Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
Fatty Fish Omega 3

কিডনি ভালো রাখতে আদৌ উপকারী মাছ? জানুন পুষ্টিবিদের মতামত

সপ্তাহে অন্তত দু-বার চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে মাছ রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিল, বেক, স্টিম বা এয়ার-ফ্রাই করে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত তেলে ভাজা, বেশি নুন বা প্রসেসড সস ব্যবহার করা এড়িয়ে চলাই ভালো।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ২০:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ২০:৪০

options
link
কিডনি ভালো রাখতে আদৌ উপকারী মাছ? জানুন পুষ্টিবিদের মতামত zoom
ডায়েটে রাখছেন তো? ছবি: সংগৃহীত
Advertisement

চর্বিযুক্ত মাছ খেলে হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে, এমন কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু এই মাছ যে কিডনির সুস্থতাও রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে, সে তথ্য হয়তো অনেকেরই অজানা। পুষ্টিবিদদের কথায়, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ স্যামন, ম্যাকারেল, ট্রাউট ও টুনার মতো মাছ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে, প্রদাহ কমাতে এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি)-এর ঝুঁকি হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। গবেষণা বলছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন এই রোগে আক্রান্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় কিডনির ক্ষতি অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনও লক্ষণ ছাড়াই এগোতে থাকে। তাই চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে কিডনি সুরক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায়।

Advertisement

কেন কিডনির যত্ন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কিডনি শুধু শরীরের বর্জ্য ছেঁকে বের করে দেয় না। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, শরীরে জল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্ত তৈরিতে সহায়তা এবং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কাজেও ভূমিকা রাখে। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী জটিলতার কারণ হতে পারে।

kidney health benefits of fatty fish omega 3 expert explains
ছবি: সংগৃহীত

ওমেগা-৩ কমায় প্রদাহ, রক্ষা করে কিডনিকে
চর্বিযুক্ত মাছের সবচেয়ে বড় পুষ্টিগুণ হল এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আর এই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহই কিডনির ক্ষতি বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত মাছ খান, তাঁদের কিডনির স্বাস্থ্য সাধারণত তুলনামূলক ভালো থাকে। যদিও শুধু মাছ খেলেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকলে কিডনিও থাকে সুস্থ
হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ। আবার কিডনির সমস্যা থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

চর্বিযুক্ত মাছ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, রক্তনালির কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং রক্তের ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে কার্যকর ভূমিকা নেয়। ফলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের নির্ভরযোগ্য উৎস
শরীরের কোষ গঠন, পেশি শক্তিশালী রাখা এবং ক্ষয়পূরণে প্রোটিন অপরিহার্য। চর্বিযুক্ত মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস, যেখানে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এতে প্রক্রিয়াজাত মাংসের মতো অতিরিক্ত সোডিয়াম বা ক্ষতিকর চর্বি থাকে না।

আরও যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে
চর্বিযুক্ত মাছে রয়েছে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, সেলেনিয়াম, পাশাপাশি মাছের ধরন অনুযায়ী পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়, স্নায়ু ও কোষের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক।

kidney health benefits of fatty fish omega 3 expert explains
ছবি: সংগৃহীত

কিডনি রোগ প্রতিরোধে কতটা কার্যকর?
পুষ্টিবিদের কথায়, কোনও একক খাবার কিডনি রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। তবে মাছ, শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস কিডনি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিডনি রোগের সম্ভাবনাও কমে।

কারা সতর্ক থাকবেন?
যাঁদের ক্রনিক কিডনি ডিজিজ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। কারণ কিছু মাছে ফসফরাস ও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে এবং অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রোটিন গ্রহণও সীমিত রাখতে হয়।

কীভাবে খাবেন?
পুষ্টিবিদের পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত দু-বার চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে মাছ রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিল, বেক, স্টিম বা এয়ার-ফ্রাই করে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত তেলে ভাজা, বেশি নুন বা প্রসেসড সস ব্যবহার করা এড়িয়ে চলাই ভালো।

সব মিলিয়ে, চর্বিযুক্ত মাছ কোনও জাদুকরী ওষুধ নয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এটি নিয়মিত খেলে কিডনির পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.