জন্মাষ্টমী মানেই গোপালের ভোগে তালের নানা আয়োজন। পাকা তালের গন্ধে চারপাশ যখন ম-ম করে, তখন তালের বড়া, তালক্ষীর, তালের লুচি বা মালপোয়ার লোভ সামলানো সত্যিই কঠিন। কিন্তু সুগার থাকলে কি এই স্বাদ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রাখতে হবে? আসলে বিষয়টি নির্ভর করছে কীভাবে তৈরি করছেন এবং কতটা খাচ্ছেন, তার উপর।
পাকা তাল কি সুগার বাড়ায়?
পাকা তাল স্বাভাবিকভাবেই মিষ্টি এবং এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও কম নয়। তাই সুগার থাকলে পাকা তাল বা তাল দিয়ে তৈরি মিষ্টি পদ খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। কচি তালশাঁস আর পাকা তালের পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য এক নয়। ফলে পাকা তালের রস দিয়ে তৈরি খাবারকে ‘ফলের পদ’ ভেবে ইচ্ছেমতো খাওয়া চলবে না।
আরও পড়ুন:
তবে পাকা তালে একেবারেই পুষ্টিগুণ নেই, এমনটাও নয়। ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতো বিভিন্ন উপাদান রয়েছে তালে। অর্থাৎ, তালকে সম্পূর্ণ ব্রাত্য নয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল খাবারের ধরন ও পরিমাণ।
আরও পড়ুন:

ডায়াবেটিস থাকলে তালের রেসিপিতে কী কী বদল আনতে হবে?
১. বাড়তি চিনি নয়
তালের বড়া তৈরির সময় প্রথমেই কমান অতিরিক্ত চিনি। পাকা তালের মধ্যে যথেষ্ট প্রাকৃতিক মিষ্টি বা শর্করা থাকে। ফলে আলাদা করে বেশি চিনি না দিয়েও বড়া সুস্বাদু করা সম্ভব। আর যদি মিষ্টি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তা হলে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী চিনির বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ‘সুগার-ফ্রি’ মানেই যে খাবারটি যত খুশি খাওয়া যাবে, এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়।
২. ময়দার বদলে আটা
তালের বড়ার মিশ্রণে ময়দার পরিবর্তে আটা ব্যবহার করতে পারেন। এতে রেসিপিতে ফাইবার বাড়ানোর সুযোগ থাকে। চাইলে কিছুটা সুজিও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আটা বা সুজি ব্যবহার করলেই খাবারটি ডায়াবেটিসের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে যায় না। কারণ এগুলিও কার্বোহাইড্রেটের উৎস। তাই উপকরণ বদলের পাশাপাশি মোট পরিমাণটিও হিসেবের মধ্যে রাখতে হবে।

৩. ডুবো তেলে নয়
তালের বড়ার আসল আকর্ষণ তার মুচমুচে ভাব। আর সেই মুচমুচে স্বাদের জন্য অনেকেই ডুবো তেলে বড়া ভাজেন। কিন্তু এতে খাবারে অতিরিক্ত তেল ও ক্যালরি যোগ হয়। তাই সম্ভব হলে কম তেলে প্যান-ফ্রাই করতে পারেন। এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করাও একটি বিকল্প। লক্ষ্য একটাই, বড়ায় যেন অতিরিক্ত তেলে না থাকে।
‘ডায়াবেটিস-ফ্রেন্ডলি’ মানেই যত খুশি নয়
রেসিপিতে তিনটি পরিবর্তন করলেও তালের বড়া সীমাহীন পরিমাণে খাওয়া যাবে না। বরং অল্প পরিমাণে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একই দিনে তালের বড়ার সঙ্গে তালক্ষীর, মালপোয়া বা অন্য মিষ্টি পদও বেশি করে খেলে মোট শর্করা ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

তাই উৎসবের দিনে প্রিয় খাবার একেবারে বাদ দেওয়ার বদলে অল্প পরিমাণে, সচেতনভাবে এবং খাবারের সামগ্রিক হিসেব মাথায় রেখে খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বা রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করলে পাকা তাল ও তালের মিষ্টি পদ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভিটামিন সি-র ‘ছদ্মবেশে’ বিষাক্ত রাসায়নিক পাচার! আমেরিকায় কারাদণ্ড গুজরাটের ব্যবসায়ীকে
-
শহরের ‘উত্তম করিডরে’ তারকাখচিত পদযাত্রা, বাংলা ছবির অমৃতকাল ফেরানোর শপথ শুভেন্দুর
-
এবার আইএফএ শিল্ড খেলবে মোহনবাগান? শর্ত বেঁধে দিল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা
-
টানা বৃষ্টিতে প্লাবন উত্তরপ্রদেশ, তিন জেলায় মৃত ৫, বিহারে বিপদসীমার উপরে বইছে গঙ্গা
-
খাঁ খাঁ ক্লাসরুম, নাম ডাকার খাতা হাতে বাঁকুড়ায় পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি ঢুঁ শিক্ষকদের, ব্যাপারটা কী?