Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
বিদায় টুটু বোস
Tutu Bose

‘টুটুদার মতো আবেগি মানুষকে আজ ফুটবলে প্রয়োজন’, শেষ শ্রদ্ধায় মনখারাপ সুব্রত-বাইচুংদের

'মোহনবাগানের সাফল্যের নেপথ্যে টুটুদার বিরাট অবদান,' বলছেন শ্যাম থাপা। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন শিলটন পাল, প্রীতম কোটালরাও।

Advertisement
প্রসূন বিশ্বাস
প্রসূন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ১৩, ২০২৬, ২০:২৬

link
প্রসূন বিশ্বাস
প্রসূন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: মে ১৩, ২০২৬, ২০:২৬

options
link
‘টুটুদার মতো আবেগি মানুষকে আজ ফুটবলে প্রয়োজন’, শেষ শ্রদ্ধায় মনখারাপ সুব্রত-বাইচুংদের zoom
টুটু বোসকে শ্রদ্ধার্ঘ্য সুব্রত ভট্টাচার্য, বাইচুং ভুটিয়া প্রমুখদের।

এক বটবৃক্ষের ছায়া হারাল ময়দান। প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বোস। যিনি টুটু বোস নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। বস্তুত মোহনবাগান ও টুটু বোস ছিলেন সমার্থক। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ কলকাতা ময়দান। বেদনা ধরা পড়ছে ফুটবলারদের কণ্ঠে। সুব্রত ভট্টাচার্য, বাইচুং ভুটিয়া থেকে শ্যাম থাপা প্রমুখ ফুটবলার জানালেন টুটু বোসকে (Tutu Bose) নিয়ে তাঁদের স্মৃতি ও অনুভূতির কথা।

মঙ্গলবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন টুটুবাবু। বুধবার বালিগঞ্জের বসতবাড়ি, প্রতিদিনের কলকাতার সদর দপ্তর, ভবানীপুর ক্লাবের পর মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুতে আনা হয় কিংবদন্তি ক্রীড়া প্রশাসকের দেহ। বালিগঞ্জে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “উনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে মোহনবাগানের সেবা করেছেন, তা ভোলা যায় না। টুটুবাবু এতো কাজ করেছেন, তা বলে শেষ হবে না। ওঁর প্রয়াণ একটা বড় ক্ষতি। বিশেষ করে ওঁর পরিবারের জন্য।”

Advertisement

সবুজ-মেরুনের আরেক প্রাক্তনী শ্যাম থাপা বলেন, “শুনে খুব খারাপ লাগল। মোহনবাগানে কাটানোর সময় ওঁর সঙ্গ খুব উপভোগ করেছি। উনি পরোপকারী। কিন্তু এটাই জীবন। কে যে কখন চলে যাবে বলা যায় না। কত স্মৃতি জড়িয়ে ওঁর সঙ্গে। আজ মোহনবাগান যেখানে দাঁড়িয়ে, তার নেপথ্যে টুটুদার অনেক অবদান। সব সময় পরিকল্পনা ছিল, কীভাবে ক্লাবকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়া যায়।” টুটু বোসকে নিয়ে বাইচুং ভুটিয়া বলেন, “ভারতীয় ফুটবলে টুটুদার বিরাট অবদান। মোহনবাগানের জন্য উনি যা করেছেন, তা শুধু একজনের পক্ষে এত কিছু করা সম্ভব নয়। ওঁর রক্তে সবুজ-মেরুন। টুটুদার জন্যই আমি মোহনবাগানে সই করি। ওঁর মতো আবেগপ্রবণ মানুষ গোটা দুনিয়ায় পাওয়া যাবে না। ওঁর মতো মানুষরাই ফুটবলের আসল গল্প বলে। আজ টুটুদার মতো মানুষকেই ফুটবলে প্রয়োজন।”

প্রাক্তন ফুটবলার শিশির ঘোষ বলেন, “স্মৃতি সততই সুখের। আর আজ দুঃখের দিন। কৃশানু-বিকাশকে বা মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যকে সই করানো টুটুদা ছাড়া সম্ভব ছিল না।” অন্যদিকে আরেক প্রাক্তন ফুটবলার অমিত ভদ্র বলেন, “টুটুদা আমার পরিবারের মতো। ওঁর সাহসের জোরে প্রচুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলো ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।”

Sisir Ghosh and Amit Bhadra has also paid tribute to Tutu Bose
ফাইল ছবি

মোহনবাগানের আরেক প্রাক্তনী শিলটন পাল সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, কীভাবে তাঁকে ভরসা দিয়েছিলেন টুটু বোস। তিনি লিখেছেন, ‘টুটু বাবু ক্লাবে এসে আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন—’তোরা শুধু মন দিয়ে খেল, ট্রফি জিত, বাকিটা আমি দেখে নেব।’ সেই কথার মধ্যে যে সাহস, যে নির্ভরতা—তা আমাদের এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। মোহনবাগান যখনই কঠিন সময়ে পড়েছে, তিনি বারবার ত্রাতার মতো সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। আজ মোহনবাগান এক বিশাল বটগাছ হারাল—যিনি সারাজীবন নিজের ছায়ায় এই ক্লাবকে আগলে রেখেছিলেন, শক্তি দিয়েছেন, বিশ্বাস দিয়েছেন।’ আরেক প্রাক্তন মোহনবাগান ফুটবলার প্রীতম কোটাল লিখেছেন, “মোহনবাগান আর টুটু বসু ছিলেন একে অপরের পরিপূরক, আজ মনে হচ্ছে সবুজ মেরুন পরিবার আরেক অভিভাবক কে হারাল। ময়দানে এমন মানুষ বিরল। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি, ভালো থাকবেন তারার দেশে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.