পরিমিত পরিমাণ জল

এড়িয়ে চলুন—
- ডিপ ফ্রাই খাবার
- অতিরিক্ত চিনি
- প্রসেসড ও প্যাকেটজাত খাবার
- রাতে ভারী খাবার
ফ্যাটি লিভার ধরা পড়া মানেই আতঙ্ক নয়। সময় থাকতে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, হাঁটা আর ওজন নিয়ন্ত্রণে নজর দিলে অনেক ক্ষেত্রেই লিভার আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের