দীপিকা পাডুকোন (Deepika Padukone) ও রণবীর সিং (Ranveer Singh) তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানের খবর জানাতেই সামনে এসে হাজির একটি প্রশ্ন। ৪০-এর পরে মা হওয়া কতটা নিরাপদ? তবে ৪০-এর কোঠায় গর্ভধারণ আজ আর বিস্ময়ের বিষয় নয়, বরং অনেক নারীর কাছে এটি এক সচেতন, সময়মতো নেওয়া সিদ্ধান্ত। তবে এই পথ যতটাই ব্যক্তিগত ও স্বাধীনতার প্রতীক হোক, বয়সের সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলোকে অগ্রাহ্য করা যায় না। তাই দেরিতে মাতৃত্ব মানে শুধু আনন্দের অপেক্ষা নয়, পাশাপাশি কিছু বাড়তি সতর্কতা এবং সঠিক প্রস্তুতির দরকার।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণকে বলা হয় ‘অ্যাডভান্সড মেটার্নাল এজ’। এই বয়সে গর্ভধারণ অসম্ভব বা অস্বাভাবিক নয়। বরং সঠিক যত্নে অনেক নারীই সুস্থভাবে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:
বয়সের সঙ্গে শরীরে বদল
সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্য, ডিম্বাণুর গুণমান, রক্তনালীর নমনীয়তা- সবকিছুতেই পরিবর্তন আসে। ফলে গর্ভাবস্থায় শরীরকে নতুন করে মানিয়ে নিতে হয়। এই মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেই কিছু ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দেরিতে গর্ভধারণে যে ঝুঁকিগুলি বেশি দেখা যায়
উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া
বয়স বাড়লে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। এর জটিল রূপ প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, যেখানে রক্তচাপের সঙ্গে লিভার বা কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সময়মতো ধরা না পড়লে এটি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস (Gestational diabetes) দেরিতে গর্ভধারণে বেশি দেখা যায়। ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এতে শিশুর ওজন বেশি হওয়া, প্রসবে জটিলতা, এমনকী ভবিষ্যতে মায়ের টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
গর্ভপাতের ঝুঁকি
বয়সের সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণগত মান কমে যায় এবং ক্রোমোজোমের ত্রুটির সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে গর্ভপাতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়, বিশেষ করে ৪০-এর পরে।
প্রসবের সময় জটিলতা
দেরিতে মা হলে প্রসবের সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে প্রসব বেদনা, গর্ভস্থ সন্তানের অবস্থানগত সমস্যার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন দেখা দেয়।

সময়ের আগেই প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী সমস্যা
৩৭ সপ্তাহের আগেই শিশুর জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি থাকে। এতে নবজাতকের বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি মায়ের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত রক্তপাত, ক্লান্তি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভয় নয়
দেরিতে মাতৃত্ব মানেই ভয় নয়, তবে সচেতন থাকা জরুরি। নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন এবং শারীরিক সুস্থতা- এই চারটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনে মাতৃত্বের সময় ঠিক করার অধিকার অনেকটাই নারীর নিজের হাতে। তবে সিদ্ধান্ত যেন হয় সচেতন এবং থাকে যেন শরীরের প্রতি দায়বদ্ধ- এই ভারসাম্যটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘সুস্থ’ থাকবে ইঞ্জিন! বাজারে বিশেষ ‘লুব্রিকেন্ট’ আনল ইন্ডিয়ান অয়েল
-
সরস্বতী নদীর ধারে বেআইনি নির্মাণ, প্রতিবাদ করায় ডোমজুড়ে যুবককে বেধড়ক মার
-
আমেরিকার উপর নজরদারি ইজরায়েলের! গুপ্তচরদের নজর এড়াতে সতর্ক মার্কিন গোয়েন্দারা
-
সাত বছরের অপেক্ষার অবসান, বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে ফের সাফ মহিলা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ভারত
-
তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়ে কন্ডোম, গুদাম থেকে মিলল প্রচুর ত্রাণ! চাঞ্চল্য খণ্ডঘোষে