ফুটবল মাঠে তিনি যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা আর গোল করার সহজাত ক্ষমতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ভেঙে দেন মুহূর্তে। অথচ মাঠের বাইরে এই মানুষটিকে দেখা যায় প্রাণখোলা হাসি, আড্ডা বা মজার ভিডিওতে। এই বৈপরীত্যই বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার নরওয়ের আর্লিং হালান্ড (Erling Haaland)-কে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, হালান্ড নাকি বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষের তুলনায় বেশি সুস্থ! যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন বা তথ্য নেই, তবু তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরন দেখলে বোঝা যায় কেন এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। হালান্ডের জীবনযাপনের প্রতিটি অংশই যেন একটি উদ্দেশ্যকে ঘিরে তৈরি, শরীর ও মনকে সর্বোচ্চ কর্মক্ষম রাখা।
আরও পড়ুন:
খাবার তাঁর কাছে শুধু পেট ভরানোর উপায় নয়
সাধারণ মানুষের কাছে খাবার স্বাদের বিষয় হতে পারে, কিন্তু হল্যান্ডের কাছে প্রতিটি খাবারই শরীরের জন্য জ্বালানি। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। তবে সেই ক্যালরির বড় অংশই আসে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার থেকে। প্রাতরাশে থাকে ডিম ও সাওয়ারডো ব্রেড। দিনের বাকি সময়ে খাদ্যতালিকায় থাকে উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন অর্গ্যানিক মিট। পাশাপাশি তাঁর পছন্দের তালিকায় থাকে খাঁটি মধু ও ফ্যাট-ফ্রি তাজা দুধ। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার তিনি এড়িয়ে চলেন।
আরও পড়ুন:

ঘুমকে ওষুধের মতো গুরুত্ব
শুধু অনুশীলন নয়, ভালো ঘুমও একজন ক্রীড়াবিদের পারফরম্যান্স নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়। ঘুমনোর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে হল্যান্ড ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমা ব্যবহার করেন, যাতে স্ক্রিনের আলো শরীরের স্বাভাবিক মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা না দেয়। আর রাতে ঘুমনোর সময় তাঁর অভ্যাস মাউথ টেপ ব্যবহার, যাতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস বজায় থাকে। নিয়মিত রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়াও তাঁর রুটিনের অংশ।
সকাল শুরু হয় প্রকৃতির সঙ্গে
ঘুম থেকে উঠেই তিনি কিছু সময় সূর্যালোকে থাকেন এবং অন্তত ১০ মিনিট বাইরে হাঁটেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে সূর্যের আলো শরীরের জৈবঘড়ি সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং ঘুমের মান উন্নত করতেও ভূমিকা নেয়। এছাড়া রেড লাইট থেরাপিও রয়েছে তাঁর রুটিনে। যদিও এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

অনুশীলনের পরও শরীরের যত্নে কোনও ছাড় নেই
কঠোর অনুশীলনের পরে শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করাও হালান্ডের দৈনন্দিন পরিকল্পনার অংশ। সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন আইস বাথ ও এক বিশেষ ধরনের উষ্ণ স্নানাগারে স্নান তাঁর হেলথ রুটিনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিনিট ধরে হিপ ফ্লেক্সর, গ্রোইন এবং হ্যামস্ট্রিংয়ের বিশেষ স্ট্রেচিংও করেন তিনি। এসব অভ্যাস পেশিকে সচল রাখতে এবং চোটের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
সাফল্যের নেপথ্যে যে অভ্যাস
হালান্ডের জীবনযাপনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো তাঁর খাদ্যতালিকা বা আইস বাথ নয়, বরং ধারাবাহিকতা। প্রতিদিন একই শৃঙ্খলা মেনে চলা, শরীরের প্রতি যত্নশীল থাকা এবং বিশ্রামকে অনুশীলনের মতোই গুরুত্ব দেওয়াই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

তবে হালান্ডের এই রুটিন একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য তৈরি। তাই তাঁর প্রতিদিনের ৬ হাজার ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস বা অনুশীলন সাধারণ মানুষের অনুসরণযোগ্য নয়। বরং তাঁর জীবন থেকে শেখার বিষয় হল সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক শান্তি এবং জীবনযাপনে শৃঙ্খলা।
হল্যান্ড সত্যিই বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষের চেয়ে বেশি সুস্থ কি না, তার নির্দিষ্ট উত্তর হয়তো নেই। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত, অসাধারণ প্রতিভাকে বিশ্বসেরার পর্যায়ে ধরে রাখতে যে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নিয়মের প্রয়োজন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ আর্লিং হালান্ড।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘স্বপ্নই দেখুন, বাগরাম পাবেন না’, ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি তালিবানের
-
দেহ রাখতে চলেছে ফ্রিজ! বুঝে নিন সহজেই, স্রেফ এই বিষয়গুলি খেয়াল রাখুন
-
মদ্যপানে শুধু লিভার নষ্ট হয় ভাবছেন? জানেন, মস্তিষ্কের কী মারাত্মক ক্ষতি করে অ্যালকোহল?
-
‘মুখ্যমন্ত্রী ভালো কাজ করছেন’, বারুইপুর কাণ্ডে শুভেন্দুর ভূমিকায় ভূয়সী প্রশংসা অরূপের!
-
মৃতদেহের উপর আসীন দেবী, ছিল তান্ত্রিকদের সাধনাস্থল! রহস্যে মোড়া কপালিনী দেবীর মন্দির