মারকাটারি অ্যাকশন, মেজাজে থ্রিলার, আন্ডার ওয়ার্ল্ড ডন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, এই সব মশালা মেশানো সিরিজ ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যেমন– ‘মির্জাপুর’, ‘সেক্রেড গেমস’, ‘খাকি’ বা ‘ফ্যামিলি ম্যান’। দর্শক আকর্ষণের জন্য আইটেম সংয়ের ‘অনুপ্রবেশ’ও দেখা গিয়েছে। এবং সেই সঙ্গে অধিকাংশ সিরিজের সমাপ্তি ঘটেছে এক পজিটিভ পথে। কিন্তু জি ফাইভে চলতি সিরিজ ‘তারকাটা’তে আমরা কী দেখলাম? অগ্নি (বিক্রম) নামের এক পুলিশ অফিসার তাঁর সার্ভিস রুলের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে কানিপুর নামের এক আধা শহর আধা গ্রামে অশোক চৌধুরি নামের এক দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ী এবং তার সাগরেদ ডোডো (মেয়াং চ্যাং) নামের আর এক ভদ্রবেশী শয়তানের ড্রাগ পাচার, নারীপাচার ইত্যাদি কাজের বিরুদ্ধে প্রায় একক লড়াই চালিয়ে গেল।
নায়িকা ‘নার্স ছন্দা’র চরিত্রে আছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। তার সঙ্গে অগ্নির সম্পর্কটা মোটেই তারকাটা নয়, বরং তার-জোড়ার। কিন্তু সিরিজের শেষ মুহূর্তে ছন্দার সঙ্গে ভিলেন ডোডোর যে সংলাপ বিনিময় হয়,…।
আরও পড়ুন:
সাত এপিসোডের মধ্যে ছয় এপিসোডেই গুলি-বন্দুকের লড়াই আর মুহুর্মুহু অ্যাকশন। সঙ্গী বলতে তরুণ অফিসার বুম্বা (সত্যম) তার মধ্যেই শুধু রয়েছে স্বাভাবিক চিন্তা, বিবেক ও মানবিকবোধ, যদিও শেষ পর্যন্ত তার পরিণতিও করুণ। প্রকৃতপক্ষে অগ্নির মাথায় গন্ডগোল। ‘তারকাটা’ তারই নাম, বাবা-মা হারা অগ্নি প্রিয় ছোট ভাইকে নিয়ে থাকে। কিন্তু একদিন সেই ভাই ডোডো কূটকৌশলের ফাঁদে পড়ে খুন হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই অগ্নি পরক্ষণে তারকাটা হয়ে ওঠে। এবার প্রতিশোধ, পালটা প্রতিশোধের পালা। দু’পক্ষই অ্যাকশন-বাজিতে কম যায় না। সুতরাং শমীক রায়চৌধুরির পরিচালনায় এবং প্রসেনজিৎ কোলের ক্যামেরায় তারকাটারূপী বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ‘অগ্নীশ্বর’ হয়ে ওঠেন! অগ্নির মস্তিষ্কে কখন যে ক’টা তার কাটে আবার কখন যে জুড়ে যায়, সেটা বোঝা মুশকিল। মুখে একটি ‘বড়ি’ গুঁজেই ‘তারকাটা’ অবতারে ধরা দেয় অগ্নি। এদিকে নায়িকা ‘নার্স ছন্দা’র চরিত্রে আছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। তার সঙ্গে অগ্নির সম্পর্কটা মোটেই তারকাটা নয়, বরং তার-জোড়ার। কিন্তু সিরিজের শেষ মুহূর্তে ছন্দার সঙ্গে ভিলেন ডোডোর যে সংলাপ বিনিময় হয়, তাতে সিরিজের দ্বিতীয়পর্ব হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন প্রযোজক-নায়ক বিক্রম চট্টোপাধ্যায়।
অভিনেতা বিক্রম ‘তারকাটা’ চরিত্রের অস্থির মানসিকতা অভিনয়ে ভালোই ফুটিয়ে তুলেছেন। আর তাঁর পেশীবহুল শরীরও অ্যাকশনের জন্য উপযুক্ত। তবে অবাক কাণ্ড! মুম্বইয়ের মেয়ং চ্যাং বাংলাটা মন্দ বলেননি।
অভিনেতা বিক্রম ‘তারকাটা’ চরিত্রের অস্থির মানসিকতা অভিনয়ে ভালোই ফুটিয়ে তুলেছেন। আর তাঁর পেশীবহুল শরীরও অ্যাকশনের জন্য উপযুক্ত। তবে অবাক কাণ্ড! মুম্বইয়ের মেয়ং চ্যাং বাংলাটা মন্দ বলেননি। উকিলের চরিত্রে দেবেশ রায়চৌধুরি, অশোক চৌধুরির ভূমিকায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের তেমন কিছু করণীয় ছিল না। তবে অগ্নির সহকারী পুলিশ বুম্বার চরিত্রে সত্যম ভট্টাচার্য বেশ স্বাভাবিক অভিনয় করেছেন। ভালো লাগে থিম সংয়ের মতো ব্যবহার করা সৌমিত দেবের লেখা ও কুশল চক্রবর্তীর গাওয়া ‘রোল করে দে না ভেসে যাই’ গানটা। পরিচালক শমীকের কাছে একটাই অনুরোধ, পরের সিজন হলে ‘তারকাটা’ চরিত্রের পাশে ‘তারভালো’ চরিত্রও যেন একটা থাকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রথমবার নেহরু টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, হকিতে ভারত জয় পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের
-
হকার উচ্ছেদ ঘিরে কৃষ্ণনগর স্টেশনে ধুন্ধুমার! পুলিশের সঙ্গে বচসা, হাতাহাতি সিটু, এসইউসিআই কর্মীদের
-
‘ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে’, জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের সামনেই নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে উষ্মা মোদির
-
সরকারি কাজেই আধারের অপব্যবহার? এবার কেন্দ্র ও UIDAI-কে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
-
ভাঙছে আরও একটি পুর বোর্ড! ইস্তফা দিলেন দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান