Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
East Bengal

খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো প্রত্যাবর্তন! কুয়েতের দলকে উড়িয়ে এসিএল টু-র মূল পর্বে ইস্টবেঙ্গল

কথায় আছে, খোঁচা খাওয়া বাঘ সব সময় ভয়ংকর। তারই প্রমাণ দেখাল ইস্টবেঙ্গল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৮:৪৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৮:৪৫

options
link
খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো প্রত্যাবর্তন! কুয়েতের দলকে উড়িয়ে এসিএল টু-র মূল পর্বে ইস্টবেঙ্গল zoom
ছবি: অমিত মৌলিক।
Advertisement

ইস্টবেঙ্গল ৪ (জয়, রশিদ, ডেভিড, দানু)
আল-আরবি ১ (ইওয়ালা)

বুধবার এসিএল টু কোয়ালিফায়ারে ঘরের মাঠে কুয়েত লিগের রানার্স দল আল-আরবির সঙ্গে পিছিয়ে পড়ে দুরন্ত লড়াই করে জয় ইস্টবেঙ্গলের। এই ম্যাচে নামার আগে কোচ আন্তেনিও লোপেজ হাবাসের বড় চিন্তা ছিল দলের সব বিদেশিদের না পাওয়া। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামলেই যেন বদলে যায় লাল-হলুদ। সেই ঐতিহ্যই বজায় থাকল। বহু কিছু না পাওয়ার ‘হতাশা’ ভুলে কুয়েতের দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে এসিএল টু-র মূল পর্বে গেল ইস্টবেঙ্গল। 

Advertisement

এএফসি-র মঞ্চে পুরুষ ও মহিলা দলের লড়াইকে সামনে রেখে বিশেষ ব্যানার নিয়ে মাঠে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। এএফসি-তে দলের ভালো পারফরম্যান্সের আশায় ম্যাচের আগে টিফোও দেখা গেল গ্যালারিতে। প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার লাল-হলুদ সমর্থকের অনেকেই এসেছিলেন জাতীয় পতাকা হাতে। তবে মাঠে নামতেই চাপে পড়ল ইস্টবেঙ্গল। পাঁচ বিদেশিকে প্রথম একাদশে রেখে শুরু করে আল-আরবি। কেনিয়ান মালেকো, লিওনার্দো মার্টিন্স শেলডন, আনায়ো ইউয়ালা, জোহের রশুল (খাদিম) এবং জাইদ কুনবারকে নিয়ে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজ দেখায় কুয়েতের দলটি।

যদিও ৬ মিনিটে সুযোগ এসে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন রশিদ। তবে আল-আরবির গোলকিপার আবদুলওয়াহাব বাঁচিয়ে দেন। ১১ মিনিটে ফের গোল লক্ষ্য করে শট নেন জেসিন টিকে। যদিও তা ফলপ্রসূ ছিল না। বিদেশি ডিফেন্ডার নাচো না থাকায় চার ভারতীয়কে নিয়ে রক্ষণ সাজিয়েছিলেন হাবাস। আনোয়ার আলি, জয় গুপ্তা, হার্দিক ভাট ও সন্দীপ মাণ্ডির উপরই ভরসা রাখেন তিনি। ২৩ মিনিটে বড় বিপদ থেকে বাঁচে ইস্টবেঙ্গল। বাঁদিক দিয়ে উঠে এসে মালেকোর শট ধরতে প্রথম দফায় ভুল করলেও গোললাইন সেভ গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলের।

ছবি অমিত মৌলিক।

২৮ মিনিটে ভালো জায়গায় পৌঁছেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এডমুন্ড। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে উঠে বক্সে ঢুকলেও শট না নিয়ে ব্যাক পাস করেন তিনি। কিন্তু সেখানে কেউ ছিলেন না। বিরতির ঠিক আগে গোল পেয়ে যেতে পারতেন আল আরবির কেনেয়ান মালেকা। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দলই। বিরতির পর ৫০ মিনিটে পালটা আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দানি র‍্যামিরেজের পাস ধরে জেসিন টিকে ফাঁকায় বল বাড়ান বিপিনকে। দুরন্ত গতিতে বক্সে ঢুকেও গোল করতে পারেননি তিনি। ৭০ মিনিটের পর পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামেন পিভি বিষ্ণু। তবে ৭৫ মিনিটে বিপদ ডেকে আনে ইস্টবেঙ্গল। নিজেদের বক্সে মালেকোকে ফাউল করে বসেন সন্দীপ মাণ্ডি। পেনাল্টি পায় আল-আরবি। স্পট কিক থেকে গোল করে কুয়েতের দলকে এগিয়ে দেন নাইজিরিয়ান উইঙ্গার ইওয়ালা।

কিন্তু কথায় আছে, খোঁচা খাওয়া বাঘ সব সময় ভয়ংকর। গোল করার মরিয়া চেষ্টায় ক্রিস ইকোনোমিডিসকে মাঠে নামান হাবাস। এই সিদ্ধান্তেই যেন জাদুস্পর্শ পেল ইস্টবেঙ্গল। সেই সময় একের পর এক আক্রমণে নাজেহাল অবস্থা প্রতিপক্ষ দলের। ৮৯ মিনিটে মোড় ঘোরান জয় গুপ্তা। সেটপিস থেকে ঠিকানা লেখা ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করে লাল-হলুদকে সমতা ফেরান তিনি। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ অবস্থায়।

ছবি অমিত মৌলিক।

১০৮ মিনিটে ২৪ বছরের রোহিত দানুর শট আল আরবির ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হলে ফিরতি বলে বক্সের বাইরে থেকে হাফ-ভলিতে গোল করেন রশিদ। নাটক তখনও বাকি ছিল। রশিদের বদলে রোহিত কুমার এবং এডমুন্ডের জায়গায় ডেভিড নামান হাবাস। বলা যায়, এটা অন্যতম ‘মাস্টারস্ট্রোক’। সেই ডেভিডই ম্যাচের রং বদলে দেন। ১১৭ মিনিটে ক্রিসের শট গোলকিপার বাঁচালেও ফিরতি বল পেয়ে গোলকিপারকে কাটিয়ে দুরন্ত ফিনিশে ৩-১ করেন তিনি। ১২০ মিনিটে বাঁ-দিক দিয়ে উঠে বিষ্ণু বল বাড়ান ডেভিডকে, তাঁর পাস থেকে ফাঁকা গোলে বল জড়িয়ে দেন রোহিত দানু।

ম্যাচ শেষে আল-আরবির জাইদ কুনবারের সঙ্গে জার্সি বদল করেন ইস্টবেঙ্গলি বন্ধু মহম্মদ রাশিদ। এশীয় মঞ্চে লাল-হলুদ দুরন্ত জয় পেলেও ডুরান্ড অভিযান শেষ হয়েছে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। আর্মি রেডের বিরুদ্ধে লালথান কিমার গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় সাদা-কালো ব্রিগেডকে। আর্মির হয়ে গোল করেছেন ক্রিস্টোফার কামাই এবং সাফাই।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.