পা উঁচু করে শুলেই নাকি হৃদযন্ত্র ভালো থাকে! সোশাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে এমন দাবি। কিন্তু সত্যিই কি পায়ের অবস্থান বদলালেই হৃদযন্ত্রের শক্তি বাড়ে? নাকি এর উপকার অন্য জায়গায়?
পা উঁচু করে শুলে শরীরে কী হয়?
শোয়ার পর পা শরীর থেকে কিছুটা উঁচু করে রাখলে মাধ্যাকর্ষণের সাহায্যে পায়ের শিরা দিয়ে রক্ত এবং লসিকাতন্ত্রের মাধ্যমে জমে থাকা তরল শরীরের উপরের দিকে ফিরতে সুবিধা হয়। ফলে পায়ে জমে থাকা তরল কিছুটা কমতে পারে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটার পর পা ভারী লাগা, ফোলা বা ক্লান্তির ক্ষেত্রেও সাময়িক আরাম মিলতে পারে।
আরও পড়ুন:
এই কারণেই কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরাও পা উঁচু করে রাখতে বলেন। যেমন পা ফোলা বা ইডিমা থাকলে পায়ের নিচে বালিশ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভ্যারিকোজ ভেইনেও মিলতে পারে আরাম
ভ্যারিকোজ ভেইন বা লিম্ফেডিমার মতো সমস্যায় পা উঁচু করে রাখলে পায়ের রক্ত ও তরল উপরের দিকে ফিরতে সুবিধা হয়। ফলে ফোলা, ভারী ভাব বা অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি স্থায়ী চিকিৎসা নয়, মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
হৃদযন্ত্রের জন্য কি সত্যিই উপকারী?
এখানেই ভুল ধারণা। পা উঁচু করে রাখলে রক্তের প্রবাহে সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু তাতে হৃদযন্ত্রের পেশি শক্তিশালী হয় না। হৃদরোগ প্রতিরোধেও পা উঁচু করে রাখার কোনও প্রমাণিত ভূমিকা নেই। অর্থাৎ, পা উঁচু করে রাখা উপকারী হতে পারে, কিন্তু তা হৃদযন্ত্র শক্তিশালী করার ব্যায়াম নয়।

তবে একেবারেই অপ্রয়োজনীয় নয়
পায়ের রক্তসঞ্চালন ও ফোলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হাঁটা, পায়ের পেশির ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কম্প্রেশন থেরাপিও প্রয়োগ করা যেতে পারে।
তাই পা উঁচু করে শোয়ার অভ্যাসকে একেবারে অপ্রয়োজনীয় বলা যাবে না। পা ফোলা বা ভারী লাগলে তা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু হৃদযন্ত্র ভালো রাখার টোটকা হিসেবে এই পদ্ধতির কোনও গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নিজেকে ভারতীয় রাগবি দলের সদস্য বলে দাবি, গুরুগ্রামে বাইকার তরুণীকে ধাক্কা দেওয়া যুবক আসলে কে?
-
তিন বছরে তৃতীয়বার, উত্তরপ্রদেশে আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙচুর!
-
‘কুঁড়ে’ প্রতিযোগীদের উপর রেগে কাঁই ‘বিগ বস’, সবাইকে ছাঁটাই! ব্রহ্মাস্ত্রে কাকে বাঁচাবেন জীতু?
-
পুজো উদ্যোক্তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে রুদ্রনীলের নেতৃত্বে সমিতি বিজেপির! ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসবে’র ভবিষ্যৎ?
-
একঘণ্টা অপেক্ষার পরও আসেননি অধ্যক্ষ, কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি দায়িত্ব নিজেই নিলেন কৌস্তভ!