খেলা শেষ
২২ বছর। সময়টা নেহাত কম নয়। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল। তার পর কেটে গিয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময়। লাল-হলুদ ক্যাবিনেটে আর আসেনি ডুরান্ড ট্রফি। রবিবার সন্ধ্যায় সেই অপেক্ষারই অবসান ঘটল। প্রতিপক্ষ সেই মোহনবাগানই। বদলার মঞ্চে উজ্জ্বল মশাল বাহিনী। ৪-১ গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে হারিয়ে ডুরান্ড জিতল ইস্টবেঙ্গল। ইতিহাস লিখলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। বাইচুং ভুটিয়া, কিয়ান নাসিরির পর ডার্বিতে ভারতীয় হিসাবে হ্যাটট্রিক করলেন লাল-হলুদ তারকা। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আরেকটা গোল বিপিন সিংয়ের। মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোল মনবীর সিংয়ের। ইস্টবেঙ্গলের যেন খরা কাটার বছর যাচ্ছে। ২০০২ সালের পর দেশের শীর্ষ লিগ আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। আর এবার শাপমুক্তি ঘটিয়ে ডুরান্ড শিরোপা ঢুকবে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবে।
৫ মিনিট অতিরিক্ত সময়
অতিরিক্ত সময়েও ব্যবধান কমাতে পারল না মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা হতাশ করলেন। গোটা ম্যাচে চূড়ান্ত হতাশ করলেন ম্যাকলারেন। তাঁর ফিটনেস সত্যিই প্রশ্নের মুখে। ফুটবলারদেরও চূড়ান্ত ক্লান্ত দেখিয়েছে। সঙ্গে গ্রিক কোচ প্যানোসের স্ট্র্যাটেজিও আতশ কাচের তলায়। এবারের ডুরান্ডে ৫ গোল করা সামাদকে কেন প্রথম একাদশে রাখলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
৩৭ মিনিট
মনবীর সিংয়ের ক্রস চলে আসে ম্যাকলারেনের কাছে। জায়গায় ছিলেন না ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার। পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো সুযোগ নষ্ট করলেন অজি তারকা। যে জায়গায় বল পেয়েছিলেন, সেখান থেকে ফাইনালের মতো মঞ্চে গোল না করাটা 'অপরাধ'। ৪০ মিনিটেও মাঝমাঠ থেকে দারুণ বল পেয়ে গিয়েছিলেন ম্যাকলারেন। কিন্তু দূরদর্শী গিল এগিয়ে আসেন। ম্যাকলারেন বল পাওয়ার আগেই বিপন্মুক্ত করেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার।
ডুরান্ড ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে
শহরে আজ ইলিশ-চিংড়ির মহারণ। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল। কলকাতা ডার্বিকে ঘিরে কল্লোলিনী আজ দ্বিখণ্ডিত। এখন পর্যন্ত ১৭ বার ডুরান্ড জিতেছে সবুজ-মেরুন। লাল-হলুদ ১৬ বার। অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গলের সামনে মোহনবাগানকে ছোঁয়ার সুযোগ। আর মোহনবাগান জিতলে আবারও সফলতম দল হিসাবে নজির গড়বে।