মোহনবাগান: ২ (ম্যাকলারেন, টম)
কেরালা ব্লাস্টার্স: ০
বাংলা ক্যালেন্ডার বলছে আজ পয়লা ফাল্গুন। ভালোবাসায় রঙিন হওয়ার দিন। মেসি ইভেন্টের জখম কাটিয়ে ভালোবাসার দিনের বিকেলে যুবভারতীতে যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ মোহনবাগান ও কেরালা ব্লাস্টার্স। আইএসএলের সঙ্গে এই মাঠেও স্বমহিমায় ফেরার দিনে ২-০ গোলে জয় পেল সবুজ-মেরুন। মোহনবাগানের হেডকোচ হিসাবে প্রথম ম্যাচেই জয় পেলেন সের্জিও লোবেরা।
আরও পড়ুন:
মোহনবাগান আক্রমণাত্মক মেজাজ নিয়ে নামতে চলেছে, সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল ম্যাচের আগের দিন কোচের কথাতেই। তবে তাঁর দল যে শূন্য থেকে শুরু করবে, সে কথাও জানিয়েছিলেন। তাছাড়াও বাগানের অন্দরমহলে ফুরফুরে পরিবেশটাকেও মাঠে দেখা গেল শনিবার। সবুজ-মেরুনের ‘প্রাণভোমরা’ দিমিত্রি পেত্রাতোসের উপর ভরসা রেখেছিলেন কোচ। তাঁকে মাঠেও দেখা গেল আরও বেশি পরিণত, আরও বেশি চনমনে। আর ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বিকেলে যুবভারতীতে হাজির হওয়া মোহনবাগান জনতাও উপহার পেলেন জয়ের দু’টি গোলাপ ফুল, যা এনে দিলেন জেমি এবং টম। তাঁরই গোল করে ৩ পয়েন্ট এনে দিলেন।
জেমি ম্যাকলারেনকে মূল স্ট্রাইকারের ভূমিকায় রেখে আগ্রাসী মেজাজে শুরু করে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ৫ মিনিটে রবসন-দিমির যুগলবন্দি দেখা যায়। ১২ মিনিটে লিস্টনের ক্রস থেকে সুযোগ আসে মোহনবাগানের। শট গোলে রাখতে পারেননি দিমি। ১৩ মিনিটে দূরপাল্লার শট নেন সেই দিমি। ১৯ মিনিটে একক দক্ষতায় বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ব্রাজ্রিলীয় রবসন। ২১ মিনিটে দূরপাল্লার শট অনিরুদ্ধ থাপার। গোলার মতো শট বার উঁচিয়ে চলে যায়। সিংহভাগ বল মোহনবাগানের দখলে থাকলেও গোল আসছিল না। গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ২৬ মিনিটে সুযোগ এসে গিয়েছিল কেরালার সামনে। মোহনবাগান রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে তিনি পাস বাড়ান ভিক্টর বার্তেমেউকে। তবে বক্সে বাজপাখির মতো তাঁর পা থেকে বল ছিনিয়ে নেন বিশাল কাইথ।
তবে এরপর আক্রমণ আরও গতি বাড়ায় সবুজ-মেরুন। ৩১ মিনিটে লিস্টনের নেওয়া অনবদ্য ফ্রিকিক সেভ করেন কেরালা গোলকিপার শচীন। ৩৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন জেমি ম্যাকলারেন। নিজেদের মধ্যে বেশ কিছু পাস খেলে আক্রমণে উঠছিলেন বাগান ফুটবলাররা। শেষ পর্যন্ত দিমির পাস থেকে বাঁ পায়ের ঠিকানা লেখা শটে গোল করেন ম্যাকলারেন। গত মরশুমে ১২ গোল করেছিলেন এই অজি তারকা। গোলের সেই ধারা এই মরশুমেও বজায় রাখলেন তিনি। এগিয়ে যাওয়ার পর আরও উজ্জীবিত ফুটবল উপহার দেয় লোবেরা ব্রিগেড। ৩৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন রবসন। গোলকিপারের সৌজন্যে ব্যবধান বাড়েনি। পরের মিনিটে আবারও সুযোগ আসে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও দু’টি সুযোগ এলেও সেখান থেকে গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারা বজায় রাখে মোহনবাগান। ৫২ মিনিট এবং ৬০ মিনিটে সুযোগ এলেও ব্যবধান বাড়াতে পারলেন না দিমি, জিমিরা। ৬৭ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে শট নিয়েছিলেন কোলাসো। এক্ষেত্রেও গোলহীন থাকেন তিনি। তবে এই অর্ধে কেরালা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। মোহনবাগানকেও বেশ ছন্নছাড়া লাগছিল। তবুও বিপক্ষ দলকে সমতায় ফিরতে দেননি অতন্দ্র প্রহরীর মতো রক্ষণ আগলে রাখা শুভাশিস বসু, অভিষেক সিং টেকচাম, আলবার্তো, মেহতাব সিংরা। সাহাল, মনবীর, টম অলড্রেডরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবর্ত হিসাবে নামেন। ৮৭ মিনিটে নামেন জেসন কামিংস। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে (৯০+৪ মি.) অনিরুদ্ধ থাপার ফ্রিকিক থেকে ভাসানো বলে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন টম। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ল মোহনবাগান। আরও বেশি গোলে জিততে পারত তারা। স্ট্রাইকারদের সুযোগ নষ্ট চিন্তায় রাখবে লোবেরাকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক