Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
Bhaggyolokkhi Review

থ্রিলার, স্যাটায়ারের সঙ্গে আবেগের সহাবস্থান, ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’ কেন অনন্য? পড়ুন রিভিউ

বাংলা সিনেমায় ভিন্ন স্বাদ দিলেন মৈনাক ভৌমিক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২৫, ১৮:৪৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২৫, ১৮:৪৩

options
link
থ্রিলার, স্যাটায়ারের সঙ্গে আবেগের সহাবস্থান, ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’ কেন অনন্য? পড়ুন রিভিউ zoom
Advertisement

বিদিশা চট্টোপাধ্যায়: অনেকদিন পর বাংলায় একটা ছবি দেখে ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে বেরিয়ে এলাম। মৈনাক ভৌমিক পরিচালিত ছবি ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’। স্যাটায়ারিকাল থ্রিলার ঘরানার ছবি সফলভাবে বানানো খুব সহজ নয়। তাছাড়া বাংলায় এই ঘরানার ছবি খুব একটা হয় না। হিন্দিতে আমরা শ্রীরাম রাঘবনের ‘অন্ধাধুন’ কিংবা ‘মেরি ক্রিসমাস’ দেখেছি। ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’ এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও বিরাজ করে। কারণ থ্রিলার, কমেডি আর স্যাটায়ারের সঙ্গে ইমোশনের সহাবস্থান। এই সব কিছুকে মাপ মতো বেঁধে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এই ছবিতে।

এক মধ্যবিত্ত দম্পতির (অভিনয়ে ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং শোলাঙ্কি রায়) খুব সাধারণ জীবন। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায়নি দুজনের কেউই। কাবেরীর স্কুলের চাকরি গিয়েছে। সত্যর সাংবাদিকের চাকরি নড়বড়ে। কারণ ডিজিটাল মিডিয়ার আগ্রাসনে প্রিন্ট মিডিয়া ব্যাকসিটে। লাইফস্টাইলে, বন্ধুর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারা– কাবেরী ও সত্যর মধ্যে খিটিমিটি লেগে থাকে সারাক্ষণ। কিন্তু এই ঝগড়ার মধ্যেই রয়েছে এক সুপ্ত বোঝাপড়া। দুজনেই জানে নিজেদের অবস্থা, দুজনেই জানে তারা নিরুপায়। চিত্রনাট্য, সংলাপ এবং ঋত্বিক-শোলাঙ্কির অভিনয় এই বোঝাপড়া এত সুন্দর তুলে ধরেছে, যে সেটাই এই ছবির মূল আবেগ হয়ে দাঁড়ায়। থ্রিলার , মার্ডার, গ্যাং ওয়ারের মধ্যে এই ছবি যে প্রেমেরও সেটা খুব সূক্ষ্মভাবে মৈনাক চিত্রনাট্যে বুনে দিয়েছেন। ‘ভাগ্যলক্ষী’ ছবির মজা এটাই।

Advertisement

Bhaggyolokkhi-inside

গল্প শুরু হয় যখন সত্য এবং কাবেরীর ফ্ল্যাটে, পুরোনো এক বন্ধু এসে ড্রাগ ওভারডোজে মারা যায় এবং তার স্যুটকেস থেকে বেরয় দশ কোটি টাকা। এত টাকা নিয়ে কী করবে তারা? এদিকে কাগজের চাকরিও হারিয়েছে সত্য। হাতের লক্ষ্মী কী করে ফেরায়! অর্থই অনর্থ ডেকে আনে। পুলিশ, আন্ডারওয়ার্ল্ড, সুপারি কিলার, মন্ত্রী সকলেই মাঠে নেমে পড়ে। এই জট খুলবে কী করে? সেটা ছবির একটা টান। অন্যদিকে চিত্রনাট্য জুড়ে সংলাপ এবং দুরন্ত অভিনয়ের যুগলবন্দীতে এমন নানা মুহূর্ত তৈরি হয়, যা আমাদের জীবন, আমাদের কর্মক্ষেত্র, আমাদের সমাজ থেকেই নেওয়া। এই প্রতিবেদন লেখার সময় আমি জানি, এখন আর মানুষ লেখা পড়তে নয়, রিল দেখতে ভালোবাসে। সত্যর ক্রাইসিস কোথাও গিয়ে আমার ক্রাইসিস। কাবেরী জানে তার বন্ধুর সঙ্গে ডিনারে যাওয়া মানেই তাদের বিদেশ ট্যুর, দামী গাড়ির গল্প শুনতে হবে। আমাদেরও সবারই এমন দু-চার জন বন্ধু থাকে, যাদের সঙ্গে দেখা করে আসার পর বাড়ি ফিরে অশান্তি হবেই হবে। মন্ত্রীর হেরোইন কেলেঙ্কারি, ঘুষখোর পুলিশ আমাদের নিজেদের সময়ের কথা মনে করায়। তবে সূক্ষ্ম স্যাটায়ারে মোড়া ছবি দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই হেসে উঠবেন, মনে মনে সম্মতি জানাবেন। একাত্ম হতে পারবেন গল্পের সঙ্গে।

Ritwick Chakraborty, Solanki Roy starer Bhaggyolokkhi Trailer grabs attention

রক্তপাতের মধ্যেই হাস্যরস। ভয় পেতে পেতে সাহসী হয়ে ওঠা। হেরে যেতে-যেতে জিতে যাওয়া। প্রেমে সিরিয়াল কিলারের পা পিছলে গিয়ে শিওর শট ক্যাচ মিস করা। একেবারে ক্লিন আউট হয়ে যাওয়া সত্য ও কাবেরীর বেনিফিট অফ ডাউটে প্রাণ ফিরে পাওয়া। কোয়েন ব্রাদার স্টাইলে মৈনাক তার চিত্রনাট্যে ক্রমাগত উলট-পালট করেছেন। স্যাভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, শুভদীপ নস্করের ক্যামেরার সঙ্গে অনুপম রায়ের কথা ও সুরে গানগুলি অপূর্ব কনট্রাস্ট তৈরি করেছে। ঋত্বিক চক্রবর্তীর ‘সত্য’ এই ছবির প্রাণ। শোলাঙ্কির কাবেরী খুব সুন্দর ভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছে সত্যর পাশে। খুনোখুনি, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়, টেনশনের মধ্যে একটা চা করে দেওয়ার দৃশ্য- এই সব কিছু থেকে দুজনকে অনেক দূরে নিয়ে চলে যায়। ঘোর বিপদের মধ্যে চায়ের প্রশংসা শুনে কাবেরী বলে, ‘কখনও তো বলোনি আগে?’ বলতে গিয়ে গলা কেঁপে যায়। সত্য বুঝতে পেরে বলে, ‘বলিনি তো কি হয়েছে, এই তো বললাম।’ আসলে আমাদের কাছে- চা ভালো হয়েছে মানে, তোমাকে ভালোবাসি বলা। আমরাও তো তাই করি। দূরত্বের প্রলেপ গাঢ় হয়ে গেলে, কাছের মানুষকে ভালোবাসি বলতে না পারলে, বলি- চা ভালো হয়েছে , শাড়িটা পরে সুন্দর দেখাচ্ছে। আমরা যখন ভেতরে ভেতরে খুব নরম আর নড়বড়ে হয়ে থাকি আর বাইরে তখন খুব স্মার্ট আর শক্ত হয়ে ওঠার ব্যর্থ চেষ্টা করি। আর এই একটা দৃশ্যে এই গোটা বিষয়টা কী অব্যর্থভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ঋত্বিক এবং শোলাঙ্কি।

Swastika-Bhaggyolokkhi

গোটা ছবি জুড়ে ‘সত্য’র ভালনারেবিলিটি ঋত্বিক নিপুণভাবে নানান তারে বেঁধেছেন। ভালো লেগেছে সুজন মুখোপাধ্যায় অভিনীত অভিজিৎ ঘোষকে। সৎ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে তিনি এক ডুয়ালিটি তৈরি করেছেন। সুপারি কিলার লাল-নীলের চরিত্রে দেবপ্রিয় এবং যুধাজিৎ দারুন চমক যোগ করেছেন। সিরিয়াল অভিনেত্রী গার্গীর চরিত্রে খুব স্বল্প সময়ে স্বস্তিকা দত্ত আবার নিজেকে প্রমাণ করলেন। এবার ক্যামিও নয়, কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁকে আশা করব। ফ্যামিলি ড্রামা, গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজি, ইস্যু নিয়ে ঘোরতর ছবি কিংবা চার দেওয়ালের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া বাংলা কন্টেন্টের দর্শকের, ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’ নিঃসন্দেহে হাওয়া পরিবর্তন।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.