একের পর বিতর্কে বিদ্ধ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino)। এবার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাঁর নামে। অভিযোগ, উয়েফার সাধারণ সচিব থাকাকালীন এক কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। এমনকী সংস্থার ভাঁড়ার থেকে প্রাক্তন প্রেমিকাকে উপহার দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়। এসব অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে ফিফা। ইনফান্তিনোকে সরানোর জন্য ‘পরিকল্পিত ভাবে’ চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।
ফিফা জানায়, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তা ফিফার নিয়ম মেনে গণতান্ত্রিক ভাবেই জানাতে হবে। এক বিবৃতিতে কড়া প্রতিক্রিয়ায় ফিফা বলেছে, ‘যাঁরা সদস্য দেশগুলির সমর্থন পান না, তাঁরা অভিযোগ বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবেন না।’ বিশ্বকাপ-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। এরপর তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। উয়েফা-সহ বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থা তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আরও পড়ুন:
এখানেই শেষ নয়। ফিফার কয়েক জন শীর্ষ কর্তাও তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তাঁরা ইনফান্তিনোকে সমর্থন করবে না। তাঁর প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম’ নিয়েও ফুটবল মহলে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশ কিছু দেশ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে মরক্কোয় বৈঠক করে ইনফান্তিনোর পাশে থাকার বার্তা দেয় ফিফা। পরে একটি প্রতিবেদনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পুরনো একটি অভিযোগ সামনে আসে। দাবি করা হয়, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন এক প্রাক্তন কর্মীকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। ইনফান্তিনো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, ফিফাও একে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে ফিফা এবং ইনফান্তিনোকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমন বিভ্রান্তিকর খবরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংস্থাটি।
২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফায় সাধারণ সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ইনফান্তিনো। সেই সময় উয়েফারই এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয় বলে বলা হয়েছে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে। চাকরি ছাড়ার সময় ওই মহিলাকে ‘বিদায়কালীন অর্থ’ হিসাবে বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি বিজনেস স্কুলে এমবিএ করতে গেলে তার খরচও নাকি বহন করেছিল উয়েফা। এই পরিস্থিতিতে ফিফা বলেছে, ‘সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফিফা এবং এই সংস্থার সভাপতিকে নিয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। অনুমান বা ইঙ্গিতকে সত্য বলে তুলে ধরা ঠিক নয়। একই অভিযোগ বারবার করলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘যে খেলবে, তার উন্নতি হবে’, কমনওয়েলথ পদকজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাতে মোদির মুখে ‘ফ্রেন্ডস’ বার্তা
-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের বদলে গরম জল! সত্যিই কি কাজ করে এই ঘরোয়া টোটকা?
-
গসিপের দাম ৩০০ টাকা! পরনিন্দা-পরচর্চা থেকে আয় করেই জোড়া বাড়ির মালকিন বৃদ্ধা
-
৯ জেলা পরিষদ সদস্যকে ঘাড়ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! সোশাল মিডিয়ায় মহুয়া লিখলেন, ‘স্বার্থপর গদ্দার’
-
বাঘের সঙ্গে লড়াই অমিতাভের! অভিষেকের জন্মের পরই কেন এমন ‘চ্যালেঞ্জ’ নেন বিগ বি?