ছোটবেলায় তাঁর বাড়ির প্রত্যেকেই ‘মোহনবাগান’ বলতে পাগল ছিল। খেলা থাকলে প্রায় সদলবলে মোহনবাগান মাঠে যেতেন। তিনি একা নন, সঙ্গে যেতেন অঞ্জন মিত্রও। সবুজ-মেরুন ক্লাবে পৌঁছতেন লঞ্চঘাটে স্টিমার করে। ফিরতেনও একই পথে। সেই সময় বেশিরভাগ সময় ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে যেত মোহনবাগান। দলগঠনেও ভালো ভালো ফুটবলার সই করিয়ে নিত লাল-হলুদ। পূর্বতন প্রভাবশালী কর্মকর্তারা এই ব্যাপারে শিষ্টতার দোহাই দিয়ে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে যেতেন। ৭৫ পয়সায় নিউ এম্পায়ারে সিলভেস্টার স্ট্যালনের সিনেমা দেখা থেকে পাখাহীন ট্রামের কোচে ৩০ পয়সায় ভ্রমণস্মৃতির সবুজ ঘাসে ডুবে থাকা সেই তরুণ হয়তো সেই হারের ক্ষত থেকেই ঠিক করে নিয়েছিলেন, কখনও প্রশাসনে এলে ভালো প্লেয়ার ‘সাইন’ করাবেনই করাবেন।

আরও পড়ুন:
১৯৯০ সালে মোহনবাগানের কার্যনিবাহী কমিটিতে প্রবেশ তাঁর। তারপর সহ-সচিবের দায়িত্ব। ধীরেন দে সরে দাঁড়ানোর পর ১৯৯১ সালে সচিবের চেয়ারে বসেন টুটু বোস (Tutu Bose)। আর সেই বছরই ভারতীয় ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন তিনি। ঐতিহ্যের নামে মোহনবাগান বিদেশি প্লেয়ারদের ‘সই করা’ বন্ধ রেখেছিল। সেই প্রথা ভেঙে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিদেশি প্লেয়ার হিসাবে প্রথমবারের জন্য সই করান ইস্টবেঙ্গলের চিমা ওকোরিকে। লোহাকে কাটে লোহা। এই আগুন তিনি সঞ্চারিত করেছিলেন মোহনবাগান ক্লাবের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তখন ময়দানে একটা কথা ভেসে বেড়াত, ইস্টবেঙ্গল ক্লাব যাকে চাইবে, তাকেই তার ক্লাবে রেখে দেবে। এই ‘মিথ’ ভাঙার জন্য কৃশানু দে, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, তরুণ দে – ইস্টবেঙ্গলের ঘরের-ছেলে-তুল্য ফুটবলারকে মোহনবাগানে নিয়ে আসেন। একসময় যাঁদের মোহনবাগানে আসা অসম্ভব বলে মনে হত, ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দিয়ে, তাঁদেরই ছিনিয়ে আনেন।
ইস্টবেঙ্গলের ঘরের-ছেলে-তুল্য ফুটবলারকে মোহনবাগানে নিয়ে আসেন। একসময় যাঁদের মোহনবাগানে আসা অসম্ভব বলে মনে হত, ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দিয়ে, তাঁদেরই ছিনিয়ে আনেন।
কিন্তু চিমা ১৯৯১-এ একবছর খেলে ইংল্যান্ডের ক্লাবের হয়ে খেলতে চলে গিয়েছিলেন। ততদিনে ধীরেন দে সরে দাঁড়ালে তাঁর জায়গায় সচিব হন টুটু স্বয়ং। ১৯৯৫ সালে মোহনবাগানের সভাপতি হন তিনি। এর পরেই শুরু টুটু-অঞ্জন যুগ। যদিও প্রথম জাতীয় লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি মোহনবাগান। এরপরের মরশুমে আটঘাট বেঁধেই নামে বাগান। ফের মোহনবাগানে সই করেন চিমা। ততদিনে মোহনবাগানে ঘটে গিয়েছে ভোট-ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন। আর সবুজ-মেরুন রথও তরতরিয়ে ছুটছে। ১৯৯৭-৯৮ মরশুম। খবর একটা রটেছিল বটে। উড়ো নয়, এক্কেবারে পোক্ত খবর। মাহিন্দ্রা ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন চাতুনির মোহনবাগান। এরই মধ্যে শেষ ম্যাচটিতে বাগান খেলোয়াড়দের উপর পুষ্পবৃষ্টির খবর রটে গেল। এরজন্য আসবে ভাড়া হওয়া হেলিকপ্টার। অমন তো বিলেতে হয় শুনি! এবার হবে খোদ কলকাতায়, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।

সর্বত্রই এই হেলিকপ্টার নিয়ে আলোচনা। গতবছরের ন্যাশনাল লিগ খেলতে না পারার ক্ষতও যেন উধাও একঝটকায়। বাগান সমর্থকরা খোশমেজাজে গোঁফে তা দিচ্ছে। চাইছে, তাদের মন্দিরকে ধরে বাঁচতে। ইস্টবেঙ্গলের লোকেরাও আঁচ ভাপিয়ে নিয়ে কিছু যে একটা হতে চলেছে কলকাতায়, সেটা ভাবছেন। সম্ভবত, মার্চের শেষের দিকের ম্যাচ। ভারতসেরাদের বরণ করে নিতে প্রায় সত্তর হাজার মানুষ সেদিন স্টেডিয়াম-মুখো। খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামের আকাশে খেচরের মতো চক্কর দিচ্ছে হেলিকপ্টার। সেখান থেকে নেমে আসে সবুজ-মেরুন পতাকা। ফুলের বৃষ্টিও চলে। আর, সত্তর হাজার মানুষের চিৎকার যেন বিজয়শঙ্খের মতো। তবে এই বরণীয় মুহূর্তের স্মরণীয় কথা বলার আগে একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাব।
খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামের আকাশে খেচরের মতো চক্কর দিচ্ছে হেলিকপ্টার। সেখান থেকে নেমে আসে সবুজ-মেরুন পতাকা। ফুলের বৃষ্টিও চলে। আর, সত্তর হাজার মানুষের চিৎকার যেন বিজয়শঙ্খের মতো। সেসব বরণীয় মুহূর্তের স্মরণীয় কথা।
কোচ তখনও রিজার্ভ বেঞ্চে বসার ছাড়পত্র পাননি। কোচ ছাড়া জাতীয় লিগের প্রথম ম্যাচে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে এক গোলে হেরেছে মোহনবাগান। পরের ম্যাচ চার্চিলের সঙ্গে। আর কোচ টিকে চাতুনি গ্যালারিতে। সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ের পর মোহনবাগান টেক্কা দিল ২-১ গোলে। কিন্তু অতি আনন্দে নিরাশাবাদী হওয়ার মতো লোকও ছিল। ‘ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ কী হবে রে কী হবে রে’ করে করে তাঁদের তো প্যালপিটিশন হওয়ার জোগান। সবুজ-মেরুন কোচ গ্যালারি থেকে দলকে চালাবেন বলে তাঁদের হয়তো ভাতেও বদহজম। কিন্তু মোহনবাগানই তাঁদের হজমিগুলি। এমন সব হজম, বদহজম, অম্বলের মাঝে বড় ম্যাচ শুরু। সদলবলে পাড়া থেকে দুই দলের পাগলরা মাঠের পথে। দেশের জাতীয় লিগের প্রথম বড় ম্যাচ। সেবার জাতীয় লিগ স্পনসরের দায়িত্বে ফিলিপস। ম্যাচের সেরাকে তারা দেবে মিউজিক সিস্টেম। আমাদের ঘোড়া চিমা। তিনিই পাবেন সুরযন্ত্র! বাসু-অমিত-সত্যের ত্রিফলায় মাঝমাঠ বাগানের দখলে। তুল্যমূল্য লড়াইয়ের মাঝেই লাল-হলুদ গোলকিপার কল্যাণ চৌবেকে লাল কার্ড রেফারির। তিরিশ মিনিট পেরিয়েছে ম্যাচের বয়স। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বল কাছে চলে আসে বাগান স্ট্রাইকারের কাছে। সমূহ বিপদ বুঝে দলের কল্যাণে এগোন কল্যাণ। বুঝতে পারেননি যে, পেনাল্টি বক্সের বাইরে চলে এসেছেন। হাত দিয়ে বল আটকতেই রেফারির বাঁশি আছোলা বাঁশ হয়ে দাঁড়ায় কল্যাণ চৌবের কাছে। লাল কার্ড। মাথা হেঁট করে মাঠের বাইরে লাল-হলুদ গোলকিপার। এর ঠিক পরে পরেই গোল পেয়েছিলেন চিমা। গোলার মতো শটে। হাফটাইমে যাওয়ার আগে এক গোলে এগিয়ে বাগান।

গ্যালারিতে যখন ‘চিমা-চিমা’ স্লোগান চলছে, একটি দৃশ্যের জন্ম হল। সত্যজিৎ চ্যাটার্জি এগিয়ে গেলেন গ্যালারির দিকে। গ্যালারি থেকে চাতুনিও নেমে এলেন। খানিকক্ষণ কথা হল দু’জনের। আঘাতের পরে পরামর্শ ওষুধের মতো। কিন্তু আঘাতের আগে? দশজনের ইস্টবেঙ্গল যে ম্যাচে ফিরবে, আন্দাজ করেছিলেন চাতুনি। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম কোয়ার্টারে ম্যাচে ফিরল লাল-হলুদ বাহিনী। কিন্তু পালটা গোলও করল মোহনবাগান। জাতীয় লিগের প্রথম বড় ম্যাচ জিতল চাতুনির বাগান। আর ওই সুরযন্ত্র পেলেন হিরো বনে যাওয়া চিমা। এরপর সালগাওকার ম্যাচ বাদে টানা দশ ম্যাচ না হেরে আমাদের বাগানে কোকিল ডাকছে। গোষ্ঠ পাল সরণির আমাদের ক্লাব তাঁবুতে তখন জাতীয় লিগ ঢুকবে ঢুকবে করছে। যদিও পিছন থেকে তাড়া করেছে ইস্টবেঙ্গল। তাই মাহিন্দ্রার সঙ্গে শেষ ম্যাচে এক পয়েন্ট দরকার হলেও বিশেষ উচ্ছ্বাসী ছিলেন না চাতুনি। তাঁর পুরো পয়েন্ট চাই-ই চাই। কিন্তু সমর্থকদের সেসব কে বোঝাবে! তারা তো মাঝেমাঝেই বেমক্কা। যেন জিতেই গিয়েছে জাতীয় লিগ।
গ্যালারিতে যখন ‘চিমা-চিমা’ স্লোগান চলছে, একটি দৃশ্যের জন্ম হল। সত্যজিৎ চ্যাটার্জি এগিয়ে গেলেন গ্যালারির দিকে। গ্যালারি থেকে চাতুনিও নেমে এলেন। খানিকক্ষণ কথা হল দু’জনের। আঘাতের পরে পরামর্শ ওষুধের মতো। কিন্তু আঘাতের আগে?
অতগুলো হোম ম্যাচে না হারা, বম্বেতে মাহিন্দ্রা ইউনাইটেড, মারগাওতে সালগাওকার এবং কেরালায় এফসি কোচিনকে টেক্কা মেরে জিতে আসা সবুজ-মেরুন ম্যাচের সকাল। গতবছর ফেডারেশন কাপের সময় বানানো পালতোলা নৌকা কি মাঠে যাবে? দু-একজনের তাতে আপত্তি। তাদের কাছে ওটা ‘অপয়া’। কারণ সেই ‘অভিশপ্ত’ ডায়মন্ড ম্যাচ। যার রেজাল্ট বিপক্ষে গিয়েছিল বাগানের। কিন্তু ক্লাবের প্রতীককে অপয়া বলায় অনেকেই তখন কপোতারির নজরে। পালতোলা সেই নৌকাটিই টুনি আলোয় সেজে মাঠে গেল অবশেষে। তাতে সাঁটানো সে-বছরের জাতীয় লিগের বাগান খেলোয়াড়দের ছবির পেপার কাটিং। মাহিন্দ্রা ম্যাচের দিন সকালে তাতে শোভা পেল গোরের রজনীমালা। তারপর, আগিয়ে দিয়ে দখিন পা, যথা ইচ্ছা তথা যা…

খেলা শুরুর আগে আকাশ পরিক্রমায় হেলিকপ্টার। নেমে আসে সবুজ-মেরুন পতাকা। পুষ্পবৃষ্টিও হল। গ্যালারিতে ‘মোহনবাগান… মোহনবাগান…’ চিৎকারে কান পাতা দায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে শুনেছি, প্রায় চল্লিশ ফুট লম্বা সবুজ-মেরুন পতাকা দেখা গিয়েছিল মাঠে। গোটা মাঠ ঘুরছে সেই পতাকা। এমন রাজার মেজাজেই কিক অফ। দাপুটে শুরু। কিন্তু বাগান সভাপতি টুটু বসু চাতুনির কাছে গিয়ে কী যেন বলছেন বারবার! চাতুনি এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোলকিপার হিসাবে হেমন্ত ডোরার জায়গায় নামিয়েছেন নবাগত রাজু এক্কাকে। চাতুনিকে হয়তো সেটাই বোঝাচ্ছেন টুটুবাবু। কিন্তু তিনি কোচ। নিজের বিন্দুতে ঠায় দাঁড়িয়ে রাজুকে প্রায় চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত মাঠে রাখলেন। খারাপ সামলাননি রাজু। হয়তো রাজুকে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিতে চাতুনির নীতির অংশ ছিল এটা। রাজুর বদলি হিসাবে হেমন্ত ডোরাও নেমেছিলেন এরপর। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা নেই বলে যখন গ্যালারিতে ফিসফাস, ঠিক তখনই চিমার গোল। হ্যাটট্রিক করেছিলেন। দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। গ্যালারি তখন উদ্বেল। জ্বলছে রংমশাল, তুবড়ি… এই আবেগকে বশে রাখা যায় না। গেলও না। পরের দিন স্টেডিয়াম থেকে বাগান জনতার মিছিল কদম কদম এগিয়ে গেল। কলকাতা অবরুদ্ধ। তাদের গন্তব্য একটাই, গোষ্ঠ পাল সরণির মোহনবাগান ক্লাব তাঁবু। এই ছিল টুটুবাবু। ময়দানে এমন দূরদর্শী মানুষ খুবই কম এসেছেন। মানসচক্ষে দেখতে পেয়েছিলেন সাফল্য পেতে গেলে দল গঠন ঠিকমতো করতেই হবে।
চাতুনি এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোলকিপার হিসাবে হেমন্ত ডোরার জায়গায় নামিয়েছেন নবাগত রাজু এক্কাকে। চাতুনিকে হয়তো সেটাই বোঝাচ্ছেন টুটুবাবু। কিন্তু তিনি কোচ। নিজের বিন্দুতে ঠায় দাঁড়িয়ে রাজুকে প্রায় চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত মাঠে রাখলেন।
সময় মাঝেমধ্যে থেমে যায়। থেমে থমকে গিয়ে পিছনে তাকায়। বিজ্ঞান বলে, আপাতভাবে সময়ের থেমে যাওয়া বা পিছনে তাকানো সম্ভব নয়। জ্ঞানচর্চা বা epistomology বলে সম্ভব। এতদূর পড়ার পরে যাঁরা একটু অধৈর্য হয়ে পড়েছেন তাঁদের বলি, এবারই ময়দানের সেই বিখ্যাত টুটু-অঞ্জন জুটির প্রসঙ্গে আসব। খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের বেশ কিছু জুটির কথা শোনা যায়। শোনা যায় সংগীত পরিচালকদের জুটির কথা। ভারতীয় রাজনীতির অলিন্দে মাঝেসাঝে এমন জুটির খোঁজ মেলে। কিন্তু সর্বোচ্চ ক্রীড়া প্রশাসনে? উত্তরে অবশ্য অনেকে পড়শি ক্লাবের এক ‘যানবাহন’ (জীবন-পল্টু) জুটির কথা বলবেন। কিন্তু তাঁদের জুটি ছিল মূলত রিক্রুটার হিসাবে। ক্লাব প্রশাসনে কিন্তু জুটি হিসাবে তাঁদের একসঙ্গে প্রায় দেখাই যায়নি। আর সেখানেই অনন্য এই জুটি। প্রায় তিন দশকের কাছাকাছি সময় এই দুই ক্লাসমেট একসঙ্গে ক্লাব চালিয়েছেন। সাফল্যের সঙ্গে। দাপট নিয়ে। অবশ্য মোহনবাগান ক্লাব চালানোর ‘ঝক্কি’ কি তাঁদের নিতে হয়নি? অবশ্যই হয়েছে। ময়দানের লড়াই পৌঁছে গিয়েছে আদালতে। তবু দিনের শেষে হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশনের দুই অভিন্ন হৃদয়ের বন্ধুই শেষহাসি হেসেছেন। ব্যক্তিগতভাবে টুটু বোস বরাবর বেপরোয়া, ঠোঁটকাটা, ছটফটে। অঞ্জন ততটাই স্মিত, শান্ত যাকে বলে কপিবুক ঘরানার মানুষ। চরম বিতর্কিত মুহূর্তেও মুখ ফসকে আলগা কথার মানুষ নন।

খেলার মাঝে একবার টিম তুলে নেওয়ার কারণে ‘এআইএফএফ’ মোহনবাগান ক্লাবকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক চেষ্টা করে আর্থিক জরিমানায় রূপান্তরিত করা হল শাস্তিকে। সেই সময়ে ‘এআইএফএফ’-এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রফুল্ল প্যাটেল। টুটু বোসের খুব কাছের বন্ধু তিনি। ২ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছিল। অঞ্জন তাঁকে বলেন, “টুটু, এই টাকাটা তুই যেখান থেকে পারবি জোগাড় করে দে, নাহলে মোহনবাগান ফুটবলের ইতিহাস থেকে বাদ পড়ে যাবে। এই দুঃসময়ে ক্লাবের পাশে দাঁড়াতে পারার জন্য আজও গর্ব হয়।” তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলে কখনও মোহনবাগানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে এতটুকুও আপত্তি জানাননি। বিরোধিতা করেননি। কারণ, তাঁরাও মোহনবাগান অন্তপ্রাণ। মোহনবাগান ক্লাবও সুদে-আসলে তা পুষিয়ে দিয়েছে। বুধবাসরীয় সকালের পর সবই ইতিহাস। টুটুবাবু চলে গেলেন। রয়ে গেল হাজারো স্মৃতি। যা চির অমলিন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘আমরা আসছি’, ভারত সফরের আগে সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা ব্রাজিল দলের
-
প্রোমোটারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ! কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরল দুর্নীতি দমন শাখা
-
বাংলার পর অসমের মামলাতেও জামিন, ১৩ বছর পর বিরাট স্বস্তিতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর