দীর্ঘায়ু ও বার্ধক্য ঠেকানোর প্রচেষ্টায় বিশ্বজুড়ে আলোচিত প্রযুক্তির উদ্যোক্তা ও বায়ো হ্যাকার ব্রায়ান জনসন (Bryan Johnson) এবার জানালেন নিজের এক বিরল স্বাস্থ্য সমস্যার কথা। তিনি ভুগছেন অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস (Autoimmune Gastritis) নামে এক বিরল এবং বর্তমানে নিরাময়হীন অসুখে। বহু বছর ধরে শরীরে আয়রনের ঘাটতির প্রকৃত কারণ খুঁজতে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা, এন্ডোস্কপি ও পাকস্থলীর বায়োপসিতে এই রোগের সন্ধান পান চিকিৎসকরা।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে ৪৮ বছর বয়সি জনসন লেখেন, ‘My stomach is eating itself’, অর্থাৎ, ‘আমার পাকস্থলী যেন নিজেকেই আক্রমণ করছে।’ তাঁর ব্যাখ্যায়, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত পাকস্থলীর সুস্থ কোষগুলোকেই শত্রু ভেবে ধ্বংস করছে। এর ফলে পাকস্থলীর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
কী এই অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস?
অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস (এআইজি) এমন এক দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা পাকস্থলীর ভেতরের আবরণ তৈরি করা সুস্থ কোষের উপরই আক্রমণ চালায়। এর ফলে পাকস্থলীর আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খাবার থেকে আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান শোষণের ক্ষমতা কমে যায়।
আরও পড়ুন:
রোগটি সাধারণত ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই তেমন কোনও উপসর্গ থাকে না। কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিন বি১২-এর অভাব, রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া), স্নায়বিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কীভাবে ধরা পড়ল?
জনসনের কথায়, বহু বছর ধরেই তাঁর শরীরে ফেরিটিন বা আয়রন সঞ্চয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কম যাচ্ছিল। কঠোর ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম এবং নিবিড় স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও সমস্যার কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে রক্ত পরীক্ষা, এন্ডোস্কপি এবং পাকস্থলীর বায়োপসি নিশ্চিত করে যে তাঁর এই দীর্ঘদিনের সমস্যার মূল কারণ অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস। বর্তমানে তিনি নিয়মিত আয়রন ইনফিউশন নিচ্ছেন। পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষা, এন্ডোস্কপি এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি নজরে রাখা হচ্ছে।
এই রোগের চিকিৎসা কি সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের কোনও স্থায়ী চিকিৎসা নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হল শরীরে আয়রন ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি পূরণ করা, জটিলতা প্রতিরোধ করা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ব্রায়ান জনসনও স্বীকার করেছেন, প্রচলিত চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগের নিরাময় নেই। তবে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের বায়ো হ্যাকিং গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা খুঁজে দেখার আশাও প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০
-
পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর নরম, ইরান হরমুজে খুলে দিলেই নিষ্ফলা যুদ্ধে ইতি টানবেন ট্রাম্প!
-
মোটা মাইনের চাকরির টোপ দিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে ‘পাচার’, তারপর…
-
রাজারহাটের অভিজাত আবাসনে পানীয় জলদূষণ! অসুস্থ বহু বাসিন্দা, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
-
অটো চালিয়ে অসুস্থকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন হাসপাতালে, ভাইরাল গভীর রাতের ‘শেরনি’