অনেকেই আছেন, যাদের রোজের খাবারের পাতে ফল থাকবেই। কেবল মেদ ঝরানোর জন্য অথবা স্বাস্থ্যরক্ষার উদ্দেশে নয়, ফল ভালোবাসেন বলেই খান, এমন রয়েছেন অনেকেই। পেয়ারা-লেবু-আপেল অথবা গ্রীষ্মকালের নিজস্ব আম-লিচু-তরমুজ তো রইলই, তবে স্বাদ বদলাতে খেয়ে দেখতে পারেন ভিন্ন স্বাদের এই ৪ রকম ফল (uncommon fruits)। এক্সোটিক নয়, একান্ত স্বদেশেই এদের জন্ম। এককালে প্রায়শই দেখতে মিলত গৃহস্থের বাগানে।
তবে বর্তমানে সংকীর্ণ হয়েছে মধ্যবিত্তের আবাস। একচিলতে ফ্ল্যাটবাড়িতে মনের মতো গাছ পুঁতবেন, এমন স্বেচ্ছাচারিতা করার সুযোগ কই? যদিও মন লাগিয়ে খুঁজলে এই ফল পাওয়া যেতে পারে কোনও ফলের দোকানে। তেমন পরিচিত না হলেও, খাদ্যগুণে কম যায় না এরাও!
আরও পড়ুন:
রামফল
হঠাৎ দেখলে হৃষ্টপুষ্ট টম্যাটো বলে ভুল হতে পারে! তবে আসলে কিন্তু এই ফল আতারই দূর সম্পর্কের আত্মীয়! পুরুষ্টু খোসা ছাড়িয়ে ফেললে ভিতরে দেখা যায় সাদা শাঁস। আর স্বাদ যেন অমৃতের সমান। এ যেন প্রকৃতির নিজস্ব কুলফি! অনেকেই মনে করেন, রামফলের শাঁসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে, স্বর্গসুখ পাওয়া যায়। এই ফলের নাম শুনে প্রশ্ন জাগলে মনে করতে হবে, আতার ভালো নাম কিন্তু সীতাফল!

করমচা
এই একরত্তি লাল-সাদা ফল মুখে দিলে, টক-মিষ্টি স্বাদে চোখ বুজে আসে। শুষ্ক গরম আবহাওয়ায় সহজে বাড়তে পারে এই ফলের গাছ। আচার হিসেবে স্বাদু লাগে তো বটেই, তবে এক্কেবারে বাড়তি আয়োজন ছাড়া, কেবল নুনের সঙ্গেও করমচা সুপারহিট! এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ভিটামিন সি। এককালে হামেশা দেখতে পাওয়া গেলেও আজকাল আর সচরাচর চোখে পড়ে না এই গাছ।
লাসোদা বা গুন্ডি
অনেকে আবার ইন্ডিয়ান চেরিও বলেন এই ফলকে। এক এক থোকায় অনেকগুলো খুদে ফল। একনজরে ডুমুর বলেও ভুল হতে পারে। বাংলার চাইতে রাজস্থানেই বেশিরভাগ দেখতে পাওয়া যায় এই ফল। অসামান্য স্বাদের আচার তৈরি করা যায় লাসোদা দিয়ে। কেউ আবার তরকারিতেও ব্যবহার করেন। প্রভূত পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে এই ফলে। শরীরের প্রদাহ এবং শ্বাসকষ্ট কমায় এই ফল।
ফলসা
মফঃস্বলে আজও ফলসা দেখতে পাওয়া যায় গ্রীষ্মকালে। আম-লিচু-তরমুজের মতো জনপ্রিয় না হলেও, গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা করে ফলসা। তাই শরবত তৈরিতেও ব্যবহার করেন অনেকেই। এই ফলেও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অভাব নেই। সাহায্য করে হজমেও।
স্বল্প-পরিচিত বলেই আপনমনে বেড়ে ওঠে এই সমস্ত ফলের গাছ। এদের চাষে কীটনাশক ব্যবহার হয় না সাধারণত। ফলে খাদ্যগুণ রয়ে যায় একেবারে অক্ষুণ্ণ। তাছাড়া বাজারে যারা এই সমস্ত ফল বিক্রি করেন, তাদের থেকে কিনলে স্থানীয় বাণিজ্যকে সমর্থন করার সুযোগও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
একবার ভিজলেই দফারফা! বর্ষায় চামড়ার জুতোর যত্ন নেবেন কীভাবে?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জার মুখে টিম ইন্ডিয়া, সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে সুযোগ পাবে বৈভব?
-
এবার কলকাতার রাস্তা হকারমুক্ত হবে? বড় ইঙ্গিত দিলীপ ঘোষের
-
এক সপ্তাহের ডেডলাইন! জবরদখল হঠাতে শিয়ালদহ ও সুকান্ত সেতুতে নোটিস পুরসভার
-
জগন্নাথের মতোই স্নানযাত্রা কালীঘাটেও, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় মিলল শাক্ত-বৈষ্ণব ধারা