Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
Ranjit Bajaj

দলের স্ট্র্যাটেজিতে হাত নেই, কাজ শুধু টিকিট বুকিং! ফেডারেশনকে বিঁধে বাজাজ বললেন, ‘শেম অন ইউ’

বাজাজের অভিযোগের জবাবে আইএফএফ কী অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২৬, ১৪:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২৬, ১৪:৫৮

options
link
দলের স্ট্র্যাটেজিতে হাত নেই, কাজ শুধু টিকিট বুকিং! ফেডারেশনকে বিঁধে বাজাজ বললেন, ‘শেম অন ইউ’ zoom
রঞ্জিত বাজাজ। ফাইল ছবি।
Advertisement

ফের বিতর্কে বিদ্ধ সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং কোচ নির্বাচন নিয়ে এবার সরাসরি এআইএফএফ ও সংস্থার ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন মিনার্ভা অ্যাকাডেমির কর্ণধার রঞ্জিত বাজাজ। সোশাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক ভিডিওয় তাঁর দাবি, এই ব্যাপারে তাঁকে বারবার ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।

অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ম্যানেজার হিসাবে বাজাজের নাম এবং হেডকোচ হিসাবে বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের নাম ঘোষণা করেছে ফেডারেশন। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, দু’জন কীভাবে একসঙ্গে কাজ করবেন? প্রথমে জানা যায়, বিবিয়ানো নাকি দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব নিতে নিতে রাজি হননি। এই পরিস্থিতিতে বাজাজকে কোচের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেই বিস্ফোরক দাবি মিনার্ভার কর্ণধারের।

Advertisement
দেশের স্বার্থে ফেডারেশনের প্রস্তাব গ্রহণ, একসঙ্গে কাজ করবেন বিবিয়ানো-বাজাজ
রঞ্জিত বাজাজ ও বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ (বাঁদিক থেকে)। ফাইল ছবি।

আর এখন বাজাজ বলছেন, “আমাকে বলা হয়েছিল, আপনি আপনার নিজের দল নিয়ে দায়িত্ব নেবেন। আইএফএফের অফিসে সত্যনারায়ণজি আমাকে এ কথা বলেছিলেন। আমি নিজে থেকে এটা বলিনি।” এরপর তাঁকে টেকনিক্যাল কমিটির সামনে সাক্ষাৎকার দিতে বলা হয়।” তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিনার্ভার কর্ণধার। তিনি বলেন, “টেকনিক্যাল কমিটি সাধারণত কোচদের সাক্ষাৎকার নেয়, প্রশাসনিক পদের জন্য নয়। আমি যতটুকু জানি, ম্যানেজার পদের জন্য আগে কাউকে টেকনিক্যাল কমিটি সাক্ষাৎকার নেয়নি। তাহলে আমাকে কেন নেওয়া হল?”

বাজাজ বলেন, “আইএফএফের অফিসে সত্যনারায়ণজি আমাকে এ কথা বলেছিলেন। আমি নিজে থেকে এটা বলিনি।”

https://www.instagram.com/reel/Db5oQ8bvCzP/?utm_source=ig_web_copy_link&igsh=NTc4MTIwNjQ2YQ==

বাজাজ আরও বলেন, “আমাকে কোচিং স্টাইল, ভিশন এবং দর্শন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সমস্ত কিছুর উত্তর দিয়েছিলাম। কমিটির প্রত্যেকেই প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ফুটবলার।” এর পরই নাকি তাঁকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। বাজাজের দাবি, তাঁকে বলা হয়েছিল, বিবিয়ানো রাজি হননি। তাই তিনি দায়িত্ব নিতে পারেন। বাজাজের মন্তব্য, “আমি বলেছিলাম, কোনও সমস্যা নেই। আমি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব নেব। আমি নিজের দেশের ফুটবলকে নষ্ট করতে চাই না। আমাদের মত আলাদা হলেও তিনি থাকুন, আমিও থাকি। এতে সমস্যা নেই।” কিন্তু পরিস্থিতি ফের বদলে যায়। বাজাজের অভিযোগ, “আপনারাই বলেছিলেন, ‘না, আপনি দায়িত্ব নিন।’ তখনই আমি রাজি হয়েছিলাম।”

বিশ্বকাপ দলের কোচ হতে পারেন বাজাজ! আইএসএলে জামশেদপুরের পরিবর্তে কোন দল?
গোথিয়া কাপ জয়ী মির্নাভা অ্যাকাডেমির ছেলেদের সঙ্গে রঞ্জিত বাজাজ। ছবি সংগৃহীত।

অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের জন্য ফুটবলার বাছাইয়ের পদ্ধতি নিয়েও আইএফএফ-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করান বাজাজ। জানান, তিনি ৮৫ দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন। দেশের ৭৯০টি জেলা ঘুরে প্রতিভা খোঁজার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। বাজাজ বলেন, “আমি এমন ছেলেদের খুঁজে বার করতে পারতাম, যারা কখনও আই লিগেও খেলেনি। কিন্তু তারাই হয়তো সেরা হতে পারে। কেউ আই লিগ খেলেছে কি না, কিংবা বড় অ্যাকাডেমি থেকে উঠে এসেছে কি না, সেটা প্রমাণ করে না যে, সে সবচেয়ে ভালো। আমরা শুধু সেরা আটটি দলের ছেলেদের বেছে নিই। কিন্তু প্রত্যেক দলে অন্তত একজন ভালো খেলোয়াড় থাকে। তার দল হেরে গেলেই সেই খেলোয়াড় খারাপ হয়ে যায় না। তাহলে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে না কেন? শুধু আটটি দল থেকেই কেন ছেলেদের নেওয়া হবে?”

অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের জন্য ফুটবলার বাছাইয়ের পদ্ধতি নিয়েও আইএফএফ-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করান বাজাজ। জানান, তিনি ৮৫ দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন। দেশের ৭৯০টি জেলা ঘুরে প্রতিভা খোঁজার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।

আগস্ট মাসে গোটা দেশে প্রতিভা অন্বেষণের পরিকল্পনা তিনি ফেডারেশনকে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বাজাজ। তাঁর অভিযোগ, “আমি পুরো পরিকল্পনা দিয়েছিলাম। আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা সেই পরিকল্পনা নিয়ে কিছুই করলেন না।” নিজের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বাজাজের দাবি, শেষ পর্যন্ত তাঁকে মূলত প্রশাসনিক দায়িত্বই দেওয়া হয়েছিল। খেলোয়াড়দের দেখভাল, যাতায়াতের দেখভাল, খাবারদাবারের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিন আইএফএফ-কে রিপোর্ট পাঠানো। ক্ষুব্ধ বাজাজ বলেন, “পরের দিনই আপনারা বললেন, এটাই আপনার দায়িত্ব। টিকিট বুক করা, ছেলেদের দেখাশোনা করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, খাবারের ব্যবস্থা করা এবং প্রতিদিন রিপোর্ট দেওয়া। আপনার কি সত্যিই মনে হয়, এই কাজের জন্য আমি আবেদন করেছিলাম? শেম অন ইউ, ম্যান।”

তিনি আরও বলেন, “পরবর্তী প্রজন্ম আপনাদের কখনও ক্ষমা করবে না। কখনও না। আমি জানি, চাপের মুখে আপনারা আমাকে ডেকেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম আপনাদের এই ভুলগুলোর জন্য কখনও ক্ষমা করবে না।” বাজাজের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ভারতীয় ফুটবলমহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগের জবাবে আইএফএফ কী অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.