একসময় অ্যাভোকাডো নামটাই ছিল অনেকের কাছে অচেনা। এখন সেই ফলই দেখা যাচ্ছে শহরের ক্যাফে থেকে শুরু করে বাড়ির খাবারের টেবিলে। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয় এই ফল এবার জায়গা করে নিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথাতেও।
‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে তিনি ভারতে অ্যাভোকাডোর বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা এবং এই ফল চাষ করে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পরে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওতেও অ্যাভোকাডোর প্রসঙ্গ সামনে আনেন তিনি।
আরও পড়ুন:
কেন এই ফল নিয়ে এত আগ্রহ? কারণ অ্যাভোকাডো অন্যান্য ফলের তুলনায় একেবারেই অন্যরকম। বেশিরভাগ ফল যেখানে প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেটের জন্য পরিচিত, সেখানে অ্যাভোকাডোতে শর্করা তুলনামূলক কম, রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। বিশেষ করে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বা মুফা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ওলেইক অ্যাসিড, যা অলিভ অয়েলেও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হিসেবে উপস্থিত থাকে।
আরও পড়ুন:

হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
অ্যাভোকাডোর পুষ্টিগুণের তালিকা এখানেই শেষ নয়। এতে রয়েছে ডায়েটরি ফাইবার বা খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন কে এবং ভিটামিন ই। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবারের এই সমন্বয় হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
‘জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষকে প্রায় ৩০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা সপ্তাহে অন্তত একটি অ্যাভোকাডো খেতেন, তাঁদের হৃদ্রোগ এবং করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে অ্যাভোকাডোকে কোনও রোগ প্রতিরোধের ওষুধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ- সবই গুরুত্বপূর্ণ।
ফাইবারে পেট ভরে, কিন্তু ক্যালরির হিসাবও জরুরি
অ্যাভোকাডোর ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে। ফলে অযথা খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। কিন্তু ‘স্বাস্থ্যকর’ মানেই যত খুশি খাওয়া যাবে, এমন ধারণা ভুল। অ্যাভোকাডোতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি যথেষ্ট ক্যালরিযুক্ত। মাঝারি মাপের অর্ধেক অ্যাভোকাডোতেই প্রায় ১৬১ ক্যালরি থাকতে পারে।
তাই পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে প্রায় ৭০-১০০ গ্রাম অ্যাভোকাডো যথেষ্ট। বিশেষ করে যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের মোট ক্যালরির হিসাবের মধ্যেই এটি রাখতে হবে।

অ্যাভোকাডো না পেলে মন খারাপের কারণ নেই
দাম বা সহজলভ্যতার কারণে অনেকের নিয়মিত অ্যাভোকাডো খাওয়া সম্ভব নয়। তবে তার জন্য চিন্তার কারণ নেই। এর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও ভিটামিন ই-এর কিছুটা চাহিদা মেটাতে বাদাম খাওয়া যেতে পারে। সঙ্গে শাকসবজি ও নানা রঙের ফল রাখলে পটাশিয়াম, ফোলেট এবং বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ভারতীয় খাবারের বৈচিত্র্য থেকেই অ্যাভোকাডোর অনেক পুষ্টিগুণের বিকল্প পাওয়া সম্ভব।
অ্যাভোকাডো খাবেন কীভাবে?
অ্যাভোকাডো খাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হল কাঁচা অবস্থায়। স্যালাডে বা স্মুদিতে মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে স্মুদিতে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি উপাদান যোগ করলে তার স্বাস্থ্যগুণ অনেকটাই নষ্ট হতে পারে।
অ্যাভোকাডো রান্না করার প্রয়োজনও নেই। কাঁচা অবস্থায় খেলে এর পুষ্টিগুণ ধরে রাখা সহজ। তবে খাবারের সঙ্গে কীভাবে খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাভোকাডোকে স্বাস্থ্যকর বলেই অতিরিক্ত পনির, মাখন, মিষ্টি শস বা উচ্চ-ক্যালরির উপাদানের সঙ্গে না খাওয়ার ভালো।

চাষেও নতুন সম্ভাবনা
এই ফলের জনপ্রিয়তা শুধু শহরের খাদ্যাভ্যাস বদলাচ্ছে না, কৃষকদের জন্যও তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা। প্রধানমন্ত্রী মোদি যে উদাহরণগুলি তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপার কৃষক বরদরাজ, যিনি আগে টম্যাটো ও কলা চাষ করতেন। অ্যাভোকাডো চাষ সম্পর্কে জানার পর তিনি প্রায় চার টন ফল উৎপাদন করে স্থানীয় দোকানে সরাসরি বিক্রি করেছেন।
তামিলনাড়ুর কোদাইকানালেও অ্যাভোকাডো চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক চন্দ্রশেখরন। কর্নাটকের চিক্কামাগালুরুর কিছু কৃষক আবার কফি ও গোলমরিচের বাগানে আন্তঃফসল হিসেবে অ্যাভোকাডো চাষ করছেন। এতে প্রচলিত চাষ বজায় রেখেই অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তামিলনাড়ু, কেরল ও কর্নাটকে অ্যাভোকাডো চাষ বেশি হলেও মহারাষ্ট্রের নাসিক, সিকিম, মিজোরাম ও মণিপুরেও এই ফল চাষ হচ্ছে।
পুষ্টির দিক থেকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবারের উৎস, আর কৃষকের কাছে নতুন আয়ের সম্ভাবনা—দুই কারণেই অ্যাভোকাডো এখন ভারতে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘নো এন্ট্রি’ অথচ শহরে ঢুকছে বেআইনি ট্রাক! পুলিশের জালে সিন্ডিকেটের পান্ডা, নেপথ্যে কারা?
-
চাল-গমের পাশাপাশি মিলবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও, রেশন দোকানগুলি নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত
-
দুষ্টু মেসেজে আলাপ, ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই ছাত্রের সঙ্গে উদ্দাম যৌনতা, ব্রেকআপের পর এ কী হল শিক্ষিকার!
-
রাত্রিবাস করেছিলেন মহানায়ক, ‘উত্তম’ স্মৃতি আগলে আজও নতু গ্রামের জমিদার বাড়ি
-
পুরভোটে স্ট্র্যাটেজি বদল সিপিএমের! জোট নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের ‘স্বাধীনতা’ দিল আলিমুদ্দিন