মানুষ জন্ম থেকেই বেঁচে থাকার যে যুদ্ধ করে, তার থেকে কি আদৌ কোনওদিন মুক্তি মেলে? না কি সারাজীবন একটু সুস্থ, স্বাভাবিক বাঁচবে বলে, যে লড়াইটা শুরু করে, তা ভেতরের শেষ সম্বলটুকু নিংড়ে নিয়ে তবে ক্ষান্ত দেয়? সকলেই তো আর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে জন্মায় না! নিজেদের জীবনটা তারা নিজেরাই বয়ে নিয়ে যায় কাঁধে করে। কলকাতার মতো এত্ত বড় একটা শহর। যেখানে হরদিন শহরতলি, গ্রাম, এমনকী, ভিনরাজ্য থেকেও মানুষ আসছে খেটে খাওয়ার আশায়– সেখানে কিছু না কিছু করে জীবন চালানোর উপায় জোগাড় হয়ে যায় ঠিকই।
কোনওদিন অল্প স্বাচ্ছন্দ্য আসবে, সেই আশায় দিন গোনে তারক (সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়), গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষা করে থাকা তার বারো বছরের মেয়ে ঝিমলি (স্বস্তিদীপা রবিদাস), ইকবাল (ইশান মজুমদার)। আর একঘেয়ে জীবনে আশার ফিকে আলো খোঁজে পারমিতা (শতাক্ষী নন্দী) ও শেফালি (মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায় রায়)।
আরও পড়ুন:
এদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব যাপন যন্ত্রের মতো আবর্তিত হয়ে চলে কেবল বেঁচে থাকার তাগিদে। রুদ্রজিৎ রায়ের প্রথম ছবি ‘পিঞ্জর’ (Pinjar Movie Review) সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের খাঁচা-বন্দি জীবনের গল্প বলতে চায়। যে জীবন সমাজ, পরিচয়, ধর্মের খাঁচার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মাথার ভিতরেও কোথাও আটকা পড়ে গিয়েছে। ‘পিঞ্জর’ এমন এক ছবি যা মূল চরিত্রগুলির অদৃশ্য মানসিক কারাগারকে অন্বেষণ করতে বন্দি পাখির রূপক ব্যবহার করে। কীভাবে দারিদ্র, শোক এবং পিতৃতান্ত্রিক প্রত্যাশা এই মূল পাঁচটি চরিত্রকে সীমাবদ্ধ করে রাখে তারই গল্প বলে অবিরাম।

লেখক রাহুল রায়, খুবই নৈপুণ্যের সঙ্গে তারক আর তার মেয়ের গল্প বুনেছেন। এমনকী, খাঁচাবন্দি করে বন্য পাখিকে শহরে নিয়ে এসে ইকবালকে দিয়ে শহরে বেচার কারবারও তারকেরই হাতে। যে মুক্ত পাখিকে খাঁচাবন্দি করে রোজ, সে তার নিজের জীবন তো বটেই, মা-মরা লেখাপড়া শিখতে চাওয়া মেয়ে ঝিমলির জীবনটাও পিতৃতন্ত্রে মোড়া সামাজিক খাঁচাতেই পুরে রাখতে চায়।
বিহার থেকে কলকাতায় আসা ইকবাল, শহরে পাখির ব্যবসা করে দিনযাপন করে। বেআইনি হলেও শহরের বুকে বেজায় বড় পশু-পাখি কেনা- বেচার কারবারে বাধ সাধে না কেউ, কিন্তু ধর্মে মুসলমান বলে এই বিশাল শহরে বউকে সঙ্গে নিয়ে থাকার মতো একটা ঘর ভাড়া পায় না সে। শহুরে চাকুরিরতা শেফালি বরের (জয় সেনগুপ্ত) অত্যাচার সহ্য করেও সংসার কামড়ে পড়ে থাকে আর পাড়াগাঁয়ের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা পারমিতা কম বয়েসে বিধবা হয়েও সামাজিক আচারে আবদ্ধ।

সরল গল্প বলার ধরনে এদের প্রত্যেকের লড়াই স্বকীয়তা পেয়েছে যা এই ছবির জোরালো দিক। সেই সঙ্গে মাপা অভিনয় কোনও চরিত্রকেই আলগা হতে দেয়নি। বিশেষ করে সাগ্নিক ও মল্লিকা তাঁদের জীবন যন্ত্রণার অভিব্যক্তি খুব ভালো ফুটিয়ে তুলেছেন। শতাক্ষী ও ইকবালের চরিত্র অন্য দুজনের তুলনায় ছোট হলেও অভিনয়ে তাঁরা যথেষ্ট সাবলীল।ভালো মানিয়েছে স্বস্তিদীপাকেও। একটি ছোট চরিত্রে মমতাশঙ্কর স্বচ্ছন্দ।

গ্রামীণ চরিত্রে স্বল্প পরিসরে সামিউল আলম চোখে পড়ে। রাতুল শঙ্করের মিউজিক মানানসই। মানস ভট্টাচার্যর চিত্রগ্রহণে কলকাতার ব্যস্ততা আর গ্রামের নিরিবিলির বৈপরীত্য দেখতে ভালো লাগে। তবে এই ছবির দৈর্ঘ্য অনেকটাই কমানো যেত। খুব ঘটনাবহুল ছবি নয়, মাঝখানে দর্শকের একঘেয়ে লাগতে পারে। বাজার থেকে একটা টিয়া কিনেছিল শেফালি। রোজ তাকে সে শেখাত, ‘কেমন আছ তুমি? বলো, কেমন আছ?’ সে পাখির মুখে বুলি ফোটেনি। কিন্তু ছবির চরিত্রগুলি বুঝি উত্তর দিল, যে তারা ভালো নেই। শেষ অবধি ভালো থাকার পথের সন্ধান তারা পেল কি?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নকল ভোটার ও রেশন কার্ডে ভারতে বাস! কর্নাটক থেকে গ্রেপ্তার পাকিস্তানি মা-ছেলে
-
তুলতে গিয়েছিলেন ৩ হাজার টাকা! অ্যাকাউন্টে ৭৬০ কোটি দেখে চক্ষু চড়কগাছ বধূর, তারপর…
-
‘অজ্ঞাত’ কারণে পিছিয়ে গেল সিএবি যুগ্মসচিব নির্বাচন, কবে ‘ব্যাখ্যা’ দেবেন সভাপতি সৌরভ?
-
জোর করে শৌচালয়ে ঢুকে মহিলাকে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন! গ্রেপ্তার ডেলিভারি বয়
-
মন্দারমণিতে সানি লিওন! ‘বেবি ডলে’র ছবি দেখে তোলপাড় নেটদুনিয়া