শরীরচর্চা শেষ। ঘামে ভেজা শরীর একটু বিশ্রাম চাইছে। কিন্তু বিশ্রাম নিতে না নিতেই পায়ের পেশিতে টান, ব্যথা বা আচমকা ক্র্যাম্প! বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর ব্যায়াম করলে বা অনেকক্ষণ শরীরচর্চা করলে বা গরমে বেশি ঘামলে এমনটা হতে পারে।
কারণ, ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে শুধু জল নয়, বেরিয়ে যায় সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটও। ফলে ব্যায়ামের পর শুধু জল পানেই সবসময় শরীরের হারানো ভারসাম্য ফিরবে, এমন নয়। পরিস্থিতি বুঝে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয়ও প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুন:
তবে তার জন্য সবসময় বাজারচলতি স্পোর্টস ড্রিঙ্কের প্রয়োজন নেই। হাতের কাছেই রয়েছে কয়েকটি সহজ প্রাকৃতিক বিকল্প।
আরও পড়ুন:

ডাবের জল
ব্যায়ামের পর ডাবের জল হতে পারে নিজেকে সতেজ করার একটি মাধ্যম। এতে পটাশিয়ামের পাশাপাশি কিছুটা পরিমাণে থাকে সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামও। ফলে শরীরে তরলের জোগানোর পাশাপাশি ঘামের সঙ্গে হারানো কিছু ইলেকট্রোলাইট পূরণে সাহায্য করে ডাবের জল।

হালকা ব্যায়ামের পর ২৫০-৩০০ মিলিলিটার, মাঝারি মাত্রায় ঘাম হলে ৩০০-৫০০ মিলিলিটার এবং দীর্ঘক্ষণ দৌড়, সাইক্লিং বা গরমে শরীরচর্চার পর ৫০০-৭৫০ মিলিলিটার পর্যন্ত ডাবের জল পান করা যেতে পারে। তবে এই পরিমাণ সবার জন্য এক নয়; ঘামের পরিমাণ ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী তা বদলাতে হবে। কিডনির অসুখ থাকলে ডাবের জল পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নুন-লেবুর জল
শরীরচর্চার পর এক গ্লাস জলে লেবুর রস ও সামান্য নুন মিশিয়ে পান করতে পারেন। ঘামের সঙ্গে হারানো সোডিয়ামের কিছুটা পূরণ করতে নুন সাহায্য করতে পারে।

তবে লেবু-নুনের জলকে সম্পূর্ণ ইলেকট্রোলাইট পানীয় ভাবা ঠিক নয়। এতে সোডিয়াম মিললেও পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজের পরিমাণ সীমিত। তাই দীর্ঘক্ষণ বা খুব বেশি ঘাম ঝরানো ব্যায়ামের পর শুধুমাত্র নুন-লেবুর জল যথেষ্ট নাও হতে পারে।
দইয়ের ঘোল
গরমের দিনে ব্যায়ামের পর উপকারী এক গ্লাস দইয়ের ঘোল। দই প্রো-বায়োটিকের খুব ভালো উৎস। এতে জল, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের পাশাপাশি থাকে কিছুটা প্রোটিন।

ফলে শরীরে তরল জোগানোর সঙ্গে পেশির পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করতে পারে। তবে ঘোলে অতিরিক্ত নুন বা চিনি মেশানো ঠিক নয়। পরিমিত নুন দিয়ে তৈরি ঘোলই বেছে নেওয়া ভালো।
কখন বুঝবেন শুধু জল যথেষ্ট নয়?
ব্যায়ামের পর বারবার পেশিতে টান ধরা, অস্বাভাবিক ঘাম, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা মাথাব্যথা হলে শরীরে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যের দিকে নজর দেওয়া দরকার। তবে এই উপসর্গগুলির অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই বারবার এমন হলে শুধু পানীয় বদল না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ক্র্যাম্প ঠেকাতে আরও যা জরুরি
ব্যায়ামের এক-দু’ঘণ্টা আগে পর্যাপ্ত জল পান করুন। হঠাৎ করে শরীরচর্চার সময় বা তীব্রতা বাড়াবেন না। নিয়মিত খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খান। ব্যায়ামের আগে ও পরে স্ট্রেচিং এবং কুল-ডাউন করুন। দীর্ঘক্ষণ বা প্রচণ্ড গরমে ব্যায়াম করলে শরীর থেকে কতটা জল ও ইলেকট্রোলাইট বেরোচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?
ব্যায়াম না করেও যদি বারবার অকারণে পেশিতে টান ধরে, কিংবা ক্র্যাম্পের সঙ্গে অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ফোলাভাব থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পর্যাপ্ত জল পান ও ইলেকট্রোলাইট নেওয়ার পরও সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা কোনও শারীরিক অসুস্থতার সন্দেহ থাকলে দেরি করবেন না।
শরীরচর্চার পর পেশির ক্র্যাম্পকে সবসময় অবহেলা করবেন না। কখন শুধু জল যথেষ্ট, আর কখন শরীর চাইছে ইলেকট্রোলাইট—সেটা বুঝে পানীয় বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
একশোর বদলে পাঁচশোর নোটের টোপ! কমিশনের লোভে ব্যবসায়ী পেলেন সাদা কাগজের টুকরো
-
তৃণমূল জমানায় অবহেলা! দুর্যোগ-বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গকে স্বমহিমায় ফেরাতে আড়াইশো কোটি বরাদ্দ শুভেন্দুর
-
নিজের গড় রেজিনগরেই হারের ভয়! উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মহাজোট চাইছেন হুমায়ুন
-
আপত্তি শুধু ‘সেক্যুলার’ কংগ্রেসের! নিয়ম মেনে বন্দে মাতরম পুরোটা দাঁড়িয়ে সম্মান আবদুল্লাদের
-
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন